যে হারানোর সান্ত্বনা নেই

ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

যে হারানোর সান্ত্বনা নেই

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৯:৪০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০১৯

যে হারানোর সান্ত্বনা নেই

সিরিজ বোমা হামলায় স্তব্ধ শ্রীলঙ্কা। তাদের শোকে কাঁদছে গোটা বিশ্ব। কাঁদছে বাংলাদেশও। এই কান্না স্বজন হারানোর।

যে হারানোর কোনো সান্ত্বনা নেই! তাইতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কোনো ভাষা খুঁজে পেলেন না। ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিমকে সান্ত্বনা জানাতে গিয়ে নিজেই কেঁদে দিলেন।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, সন্ধ্যায়। তিন দিনের সরকারি সফর শেষে ব্রুনাই থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে এদিন দেশে আসেন প্রধানমন্ত্রী।

বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম। যিনি গত রোববার শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বোমা হামলায় মাত্র আট বছরের নাতি জায়ান চৌধুরীকে হারিয়েছেন।

ওই বোমা হামলায় মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়া ও ছোট নাতি জোহান বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হয়ে আইসিইউতে রয়েছেন জামাতা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স।

স্বজনদের ওপর এমন আঘাতে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমকে সান্ত্বনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে নেমেই তিনি শেখ সেলিমের দিকে এগিয়ে যান। কোনো কথা বলার আগেই ভাই-বোন একে অন্যের দিকে তাকিয়ে কেঁদে ফেলেন।

একাদশ সংসদের এমপি শেখ ফজলুল করিম সেলিম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আপন ফুপাতো ভাই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ সেলিমের কাছে নাতির লাশ কখন আসবে, জানাযা কখন আর জামাতার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন। পরে দুই ভাই-বোন হাত ধরে বিমানবন্দর থেকে বের হন।

উল্লেখ্য, দুই ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে শ্রীলঙ্কায় বেড়াতে গিয়ে পাঁচ তারকা হোটেলে উঠেছিলেন শেখ সেলিমের মেয়ে শেখ সোনিয়া। হামলার সময় হোটেলের নিচতলার রেস্তোরাঁয় সকালের নাস্তা করতে গিয়েছিলেন প্রিন্স ও তার বড় ছেলে জায়ান। বোমা হামলায় সেখানেই ছোট্ট জায়ান মারা যায়।

তবে, ছোট ছেলে জোহানকে নিয়ে শেখ সোনিয়া ওই সময় হোটেলের কক্ষে থাকায় বেঁচে গেছেন।

এর আগে গত রোববার সকাল পৌনে ৯টা থেকে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর তিন গির্জা, চারটি অভিজাত হোটেলসহ ৮টি স্থানে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ৩৮ বিদেশিসহ ৩২১ জন নিহত ও ৫ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

এসইউজে/আইএম

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও