ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে গ্রামীণফোনকেও একহাত নিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে গ্রামীণফোনকেও একহাত নিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ১০:২৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৮

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে গ্রামীণফোনকেও একহাত নিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

ফাইল ছবি

সংসদ অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ নবগঠিত জাতীয় জাতীয় ফ্রন্টকে একহাত নিয়েছেন। স্পিকারের কাছে জোটটির বিষয়ে আলোচনা করার জন্য দিন নির্ধারণের কথা জানিয়েছেন।

একইসঙ্গে তিনি বেসরকারি মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন, ‘গ্রামীণফোনে যে পরিমাণ অসুবিধা হয়, অন্য কোনো অপারেটরে তা হয়।’

শুধু তাই নয়, গ্রামীণফোনের বিষয়ে মন্ত্রী টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন তিনি।

রোববার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিএনএফের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের উত্থাপিত প্রশ্নের জের টেনে বাণিজ্যমন্ত্রী এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে খুনের সঙ্গে জড়িত, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত, যাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে, যারা ফাঁসির আসামি, ফাঁসি হয়েছে, তাদের সঙ্গে ঐক্য করে বর্তমানে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ড. কামাল হোসেন, তা নিয়ে আমাদের কিছু বক্তব্য আছে। এটা একটি অশুভ ঘটনা ঘটতে চলেছে। জাতীয় সংসদের ২৫ অক্টোবরের মধ্যে কোনো একটি তারিখে সময় নিয়ে আমরা তার এ ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে চাই। এ সম্পর্কে বলার মতো আমাদের অনেকেই রয়েছেন।

তোফায়েল আহমদ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন করতে ৩০ লাখ লোক শহীদ হয়েছেন। প্রিয় মাতৃভূমিকে স্বাধীন করতে অনেক মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করা হয়েছে, এই সেই বাংলাদেশ। জাতির জনক দেশে ফিরে এসে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে এই সংবিধান উপহার দেন। সেই সংবিধানে রাষ্ট্রীয় ৪টি মূলনীতি উল্লেখ করা হয়েছে। এ চারটি মূলনীতির অন্যতম হলো- জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্ম নিরপেক্ষতা। এখানে ড. কামাল হোসেনের নাম এসেছে, তিনি নিজেকে সংবিধান প্রণেতা হিসেবে দাবি করেন। অনেকে তাকে সংবিধান প্রণেতা হিসেবে বলেন। আমরা সেই গণপরিষদের সদস্য ছিলাম। সেই সংবিধানে আমাদের স্বাক্ষর আছে। যিনি এই সংবিধান প্রণেতা দাবি করেন, তিনি কি করে সংবিধান পরিপন্থী কার্যকারণে বিশ্বাস করেন। যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। যারা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত, যারা সাজাপ্রাপ্ত, যাদের ফাঁসি হয়েছে, ফাঁসির আসামি। একটা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে যাকে অভিহিত করা হয়, তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। তার সঙ্গে কী করে ড. কামাল ঐক্য করেছেন, এ ব্যাপারটা আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব। আমরা হোমওয়ার্ক করে এ ব্যাপারটা আলোচনা করব।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ড. কামাল একবার নির্বাচনে জেতেন বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেয়া সিটে, তাও ভোটে নয় বিনা ভোটে। ’৮৬ তে তাকে মনোনয়ন দিলেও তিনি হেরে যান। এটা বড় কথা নয়। হার-জিত আছে। কিন্তু, একটা অশুভ ঘটনা হতে চলেছে, আমরা এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত আলোচনা করব। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী এক নাগাড়ে ১০টি বছর কি উন্নয়ন করেছেন, দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কেমন উজ্জ্বল করেছেন, তা নিয়েও আলোচনা করব।

অন্য একটি বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রামীণফোন, বেসরকারি খাতে শেখ হাসিনা এই গ্রামীণ টেলিফোনের অনুমতি দিয়েছিলেন। ড. ইউনূসকে এ গ্রামীণ টেলিফোনের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। কথা ছিল এর একটি লভ্যাংশ সাধারণ মানুষকে দেবা হবে। কিন্তু, আমরা যারা গ্রামীণফোন ব্যবহার করি, তারা জানি এক একটি কলে তিন থেকে পাঁচবার কলড্রপ হয়। আবার করতে হয়, আবার করতে হয়। এ ব্যাপারে আমরা গ্রামীণফোনের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুরোধ করেছি। গুরুত্বপূর্ণ কথা বলছি কলড্রপ হচ্ছে, আবার করতে হয়, সময় নষ্ট হয়, অসুবিধা হয়।

এ ব্যাপারে টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর কাছে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

তোফায়েল বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। অন্য ফোনে কোনো সমস্যা হচ্ছে না, গ্রামীণফোনের মতো কলড্রপ হয়ে অসুবিধা কোনো অপারেটরে হয় না।

এইচকে/আইএম