বয়স্ক ও মুক্তিযোদ্ধাদের ৫ বছরের মাল্টিপল ভিসা দিচ্ছে ভারত

ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮ | ২ ভাদ্র ১৪২৫

বয়স্ক ও মুক্তিযোদ্ধাদের ৫ বছরের মাল্টিপল ভিসা দিচ্ছে ভারত

সচিবালয় প্রতিবেদক ১:৫৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০১৮

print
বয়স্ক ও মুক্তিযোদ্ধাদের ৫ বছরের মাল্টিপল ভিসা দিচ্ছে ভারত

বাংলাদেশের বয়স্ক নাগরিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ৫ বছর মেয়াদী মাল্টিপল ভিসা দিচ্ছে ভারত। রোববার সচিবালয়ে ভিসা সহজীকরণের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে। ‘রিভাইস ট্রাভেল অ্যারেজমেন্টস-২০১৮’ শীর্ষক চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী এবং ভারতের পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল সেক্রেটারি বিরাজ রাজ শর্মা স্বাক্ষর করেন।

এ সময় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি অনুসারে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী যেকোনো বাংলাদেশি ভারতের ভিসার আবেদন করলে, তাদের ৫ বছরের মাল্টিপল ভিসা দেয়া হবে।

ভারত আমাদের ক্যাপসিটি বিল্ডিংয়ে সহযোগিতা করবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পুলিশ বাহিনীকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেবে তারা।’

জাল টাকা নিয়ে বিব্রত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের উদ্যোগের কথা তাদের (ভারত) জানিয়েছি, তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারপরেও যাদের আমরা পাচ্ছি, তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি। একস্ট্রাডিশন অ্যাক্ট রয়েছে, সেই অনুযায়ী বন্দি বিনিময় হচ্ছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতকে আমরা বলেছি— আমাদের এক ইঞ্চি জমিও সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ব্যবহার করে কর্মকাণ্ড চালাতে দেয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশে এখন ফেন্সিডিল আমদানি অনেক কমে গেছে। এর কারণ সীমন্তবর্তী এলাকায় ভারত কারখানাগুলো আইন করে বন্ধ করে দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে আমাদের চার হাজার কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। কিছু দু’একটি অরক্ষিত এলাকা রয়েছে। সেখানে দুটি বিওপি করব। আমরা সীমান্ত রোড করছি। ভারত সহযোগিতা করবে। এছাড়া মানবপাচার ও মাদক পাচারে সহযোগিতা করবে।’

আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘যখনই কোনো সমস্যা আসবে, তখনই আলোচনা করে সমাধান করা হবে। বাংলাদেশ ভারতের ঘনিষ্ট দেশ। তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে সহযোগিতা করবে।’

সিকিউরিটি ডায়ালগ প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে। এটি চলমান।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাজনাথ সিং আগামী দুই মাসের মধ্যে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

ভারতে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরত বিষয়ে কোনো কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে কমিটি রয়েছে, তারা কাজ করছেন। আলাপ হয়েছে, আমাদের কাছে তারা কয়েকজনের নাম পাঠিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী কাজ চলছে।’

এর আগে তারা দু’দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

তিনি বলেন, ‘বয়স্ক নাগরিক ছাড়াও ১৯৭১ সালে দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্য যারা যুদ্ধ করেছিলেন, তাদের জন্য রাজনাথ সিং একই ধরনের সুবিধা প্রদানের কথা বলেছেন।’

আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘ভারত মেডিকেল ও স্টুডেন্টস ভিসা সহজ করবে বলে বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’

এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের দেশ থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন কারণে ১ কোটি মানুষ বিদেশে যান। এর মধ্যে কেবল ভারতেই যান ৩০ লাখ মানুষ।’

এর আগে সকাল ১০টা ২২ মিনিটের দিকে রাজনাথ সিং সচিবালয়ে উপস্থিত হলে আসাদুজ্জামান খাঁন তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

এ সময় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। মন্ত্রণালয় প্রাঙ্গণে অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একটি দলের সালাম গ্রহণ করেন রাজনাথ সিং।

দু’দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল ২০১৬ সালের জুলাই মাসে, নয়াদিল্লিতে।

তিন দিনের সরকারি সফরে গত শুক্রবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা আসেন। এরপর গতকাল শনিবার তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা প্রসেসিং সেন্টারের উদ্বোধন করেন।

এসএস/আইএম

 
.


আলোচিত সংবাদ