‘এতো বড় ঘটনার পরও সচেতনতা নেই’

ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

‘এতো বড় ঘটনার পরও সচেতনতা নেই’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ১০:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

‘এতো বড় ঘটনার পরও সচেতনতা নেই’

অসচেতনভাবে যত্রতত্র রাস্তা পারাপার হওয়া পথচারীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ড্রাইভারের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিন্তু যত্রতত্র রাস্তা পার হওয়াদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলে এটি থামবে। তাছাড়া এটি থামবে না। এছাড়া ট্রাফিক নিয়মটা স্কুল থেকে আস্তে আস্তে শিখানো উচিত।

বুধবার জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির নূরে হাসনাত লিলি চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নে একথা বলেন তিনি। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

এসময় শেখ হাসিনা বলেন, সড়কের দুঘর্টনা দূর করার জন্য আমরা যতই পদক্ষেপ নিই না কেন, আমাদের দেশের মানুষের অদ্ভুত মানসিকতা; তারা রাস্তা পারাপারের সময় হাত দেখায়। দ্রুতযান হাত দেখানোর সাথে সাথে থেমে যেতে পারে না। কিন্তু আমরা কি দেখি, ছোট্ট শিশুর হাত ধরে মা রাস্তা পার হচ্ছেন। অথবা বাবা বাচ্চাদের নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। রাস্তায় অনবরত গাড়ি আসছে অথচ খুব কাছেই ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও এভাবে পার হচ্ছেন। এমনকি যুবক-ছেলেমেয়েরাও একাজ করছেন। ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে পার না হয়ে দৌড় দিয়ে পার হতে চায়। এর ফলে এক্সিডেন্ট হয়। আর এক্সিডেন্ট হলে যারা রাস্তা পারাপার হচ্ছে তাদের দোষ কতটুকু আর ড্রাইভারের দোষ কতটুকু সেটাও বিবেচ্য বিষয়।

তিনি বলেন, আরেকটি বিষয় আমি দেশবাসীকে বলব সেটা হলো, কোনো একটি এক্সিডেন্ট হলে ড্রাইভার তখন নিজের জীবন বাঁচাতে দ্রুত চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। ফলে যার বাঁচার সম্ভাবনা সেও আর বাঁচে না। ড্রাইভার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে কারণ যে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেল, তাকে সাহায্য করার চেয়েও বেশি আগ্রহ হয়ে যায় ড্রাইভারকে টেনে নামিয়ে কিভাবে মারধর করা যায় এবং মারতে মারতে এমনও ঘটনা ঘটে যায়, মেরেই ফেলে। আইন কারো হাতে তুলে নেয়া উচিত নয়। ধরে পুলিশে দেবে, কিন্তু কেউ মারধর করতে পারবে না। এই মারধর যদি বন্ধ হয়, তাহলে অনেক এক্সিডেন্টে কিন্তু মানুষ বেঁচে যায়।  এটি হলো বাস্তবতা। আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে পারাপারের সময় সকলকেই ট্রাফিক আইনটা মেনে চলা উচিত।

শিশু আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতবড় একটি ঘটনা ঘটল, আন্দোলন হলো তারপরও আমরা দেখি মানুষের মধ্যে সেই সচেতনতা নেই। তারা যত্রতত্র রাস্তা পার হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের মানুষের একটু সচেতন হওয়া উচিত। ছোট শিশুকে নিয়ে হঠাৎ দৌড় দিয়ে রাস্তা পার হওয়া বা দুটি বাস দাঁড়িয়ে আছে তার ফাঁক দিয়ে বেরুতে গিয়ে এক্সিডেন্ট হলো। গাড়িতে বসে মাথা বা হাত বের করে রাখা, এসব হলে তখন তো এক্সিডেন্ট হতেই পারে। 

এইচকে/এএল