আগের অবস্থায় ফিরছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন?

ঢাকা, সোমবার, ২০ মে ২০১৯ | ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

আগের অবস্থায় ফিরছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন?

মো. হুমায়ূন কবীর ১০:৪০ অপরাহ্ণ, মে ০৭, ২০১৯

আগের অবস্থায় ফিরছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন?

স্থানীয় সরকার নির্বাচন (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন) আবার নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত করা যায় কিনা এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে আলোচনা চলছে।

একদিকে দলগুলোর ভোট বর্জন, অন্যদিকে দলীয় প্রতীকে এসব নির্বাচন হওয়ায় সাধারণ মানুষও আগের মতো ভোটে অংশগ্রহণে আগ্রহ হারাচ্ছেন। যে কারণে এসব নির্বাচন তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে না বলে মনে করছেন ইসি কর্মকর্তা।

এরই মধ্যে বিএনপিসহ অধিকাংশ দলের ভোট বর্জনে এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন জৌলুসহীন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

এছাড়া, ৫ মে অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। সেখানে শুধু সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ভোট হয়। এতে ভোট পড়ে ৫৯.০১ শতাংশ।

ইসি সূত্র জানায়, দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্তের পর ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর পৌরসভা নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা; ২০১৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিচালনা ও ২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালায় সংশোধন আনে নির্বাচন কমিশন।

এরপর দেশে প্রথমবারের মতো ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

এরপর ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ থেকে দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে; ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর প্রথম বারের মতো দলীয় প্রতীকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরশনে ভোটগ্রহণ এবং চলতি বছরের ১০ মার্চ থেকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হয়। এখন শুধুমাত্র স্থানীয় সরকারের জেলা পরিষদ নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকারের এসব নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে ভোট শুরু হওয়ার পর থেকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এবার চার ধাপের উপজেলা ভোটে ৩০টি উপজেলায় কোনো ভোটই হয়নি। এসব উপজেলার তিন পদেই সবাই বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। যেখানে সংসদ নির্বাচনের চেয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি বেশি থাকে। সেখানে এসব নির্বাচনে ভোটারদের কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত পঞ্চম উপজেলা পরিষদের ভোটে প্রথম ধাপে ৪৩.৩২ শতাংশ; দ্বিতীয় ধাপে ৪১.২৫ শতাংশ; তৃতীয় ধাপে ৪১.৪১ শতাংশ ও চতুর্থ ধাপে ৩৬.৫০ শতাংশ ভোট পড়ে।

২০১৪ সালে সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গড়ে ৬১ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ২০০৯ সালে ভোটের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

অবশ্য একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৮০ শতাংশ ভোট। বিএনপি জোটের ভোট বর্জন করা দশম জাতীয় সংসদে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ১৪৭ আসনে ভোট হয়। তাতে ৪০.০৪ শতাংশ ভোট পড়েছিল। নবম সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮৭.১৩ শতাংশ।

সদ্যসমাপ্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনে মোট ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ৯ লাখ ৪২ হাজার ৫৩৯ জন। সেই হিসাবে ভোট পড়ার হার ৩১.০৫ শতাংশ।

এর আগে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছিল।

দলগতভাবে আলোচনা হচ্ছে যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো আবার নির্দিলীয় প্রতীকে করার জন্য।

এ ধরনের কোনো প্রস্তাবনা আপনাদের কাছে এসেছে কিনা? এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির আইন সংস্কার কমিটির সভাপতি ও নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম পরিবর্তন বলেন, আমিও গণমাধ্যম থেকে এ বিষয়ে জেনেছি। তবে আমাদের কাছে এ রকম কোনো প্রস্তাবনা আসেনি। দলীয়ভাবে এটা আলোচনা হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এটা যদি আইনে থাকে, তাহলে কিন্তু আইন পরিবর্তনেরও একটা ব্যাপার আছে।

তিনি বলেন, এখানে নির্বাচন কমিশনের কোনো ভূমিকা নেই যে, নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে, কি দলীয় প্রতীক হবে না। এটা সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাদের (স্থানীয় সরকার)। তারা (স্থানীয় সরকার) যেভাবে বলবে নির্বাচন কমিশন সেভাব নির্বাচন পরিচালনা করবে। কিন্তু যতক্ষণ না সিদ্ধান্ত আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এসব নির্বাচন এখন যেভাবে হচ্ছে সেভাবেই হবে।

এইচকে/এসবি