রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার মিথ্যাচার করছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ | ৪ আষাঢ় ১৪২৬

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার মিথ্যাচার করছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পরিবর্তন প্রতিবেদক  ৪:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০১৯

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার মিথ্যাচার করছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার মিথ্যাচার করছে। তারা বলছে, বাংলাদেশের কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দেরি হচ্ছে। কিন্তু রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে এক পায়ে খাড়া বাংলাদেশ।

বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে বার বার আশ্বাস দিলেও কথা রাখছে না মিয়ানমার। ছয় মাস আগে তারা ব্রিফিং করে বলেছিল, সব ঠিকঠাক করে দেবে। কিন্তু গত মাসের বৈঠকে দেখা গেলো, নতুন কোনও অগ্রগতি হয়নি। এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গা, এমনকি নো-ম্যানস ল্যান্ডে যারা আছেন তারাও ফেরত যায়নি। তাদের এমন ডাহা মিথ্যা কথা কতক্ষণ সহ্য করা যায়?’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি মিয়ানমারের মন্ত্রী জাপানে ফিউচার অব এশিয়া ইভেন্টে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা যাচ্ছে না, এর জন্য দায়ী তারাই।’ কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে, মিয়ানমার বার বার কথা দিয়েও কথা রাখছে না।

আব্দুল মোমেন বলেন, রাখাইনের ৮০০ গ্রামের মধ্যে দুটো গ্রামের ওপর স্টাডি করা হয়েছে। সেটিও মিয়ানমার করিয়েছে আফিয়ানের মাধ্যমে। মাত্র দুটি গ্রামের ওপরে স্টাডি করে তারা বলছে, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সব ব্যবস্থা খুব ভালো করেছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মিয়ানমার কথা রাখেনি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে বিশাল সংখ্যক রোহিঙ্গা যদি পড়ে থাকে তাহলে উগ্রবাদের জন্ম হতে পারে।

চীনের বিষয় আব্দুল মোমেন বলেন, সামনের মাসে প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে যাবেন। সেখানে রোহিঙ্গা ইস্যু বড় করে তুলে ধরা হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন বলেন, মিয়ানমারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ, যাতে তারা (মিয়ানমার) রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করে।

এ ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, তারা (বিদেশি কূটনীতিক) আমাদেরকে বলেছেন যে, তারা আমাদের সাথে আছেন। আমরা তাদেরকে বলেছি, মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ বৃদ্ধি করুন, যাতে তারা সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং প্রায় সবাই এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন।

বাংলাদেশ বর্তমানে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্যাতনে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

ব্রিফিংয়ে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, চীন, ভারত, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, ব্রাজিল, ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন দেশের মিশনের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

এ ছাড়া জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি অংশ নেন।

ওএস/এসবি