সাগর-রুনির খুনি ধরা পড়বেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

সাগর-রুনির খুনি ধরা পড়বেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৭:১৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

সাগর-রুনির খুনি ধরা পড়বেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন নাহার রুনি হত্যার বিষয়ে আমরা প্রতিনিয়ত খোঁজ-খবর রাখছি। আশা করছি, দ্রুতই একটি সমাধানে পৌঁছতে পারব। তাদের খুনিরা ধরা পড়বেই।

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটের (ডিআরইউ) এক স্মারকলিপি নিয়ে তিনি একথা বলেন।

এর আগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন সাংবাদিকরা। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ফার্মগেটের পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি। দুখের বিষয় হত্যাকাণ্ডের ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও খুনিদের ধরা পড়া দূরে থাক, আজও সনাক্ত করায় সম্ভব হয়নি। বিচার প্রক্রিয়াও থমকে আছে।’

সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার বিচার এবং খুনিদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানান।

প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে র্যা লি নিয়ে সাংবাদিকরা সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে একটি স্মারকলিপি দেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, যেকোনো হত্যার বিচার পাওয়া নাগরিকের অধিকার। আর সেই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বড় বড় হত্যা রহস্য উন্মোচন ও অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করেছে। সাগর-রুনি হত্যার কোনো কূল-কিনারা তারা করতে পারবে না, এটা আমরা বিশ্বাস করি না। কোনো অদৃশ্য শক্তি বা বাধার কারণে এই হত্যার তদন্তের নামে বছরের পর বছর কালক্ষেপণ করা হচ্ছে, সেটাই এখন বড় রহস্য।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সরকার যথেষ্ট আন্তরিক। আমরা প্রতিনিয়ত খোঁজ-খবর রাখছি। আশা করছি, দ্রুতই একটি সমাধানে পৌঁছতে পারব। খুনিরা ধরা পড়বেই।’

দীর্ঘ সময়েও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় তিনি নিজেও ‘বিব্রত’ বলে জানান।

মন্ত্রীর আশ্বাসের জবাবে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি হত্যা মামলায় যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ রয়েছে, সেটি যেন আর না পেছায়, সেজন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন সাংবাদিক নেতারা।

ডিআরইউ’র প্রতিবাদ সমাবেশে সংগঠনের অর্থ সম্পাদক জিয়াউল হক সবুজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল বারী, দপ্তর সম্পাদক মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শেখ মাহমুদ এ রিয়াত, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. এমদাদুল হক খান, কার্যনির্বাহী সদস্য বিএম নূর আলম (বাদল নূর), মোহাম্মদ মাকসুদুল হাসান, রাশেদুল হক, সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, রাজু আহমেদ, মোরসালিন নোমানী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিব, বিএফইউজে’র (একাংশ) মহাসচিব এম. আব্দুল্লাহ, ডিইউজে’র (একাংশ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশেনর সহ-সভাপতি মিজান মালিক, যুগ্ম-সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদ নিজাম প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

আরও উপস্থিত ছিলেন, ডিআরইউ’র সহ-সভাপতি খোন্দকার কাওছার হোসেন, নারীবিষয়ক সম্পাদক সাজিদা ইসলাম পারুল, ক্রীড়া সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শামীম, কার্যনির্বাহী সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টিভির বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার এবং তার স্ত্রী এটিএন বাংলা জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন নাহার রুনিকে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় নৃশংসভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। সে সময় বাসায় ছিলেন এই দম্পতির একমাত্র ছেলে তিন বছর বয়সী মেঘ।

পরের দিন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। চার দিন পর মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র্যা বের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু, বিগত সাত বছরেও এই মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতির পাওয়া মেলেনি।

এইচকে/আইএম

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও