এফআর টাওয়ারের ৭টি ফ্লোর অবৈধ

ঢাকা, ১৫ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

এফআর টাওয়ারের ৭টি ফ্লোর অবৈধ

সচিবালয় প্রতিবেদক ১:৫৫ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০১৯

এফআর টাওয়ারের ৭টি ফ্লোর অবৈধ

সম্প্রতি আগুনে পুড়ে ক্ষতি হওয়া বনানীর এফ আর টাওয়ারের ১৫ তলা থেকে ২২ তলা পর্যন্ত পুরো অংশ অবৈধ। ১৫ তলা থেকে ১৮ তলা পর্যন্ত নির্মাণে তৎকালীন ইমারত নির্মাণ নীতিমালা মানা হয়নি। সেখানে বিদ্যমান আইনের স্পস্ট লঙ্ঘন হয়েছে। ১৮ তলা থেকে ২২ তলা পর্যন্ত সবগুলো ফ্লোর সম্পূর্ণরুপে অবৈধ। এখানে আইনগত ভিত্তি নেই। 

বুধবার সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দুটি তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদন উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়র দায়িত্বে মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা তদন্ত কমিটিকে বলেছিলাম তারা তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে একটি সুপারিশগুলো প্রদান করতে। তারা একটি সুপারিশমালা প্রদান করেছেন। তাদের উল্লেখযোগ্য পর্যালোচনা ছিল ভবনটির শুরুর ১৫ তলার অনুমোদন ছিল সঙ্গত।

এরপর ১৮ তলা পর্যন্ত একটি পরিকল্পনা এপ্রুভ করা হয় সেটা সঙ্গত ছিল না। অর্থাৎ তৎকালীন সময়ে ভবন নির্মাণ যে বিধি ছিল তার আওতায় তা দেওয়া হয়নি। ১৮ তলার অনুমোদন আবেদনকালীন সময়ের ভবন নির্মাণ বিধি অনুযায়ী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অথচ অনুমোদন যখন দেওয়া হয় তখনকার বিদ্যমান আইন ফলো করার কথা ছিল। সেটা করা হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে এসেছে এফ আর টাওয়ারের ডেভেলপার কোম্পানি (রুপায়ন) একটি এপ্রুভ কপি দেখায়, রাজউকে যার কোনো অস্তিত্ব নেই। ওই বর্ধিত অংশ নির্মাণের জন্য ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার নিয়ম আছে। কিন্তু তা না করে ভুয়া একটি রিসিটের নম্বর রাজউকের রেজিষ্টারে সংযুক্ত করা হয়।

রাজউকের কাছে যে নথি, সেখানেও কোনো অনুমোদনের কপি নেই। ফলে তৎকালীন সময়ে রাজউকের কোনো অসাধু কর্মচারী কর্মকর্তার সঙ্গে অবৈধ যোগাযোগের মধ্য দিয়ে বিল্ডিংয়ের মালিক ও ডেভেলপাররা একটি প্লান তৈরি করতে পারে। কিন্ত আইনগতভাবে এ প্লানের কোনো বৈধতা নেই।

তিনি জানান, এভাবে প্রতিটি স্তরে কী কী অনিয়ম হয়েছে এর সঙ্গে মালিক, ডেভেলপার বা এবং রাজউকের তৎকালীন যারা কর্মকর্তা কর্মচারী ছিলেন তাদের সম্পৃক্ততা কীভাবে রয়েছে সেটা আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। এখানে কী কী নিয়মের লঙ্ঘন হয়েছে সেটাও আমরা দেখার চেষ্টা করেছি।

একাজে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। সে সময়ে যারা রাজউকে কর্মরত থেকে এ অপরাধ করেছেন তারা হয়তো এখন অন্য মন্ত্রণালয়ে যুক্ত আছেন। আমরা এ বিষয়ে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা নিয়ে অনুরোধ করবো। যারা অবসরে গেছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিব। সেসময় রাজউকের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে অন্যান্য দায়িত্বে যারা ছিলেন এবং লোন পাশসহ রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ পরোক্ষ যুক্ত থাকার অভিযোগ এসেছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। 

এসএস/এইচকে

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও