জহিরুলের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯ | ১২ বৈশাখ ১৪২৬

জহিরুলের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৮:০৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০১৯

জহিরুলের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

‘ফ্যাসিও স্ক্যাপন্টো হিউম্যারাল মাসকুলার ডিসট্রোফি’ নামের বিরল রোগে আক্রান্ত ছাত্রলীগ নেতা জহিরুল ইসলামের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি তাকে অভয় দিয়ে বলেন, ‘তোমার পাশে আমি আছি, ভয়ের কোনো কারণ নেই। তোমার সার্বিক দায়িত্ব আমার।’

‘ফ্যাসিও স্ক্যাপন্টো হিউম্যারাল মাসকুলার ডিসট্রোফি’ রোগের সঙ্গে পরিচিত নয় বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা। দেশের কোথাও এটি চিহ্নিতও করা যায়নি।

প্রতিবেশী ভারতে গিয়ে চিহ্নিত করা গেলেও সেখানে চিকিৎসা নেই। এ রোগের চিকিৎসা একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব রোসেস্টার মেডিকেল সেন্টারের নিউরো মাসকুলার ডিজিজেস সেন্টারের ‘দ্য সেন্টার অব ফিল্ড ফ্যাসিও স্ক্যাপন্টো হিউম্যারাল মাসকুলার ডিসট্রোফি’ বিভাগে হয়ে থাকে।

এজন্য সেখানে যেতে ভারতীয় কয়েকজন চিকিৎসক ও যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক রাবি তাওয়ালাও পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী জীবন বাঁচানোর জন্য গত দুই বছর যাবৎ অন্তত ছয়বার ভিসা চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন জহিরুল।

এমনকি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সুপারিশেও তার ভিসা হয়নি।

এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছে ২৭ বছর বয়সী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জহিরুল ইসলামের। গত বুধবার রাত ১১টার পর গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কথা বলার সুযোগ পান তিনি।

এ সময় তার রোগের বর্ণনা ও পরপর ৬ বার যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি তুলে ধরেন জহিরুল। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ২০ মিনিট কথা বলেন তিনি।

জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমানের সোহাগের একান্ত প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছে। এর আগেও সোহাগ তার চিকিৎসার ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীসহ একাধিক স্থানে নিয়ে গেছেন।’

প্রসঙ্গত, ‘ফ্যাসিও স্ক্যাপন্টো হিউম্যারাল মাসকুলার ডিসট্রোফি’ রোগে প্রথমে রোগীর শরীর শুকাতে শুরু করে। পরে হাত-পা বেঁকে যায়। গিরায় গিরায় ব্যথা হয়। এরপর প্যারালাইসিস আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

এক পর্যায়ে মৃত্যু হয় এসব রোগীর। বর্তমানে জহিরুলের শরীরও শুকাতে শুকাতে এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে এখন হাড় ছাড়া আর কিছু নেই।

জহিরুল বলেন, কোনো জায়গায় বসলে উঠতে পারি না। রাতে ঘুমাতে গেলে সকালে বিছানা ছেড়ে উঠতে পারি না। প্রতিটি কাজ করতে হয় অন্যের সহযোগিতা নিয়ে। মা-বাবা কেউ নেই। এক বোন ছিল বিয়ে হয়ে গেছে। শুনছি সেও আমার মতো অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ঢাকার মুগদায় খালার বাসায় থেকে জীবন কাটছে আমার। অনেক জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছি কোনো লাভ হয়নি। বাংলাদেশে তো রোগই সনাক্ত করতে পারেনি। ভারতের ব্যাঙ্গালুরে গিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানতে পারি রোগের নাম।

জহিরুলের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ২নং পাথুর ইউনিয়নের বেরকোটা গ্রামে। চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার একটি কলেজে পড়ার সময় ছাত্রলীগের ভিপি ছিলেন তিনি।

এসইউজে/আইএম