কোটা নিয়ে ঢাবিতে আন্দোলনকারী-ছাত্রলীগ পাল্টাপাল্টি মিছিল

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৫ পৌষ ১৪২৫

কোটা নিয়ে ঢাবিতে আন্দোলনকারী-ছাত্রলীগ পাল্টাপাল্টি মিছিল

ঢাবি প্রতিনিধি ৪:৪০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮

কোটা নিয়ে ঢাবিতে আন্দোলনকারী-ছাত্রলীগ পাল্টাপাল্টি মিছিল

কোটা সংস্কারের দ্রুত প্রজ্ঞাপন দেয়ার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে আন্দোলনকারীরা। এসময় আকস্মিক মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। এতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গ্রন্থাগার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে আন্দোলনকারীরা।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দের ব্যানারে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ।

কোটা আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে শাহবাগে পাবলিক লাইব্রেরির সামনে গেলে ছাত্রলীগের মিছিলও পেছন পেছন যায়। পরে কোটা আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এসে স্লোগান দিতে থাকলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের পাশে এসে স্লোগান দিতে থাকে।

এতে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কোটা আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এলাকা ছেড়ে রাজু ভাস্কর্যের দিকে চলে যায়। তারা রাজু ভাস্কর্যের দিকে গেলে সেখানেও তাদের পিছু নেয় ছাত্রলীগ।

একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের মিছিলের সামনে রিকশা জড়ো করে মিছিল আটকে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে দুপক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনকারীরা রিকশা সরিয়ে দিয়ে ভিসি চত্বরের দিকে চলে যায়। ছাত্রলীগও মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীদের পিছু পিছু যেতে থাকে।

ছাত্রলীগের মিছিল আবার কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির দিকে চলে গেলে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অবস্থান নিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে কোটা আন্দোলনকারীরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান মামুন, যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নুর, বিন আমিন মোল্লা, মশিউর রহমানসহ আরও অনেকে।

সমাবেশ বক্তারা কোটা সংস্করের দ্রুত প্রজ্ঞাপনের দাবি জানান। একইসঙ্গে ৪০তম বিসিএসের সার্কুলার বাতিল, সোনালী ব্যাংকের বিশেষ নিয়োগ বাতিলসহ নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি জানান এবং তিন দফা দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না করলে এবার বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সাথে মতবিনিময় করে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা।

সমাবেশে নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা শুধু প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর জন্য আন্দোলন করিনি। আমরা সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। প্রজ্ঞাপন দ্রুত সময়ের মধ্যে দিয়ে দিন, না হয় বাংলার পুরো ছাত্রসমাজ দেশের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সাথে মতবিনিময় করে আবারও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।’

মশিউর রহমান বলেন, ‘আমরা আন্দোলন করে অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার কারণে আমাকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হল থেকে ধরে নিয়ে ককটেল হাতে দিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করেছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোটার যৌক্তিক সংস্কার চেয়েছি। কোনো ধরনের ভয়-ভীতি দেখিয়ে আমাদের দমিয়ে রাখতে পারবেন না। যতদিন পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন জারি না করা হবে, ততদিন পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব কর্তৃক যে সুপারিশ করা হয়েছে তা আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেটি বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।

এসময় তিনি ঘোষিত তিন দফা দাবির কথা উল্লেখ করেন। দাবিগুলো হলো- পাঁচ দফার ভিত্তিতে কোটা সংস্কার, আন্দোলনরতদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং হামলার বিচার।

ওএইচ/এমএসআই