শান্তি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব না: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯ | ২ আষাঢ় ১৪২৬

শান্তি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব না: প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৯:০৯ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০১৯

শান্তি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব না: প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শান্তি ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব না। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস বিশ্বব্যাপী সমস্যা। এই সমস্যা বাংলাদেশেও ছিল। আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় আমরা জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস দমন করতে সক্ষম হয়েছি। সন্ত্রাস-মাদক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার গণভবনে পেশাজীবীদের সন্মানে তার দেওয়া ইফতার মাহফিলে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, একটি দেশের উন্নতি করতে হলে অবশ্যই শান্তি প্রয়োজন। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। এ জন্য দেশবাসীর কাছে আমি দোয়া চাই। সবার সহযোগিতা চাই। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি। আমরা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা শুরু করেছি, সেই ধারা অব্যাহত রাখব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর ও লাখো শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। 

তিনি বলেন, জাতির পিতা দেশটাকে স্বাধীন করে দিয়েছেন। তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার কাজ শুরু করলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় হাতে পেয়েছিলেন। যখন দেশটি অর্থনৈতিকভাবে গড়ে তুলছিলেন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকেরা জাতির পিতাকে হত্যা করে। আমরা দুই বোন দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যাই। সেই কালো রাতে আমরা হারিয়েছিলাম আমার মা-বাবা-ভাইসহ আত্মীয় স্বজন। আর বাঙালি জাতি হারিয়েছিল তাদের স্বপ্নদ্রষ্টাকে। উন্নত জীবনের সারথীকে। সেই দিন আমরা ঘাতকের জাতি হিসেবে পরিচিত পাই বিশ্বে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশবাসীর সহযোগিতা চাই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে গড়ে তুলতে চাই। জাতির পিতা যে স্বপ্ন নিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, সেই সুফল যেন ঘরে ঘরে পৌঁছাতে পারি। বাঙালি জাতিকে বিশ্বে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর রমজানে আমরা এক সঙ্গে হই। আমি সব সময় ঘুরে ঘুরে সবার সঙ্গে দেখা করি। কিন্তু আমি দুঃখ প্রকাশ করছি, ঘুরে ঘুরে কারও সঙ্গে দেখা করতে পারলাম না। কারণ ১৫-১৬ দিন হলো আমার চোখের অপারেশন হয়েছে।

এ সময় তিনি বলেন, কি করব? বয়স হয়েছে, চোখে ছানি পড়ে গেছে। বাইরে যেতে ডাক্তারের নিষেধ আছে। আজকে যারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন, সবাইকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র মাহে রমজানে দেশবাসী এবং বিদেশে বসবাসকারী বাঙালিদের মাহে রমজানের মোবারকবাদ জানাই। রমজান মাস দোয়া কবুলের মাস। সবাই বাংলাদেশের জন্য দোয়া করবেন।

এর আগে বিকাল ৬টা ২৬ মিনিটে তিনি ইফতার প্যান্ডেলের ভেতরে প্রবেশ করেন। প্রতি বছর প্যান্ডেল ঘুরে ঘুরে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেও এবার চোখের ছানি অপারেশনের কারণে তিনি তা করেননি।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপচার্য আখতারুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক তোয়াব খান, কৃষিবিদ ড. মির্জা আবদুল জলিল, এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে-আলম, ফুডবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাহ উদ্দিনসহ আরো কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও ইফতার মাহফিলে অংশ নেন প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আবদুল বাছেত মজুমদার, অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী, আইইবির সভাপতি প্রকৌশলী আবদুস সবুর, বিএফইউজের সভাপতি মোল্লা জালাল, মহাসচিব শাবান মাহমুদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল, বর্তমান উপচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, উপ-উপচার্য অধ্যাপক ডা. শহিদুল্লাহ সিকদার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য ড. মীজানুর রহমান, নাট্য ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, মামুনুর রশিদ, পীযুষ বন্দোপ্যাধ্যায়, চিত্রনায়ক ফেরদৌস, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ইকবাল আর্সনাল, স্বাচিপ নেতা অধ্যাপক ডা. আবদুল আজিজ এমপি, ব্যবসায়ী নেতা কাজী আকরাম প্রমুখ।

এসবি