বিজিবি-বিজিপি সীমান্ত সম্মেলন শেষ

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

বিজিবি-বিজিপি সীমান্ত সম্মেলন শেষ

পরিবর্তন প্রতিবেদক ২:৫৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৮

বিজিবি-বিজিপি সীমান্ত সম্মেলন শেষ

শেষ হলো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং মিয়ানমায়ের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) এর সিনিয়র পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে একসাথে কাজ করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছেন দুই দেশের প্রতিনিধি দল।

সম্মেলন শেষে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে এসব কথা বলেন বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনিছুর রহমান।

৯ জুলাই হতে ১২ জুলাই পর্যন্ত এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে পুলিশ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মায়ো থান (Police Brig Gen Myo Than) এর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের মিয়ানমার প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেন।

অপরদিকে বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনিছুর রহমান (Brig Gen Md Anisur Rahman, BGBM, ndc) এর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেন।

এবিষয়ে বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক সাংবাদিকদের জানান, সম্মেলনে উত্থাপিত বিষয়গুলোর মধ্যে মাদক দ্রব্য বিশেষ করে ইয়াবার ব্যাপকতার বিষয়ে উভয় পক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে পরস্পরকে সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।

সীমান্তে আন্তর্জাতিক রীতি-নীতির বিষয় উল্লেখপূর্বক সম্প্রতি মিয়ানমার নাগরিকদের সীমান্ত অতিক্রমসহ সীমান্তে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিজিবির পক্ষ হতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সাথে সীমান্তের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি বন্ধে মায়ানমার পক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এ প্রেক্ষিতে মিয়ানমারের পক্ষ হতে জানানো হয় যে, এ ধরনের অনাকাঙ্খিক্ষত ঘটনা বন্ধে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সীমান্তে মাদক, অস্ত্র, নারী ও শিশু পাচারসহ সবধরনের আন্তসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সমন্বিত যৌথ টহল, সীমান্তে নজরদারি ও অন্যান্য তৎপরতা বৃদ্ধি, উভয় পক্ষের মাঠ পর্যায়ের অধিনায়কদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা এবং সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় পরস্পরের মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনিছুর রহমান।

তিনি বলেন, সীমান্তে মাইন/আইইডি (Improvised Explosive device) অপসারণ প্রসঙ্গে উভয় পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং মিয়ানমারের পক্ষ এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে তাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে সম্মত হয়েছেন।

এসময় উভয় পক্ষই বর্ডার লিয়াজোঁ অফিসের কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

উভয় পক্ষ সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে একসাথে কাজ করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।

সিনিয়র পর্যায়ের পরবর্তী সীমান্ত সম্মেলন মিয়ানমারের নেপিতো-তে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছেন।

এমকে/এসবি