ভারতের কাছে প্রতিদান চান শেখ হাসিনা

ঢাকা, রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮ | ৩ ভাদ্র ১৪২৫

ভারতের কাছে প্রতিদান চান শেখ হাসিনা

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৪২ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০১৮

print
ভারতের কাছে প্রতিদান চান শেখ হাসিনা

ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ে সব সময়ই বাংলাদেশ আন্তরিক ভূমিকা পালন করে আসছে। যার ধারাবাহিকতায় ভারতের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বাংলাদেশকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে আসতে দেখা গেছে। এবার ভারত সফর গিয়ে সে কথাই মনে করিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর প্রসঙ্গে এক প্রতিবেদনে শনিবার এমনটাই জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দিয়েছেন অনেক, প্রতিদানে এবার ভারতের সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার শান্তিনিকেতনের ‘বাংলাদেশ ভবনে’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত বৈঠকে শেখ হাসিনা এটাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

এদিন ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধনের পরে সেখানেই মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসেন শেখ হাসিনা। এসময় তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জঙ্গিদের দেশছাড়া করেছে, ট্রানজিট দিয়েছে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বরাবর দিল্লির পাশে থেকেছে।

বাংলাদেশের নির্বাচনের বছরে এবার তাই ভারতের সহযোগিতা চাই। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, হাসিনা মোদিকে বলেছেন, তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্ন ছিল পাকিস্তানি শোষণে ছিবড়ে হয়ে যাওয়া বাংলাদেশকে মর্যাদার সঙ্গে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড় করানোর। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নেমেছেন তিনি। মুক্তিযু্দ্ধের মতো এই কাজেও তিনি ভারতকে পাশে চান।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে পাশে নিয়ে ১৯৭২’এর ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতার জনসভায় সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘নিঃস্ব আমি, রিক্ত আমি দেওয়ার কিছু নেই। শুধু বুক ভরা ভালবাসা জানাই ভারতের মানুষকে।’ ছেচল্লিশ বছর পরে হাসিনার বার্তা- তারা যা দিয়েছেন, এবার ভারত তার প্রতিদান দিক।

মোদির সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কি কথা হবে তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে আগেই আলোচনা করে এসেছিলেন শেখ হাসিনা। সেই সূত্র ধরেই আনন্দবাজারে বলা হয়, শেখ হাসিনা বলেছেন- মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে ক্ষমতা থেকে সরাতে এবং বাংলাদেশকে ফের পাকিস্তান বানানোর চক্রান্ত চলছে।

আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতা হারায় তবে পূর্বে ও পশ্চিমে দু’দিকেই পাকিস্তানকে নিয়ে ঘর করতে হবে ভারতকে। তাই ভারতের উচিত বাংলাদেশের বর্তমান সরকারই যাতে ক্ষমতায় ফেরে সে জন্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা।

অবশ্য সেই বৈঠকে মোদির জবাব জানা যায়নি। তবে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধনের পরে বক্তৃতায় মোদি জানান, বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য পরিকাঠামো খাতে ৮০০ কোটি ডলার সাহায্য দিয়েছে দিল্লি। বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়িয়ে ১১০০ মেগাওয়াট করা হবে। মহাকাশ প্রযুক্তিতেও সাহায্য করতে চায় দিল্লি।

বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনের সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘পদ্মা, মেঘনা, যমুনায় অনেক জল গড়িয়েছে। আরও জল গড়াবে। দুই দেশের সুসম্পর্কও এগিয়ে চলবে।’

দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আলোচনায় তিস্তা প্রসঙ্গ ওঠা স্বাভাবিক বলে অনেকেই মনে করেছেন। যদিও এ নিয়ে কেউই প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। তবে তার আগে ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক অর্জনের মধ্যে কিছু বকেয়াও রয়েছে, যা উল্লেখ করে এমন সুন্দর অনুষ্ঠানের অঙ্গহানি করতে চাই না আমি!’

মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তীকালে ভারতের অবদান স্মরণ করতে গিয়ে এদিন গলা ধরে আসে শেখ হাসিনার। তিনি বলেন, ‘এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিলেন ভারতের মানুষ। যুদ্ধে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, অস্ত্র দিয়েছে। লড়াইয়ে প্রাণও দিয়েছেন ভারতের সেনারা।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা জানান, শুধু তার বাবা-মা, ভাইদের হত্যা নয়, তার পরিবারের আরও তিনটি বাড়িতে সে রাতে হামলা করে হত্যাকাণ্ড চালায় ‘পাকিস্তানের চরেরা’।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা দুই বোনসহ পরিবারের যে ক’জন সেদিন বেঁচে গিয়েছিলাম, ভারতের স্নেহচ্ছায়াতেই কাটিয়েছি পরের কয়েক বছর।’

তিনি জানান, বাবার স্বভাব ছিল রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি। স্টিমারের ডেক-এ দাঁড়িয়ে ভরাট গলায় উচ্চারণ করতেন, ‘উদয়ের পথে শুনি কার বাণী, ভয় নাই ওরে ভয় নাই!’ সেই রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে দুই দেশ মিলে একটি ভবন উদ্বোধন করল।

ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত দু’টিই রবীন্দ্রনাথের লেখা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, রবীন্দ্রনাথের জমিদারি অঞ্চল বাংলাদেশের শাহজাদপুরে তার সরকার রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ হাতে নিয়েছে।

কেবিএ/এমএসআই

 
.


আলোচিত সংবাদ