সিলিন্ডার কি ‘বোমা’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

সিলিন্ডার কি ‘বোমা’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৮

সিলিন্ডার কি ‘বোমা’

গত ১ ডিসেম্বরের ঘটনা। আশুলিয়ার পশ্চিম বাইপাইল এলাকার বাসিন্দা আকরাম ভোরে রান্না করার জন্য গ্যাসের চুলা জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে আগুন লেগে সন্তানসহ তিনজন দগ্ধ হন।

প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিউটে ভর্তি করা হয়। আকরাম এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় হামেশাই ঘটছে এমনটা। কিন্তু প্রতিরোধে যেমন ব্যবহারকারীর মধ্যে কোনো সচেতনতা নেই তেমনি নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ নিয়ে কোনো ভাবনা।

শুধু বাসা-বাড়ির এমন বিস্ফোরণই নয় বরং আরও বেশি ঝুঁকিতে থাকে যানবাহনে ব্যবহার করা গ্যাস সিলিন্ডারগুলো। একের পর এক ঘটনায় দেশের বহুল ব্যবহৃত এ জ্বালানি তরল পেট্রোলিয়াম (এলপি) বা বোতলজাত গ্যাস সিলিন্ডার এখন আতঙ্কের আরেক নাম। কেউ কেউ বলছেন চলন্ত বোমা।

নিম্নমানের সিলিন্ডার এবং পাঁচ বছর পর পর রি-টেস্ট করার নিয়ম না মেনে গাড়িচালকরা জীবন্ত বোমা নিয়ে যানবাহন চালাচ্ছেন। এ কারণে চালকদের পাশাপাশি যাত্রী এমনকি পথচারীদের জীবনও হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিএনজি সিলিন্ডারে প্রতি বর্গইঞ্চিতে ৩২শ পাউন্ড চাপে গ্যাস ভরা হয়, সে অনুযায়ী সিলিন্ডারগুলোকে মানের দিক থেকে যতটা উন্নত হতে হয়, আমাদের সিলিন্ডারগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ততটা মানের নয়। তাছাড়া বাধ্য-বাধকতা থাকলেও সিএনজিচালিত গাড়ির পাঁচ বছরের বেশি পুরনো সিলিন্ডার পুনঃপরীক্ষায় কেউ উদ্যোগী হচ্ছে না।

সিলিন্ডারের এমন বিস্ফোরণ ও দুর্ঘটনা সম্পর্কে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক মো. সামসুল আলম বলেন, ‘নিয়ম মেনে রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে ও যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে প্রতিটি সিলিন্ডার ৪০ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু দেশে সিলিন্ডারগুলো পরিবহন পর্যায়ে বিশেষ করে ডিলার পর্যায়ে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে এগুলোর স্বাভাবিক আয়ু অনেকাংশে কমে যায়।’

তিনি জানান, ‘১০ বছর পর পর বিস্ফোরক অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সিলিন্ডার রি-টেস্ট (পরীক্ষণ) করাতে হয়। রি-টেস্টে উত্তীর্ণ হলে প্রতিটি সিলিন্ডার পরবর্তী ১০ বছর পর্যন্ত ব্যবহারের অনুমোদন পায় উৎপাদন ও বিতরণ কোম্পানিগুলো। গ্যাস সিলিন্ডার আইন-১৯৯১ অনুযায়ী সিলিন্ডারের মান যাচাইয়ের জন্য ৫ বছর পর সিলিন্ডার পুনঃপরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (আইএসও) স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী এটিকে ‘বাধ্যতামূলক’ উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু কোনো পুনঃপরীক্ষা ছাড়াই দেশের বাজারে ২৫ বছরের পুরনো সিলিন্ডারও ব্যবহার হচ্ছে। এ কারণে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে।’

এদিকে বর্তমানে গ্যাস সংকট নিয়মিত হয়ে পড়ায় বাসা-বাড়িতে ব্যবহার বেড়ে গেছে গ্যাস সিলিন্ডারের। এ সুযোগে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে মানহীন সিলিন্ডারের। গ্রাহকের হাতে মান পরীক্ষা করার কোনো পদ্ধতিও নেই। নেই সচেতনতাও। সিলিন্ডারটি ঘরের কোথায় বসাতে হবে, বসানোর জায়গাটা কতটা উন্মুক্ত হতে হবে, এসব ব্যাপারেও ব্যবহারকারী কোনো জ্ঞান নেই। সবমিলিয়ে হ-য-ব-র-ল ভাবে চলছে এলপিজি সিলিন্ডার উৎপাদন, সরবরাহ, বিক্রি ও ব্যবস্থাপনা।

এআরই