বিএনপির অভিযোগ এখন হাস্যকর: ওবায়দুল কাদের(ভিডিও)

ঢাকা, বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৮ ফাল্গুন ১৪২৫

বিএনপির অভিযোগ এখন হাস্যকর: ওবায়দুল কাদের(ভিডিও)

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৫:৫৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

বিএনপির অভিযোগ এখন জনগণের কাছে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়া শেষে সাংসাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সোমবার বিকেলে এ মন্তব্য করেন তিনি।

উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির অংশ না নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা নির্বাচন হওয়ার আগেই হেরে যায়। নির্বাচন হওয়ার আগেই তারা নির্বাচন সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য করে। বিরুপ মন্তব্য করা, নালিশ করা তাদের পুরনো অভ্যাস। যেসব নির্বাচনে তারা নির্বাচিত হয়েছে, সেসব নির্বাচনেও দেখা গেছে ফলাফল হবে, গণনা চলছে, তখনও তারা জালিয়াতির কথা বলে। এটা বিএনপির পুরনো অভ্যাস। এটা নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। এটা হাস্যকর হয়ে গেছে। তাদের নালিশের কোনো বাস্তবতা, সত্যতা নেই।

একতরফা নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ জিতে যাচ্ছে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খানের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘উনি কি নির্বাচনের নিয়ম-কানুন, আইন, আচরণবিধি, সংবিধান এসব মানতে চান না? জাতীয় নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচন তো পাঁচ বছর পরেই হচ্ছে। গতবারের উপজেলা নির্বাচনেও প্রথম ধাপে বিএনপি মেজরিটি পার্সেন্ট এগিয়ে ছিল। দ্বিতীয় ধাপেও তারা ব্যালেন্সে ছিল।

তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) এখন নির্বাচনে অংশ নেবে না, কারণ তারা জানে জাতীয় নির্বাচনে যে ভরাডুবি হয়েছে, তাতে উপজেলা নির্বাচনে আরো শোচনীয় অবস্থা হবে। এ ভয়ে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না। বিএনপি যখন মনে করে কোনো নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা নেই, তখন তারা এই ধরনের অভিযোগ করে। রোজ কিয়ামত পর্যন্ত তারা অভিযোগ করবে।’

সাদেক হোসেন খোকার প্রসঙ্গ টেনে সেতুমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের পরপরই কীভাবে খোকা ঢাকা সিটির মেয়র হয়েছিলেন তা কি আমরা এতো সহজেই ভুলে গেলাম। সেই ভোটে ১০ শতাংশ ভোটারও ভোট দেননি বলে দাবি করেন ওবায়দুল কাদের।

নারী আসনের মনোনয়নের ক্ষেত্রে ত্যাগী এবং তৃণমূলকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, আমরা অনেক সময় নিয়েছি। আমাদের সভাপতি শেখা হাসিনা সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছেন। এমনকি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় কয়েকজনের নাম তিনি আমায় লিখে রাখতে বলেছিলেন। অনেককে সেখানে আমরা নিতে পারিনি, সেখানেও দু’চার জন সিলেক্টেড হয়েছেন। অনেক যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। দে আর অল ব্রিলিয়ান্ট, পোলাইট, কমিটেড অ্যান্ড ডেডিকেটেড।’

তিনি বলেন, আমাদের দলের প্রতি কমিটেড, দেশ–মুক্তিযুদ্ধের প্রতিও তারা (নারী প্রার্থীরা) কমিটেড, আন্দোলন সংগ্রামে তাদের যে ত্যাগী ভূমিকা, সেটা আমরা গুরুত্ব দিয়েছি, অগ্রাধিকার দিয়েছি।

মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের নেত্রীর সক্রিয় মতামতের ভিত্তিতে দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মীরা এবং মুক্তিযুদ্ধের পরিবার, এছাড়া সব অঙ্গনের প্রতিনিধি এখানে আছে। কালচারাল এরিনা থেকে শুরু করে সকল পর্যায় থেকে নিয়েছি। সেখান থেকে আমার সূবর্ণা মোস্তফাকে নিয়েছি। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি তৃণমূল পর্যায়ে।
আমাদের নেতাকর্মীরা যেখানে দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে ছিলেন, সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন, জেল-জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন, তাদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে যোগ করেন ওবায়দুল কাদের।

ভবিষ্যতে নারী আসন বাড়ানো বিষয়ে তিনি বলেন, নারী আসন বাড়ানো নয়, কমানোর চিন্তা করছি। এমনিতেই ২৫ বছরের জন্য অন্তর্ভুক্ত আছে। নারী ক্ষমতায়ন অনেক দূর এগিয়ে যাবে। অনেক আপগ্রেডেট হবে।

এইচকে/এইচআর