খালেদার সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবায় সরকার, অপরাজনীতিতে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা, রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯ | ২ আষাঢ় ১৪২৬

খালেদার সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবায় সরকার, অপরাজনীতিতে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৪:৫১ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০১৯

খালেদার সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবায় সরকার, অপরাজনীতিতে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘সরকার বেগম খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে আসছে, আর বিএনপি এ নিয়ে অপরাজনীতি করে চলেছে।’

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদ’ শীর্ষক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের শুরুতে সমকালীন রাজনীতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

‘সরকার বেগম জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে’ বিএনপির এ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ড. হাছান বলেন, ‘সরকার তার সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিতে সবসময় সচেষ্ট। কিন্তু বিএনপি নেতারা যেভাবে বলছেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন সংকটাপন্ন। বেগম জিয়া সেটা জানতে পারলে নিশ্চয়ই উষ্মা প্রকাশ করবেন যে, তোমরা আমাকে মেরে ফেলছ কেন? বিএনপি নেতাদের বলবো বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে অপরাজনীতি না করতে।’

এসময় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আজহারুল হক সভায় উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যখন পুরনো ঢাকার কারাগারে ছিলেন তখন তার জন্য সার্বক্ষণিক একজন নার্স, একজন ফিজিওথেরাপিস্ট এবং একজন ডাক্তার ছিলেন তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য। এছাড়াও তার পছন্দের গৃহপরিচারিকাও সাথে ছিলেন, যা উপমহাদেশে অন্য কারো জন্য হয়েছে কি না আমার জানা নেই। এছাড়াও তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকগণ সময়ে সময়ে তার সাথে দেখা করে তাকে চিকিৎসা দিচ্ছেন।’

‘বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক যেসব সমস্যার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো পুরাতন সমস্যা’ উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘তার হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয়েছে আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে। এসব সমস্যা নিয়েই তিনি দু’বার দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন, বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির মতো একটি বড় দলের তিনি চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সমস্যাগুলো মাঝে মধ্যে বাড়ে-কমে। সুতরাং এগুলো নতুন কোনো সমস্যা না। এছাড়া ক’দিন আগে তার জিহ্বা কামড় লেগে একটু ঘা হয়েছিল, তিনি স্বাভাবিকভাবে খেতে পারছিলেন না। এমন মাঝে মধ্যে আমাদেরও হয়। তার সেই সমস্যাও কেটে গেছে।’

গণতন্ত্রের জন্য ড. কামাল হোসেন আহুত বিরোধীদলীয় ঐক্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন যে ঐক্য ফ্রন্ট করেছিলেন, সেই ঐক্য ফ্রন্টেইতো ঐক্য নেই। অনেকেই বেরিয়ে গেছেন। নিজেদের ঐক্যইতো ধরে রাখতে পারেন নাই। উনি শুধু বলতেই পারবেন, এর বেশি কিছু করতে পারবেন বলে মনে হয় না।’

এসময় সংবাদপত্র পরিষদ নেতারা সংবাদপত্র শিল্পের উন্নয়নে তথ্যমন্ত্রী ও তথ্য প্রতিমন্ত্রীর সাথে খোলামেলা আলোচনায় অংশ নেন।

সরকার সম্প্রচার আইন প্রণয়ন নিয়েও একাগ্রভাবে কাজ করছে বলেও তথ্যমন্ত্রী এসময় জানান।

সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি শাহজালাল, সাধারণ সম্পাদক এমজি কিবরিয়া চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. শাহজাহান আলী, রফিক উল্লাহ সিকদার, যুগ্ম সম্পাদক, শেখ মঞ্জুর বারী মঞ্জু, সদস্য মো. তাজুল ইসলাম, নীতিশ সাহা, এমএ জলিল, কাজী আনোয়ার কামাল, মাছুদউর-রহমান মিলু, শহিদুল ইসলাম, সুজিত কুমার দাশ, নেজামুল হক, মাহমুদুর রহমান, মো. আনোয়ার হোসেন, এবি এম সেলিম আহমেদ, এমএইচ মোতালেব খান, একেএমএ মোস্তাক, মো. মিন্নাত হোসেন, বকসি ইকবাল মজিদ ও চৌধুরী আতাউর রহমান প্রমুখ সভায় যোগ দেন।

এসএস/ এইচআর