আন্তর্জাতিক চাপে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাধ্য হবে মিয়ানমার: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫

আন্তর্জাতিক চাপে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাধ্য হবে মিয়ানমার: প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৯:২৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮

আন্তর্জাতিক চাপে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাধ্য হবে মিয়ানমার: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাধ্য হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-৮ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মিলনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, ভারত, থাইল্যান্ডসহ  প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি।  যার ফলে মিয়ানমার বিতারিত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে বলে আশা করি।

এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) এ বিষয়ে বিচারকার্য শুরু হয়েছে। সেখানে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবেন বলে স্বীকার করেছেন। আমরা আশা করি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাধ্য হবে যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।   

নুরুল ইসলাম মিলনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা স্থানীয় জনগোষ্ঠি এবং প্রতিবেশের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছে। সংরক্ষিত বনভূমি উজাড় এবং ব্যাপক পাহাড় কাটার ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। ডিপথেরিয়া, পোলিও, এইচআইভি (এইডস)সহ অন্যান্য সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।  এছাড়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অবস্থানের ফলে মানবপাচার, মাদকদ্রব্য চোরাচালানসহ সংঘবদ্ধ অন্যান্য অপরাধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বলপূর্বক বাস্তচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবসনে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মিয়ানমারের সাথে তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমারের উপর অব্যাহত চাপ প্রয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বিভিন্ন রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ নিজ নিজ অবস্থান হতে আইনের আওতায় কাজ করছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল কর্তৃক গঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিসিং অন মিয়ানমার’ রোহিঙ্গাদের উপর সংগঠিত গণহত্যার প্রমাণসহ তাদের প্রতিবেদন গত ২৭ আগস্ট প্রকাশ করেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের পথকে আরও প্রসারিত করবে বলে আশা করা যায়।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত বিপুল রোহিঙ্গা জনস্রোতের নজিরবিহীন এক মানবিক সংকটে বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে সাড়া দিয়ে সীমান্ত উন্মুক্ত রেখে তাদের প্রবেশ করতে দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে অবস্থানের কোনো সুযোগ নেই। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে চাই। আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে, রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবসন সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

এইচকে/এএল/