মুক্তামনির চলে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনার: ডা. সামন্তলাল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫

মুক্তামনির চলে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনার: ডা. সামন্তলাল

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১২:২১ অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০১৮

মুক্তামনির চলে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনার: ডা. সামন্তলাল

‘মুক্তামনির এভাবে চলে যাওয়ার সংবাদ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং হৃদয় ভাঙার মতো। এমন সংবাদ চিকিৎসক জীবনে খুব কমই শুনতে হয়েছে। সব ধরনের প্রচেষ্টার পরও তাকে আমরা ধরে রাখতে পারলাম না, সেটা আমাদের জন্যও অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনার।’ রক্তনালীর টিউমারে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনি মারা যাওয়ার খবরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. সামন্তলাল সেন এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন।

তিনি বলেন, মুক্তামনিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ছয় মাস চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি ছিল না। তার সুস্থতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিদেশের বিভিন্ন চিকিৎসকদের স্মরণাপন্ন হয়েছি। এমনকি বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী সম্মতিও দিয়েছিলেন। তারপর সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সিদ্ধান্ত ছিল দেশেই তার অস্ত্রোপচার করার। তার রোগ নির্ণয় করে কয়েকটি অস্ত্রোপচার সম্পন্নও হয়েছিল। তাকে বাড়িতে পাঠানোর পরও তার পরিবারের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল বার্ন ইউনিটের। তার এই অকাল মৃত্যু সত্যি আমাদের জন্য বেদনাদায়ক।

সামন্ত লাল বলেন, মুক্তামনির চিকিৎসার খোঁজ নিতে গতকাল সাতক্ষীরা থেকে চিকিৎসক পাঠানো হয়েছিল। মুক্তামনিকে ঢাকায় আনার প্রক্রিয়াও ছিল। তার পরিবারের সঙ্গে কয়েক দফা কথাও হয়েছে। কিন্তু মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম জানিয়েছেন, মেয়েটির অবস্থা ভালো না স্যার। আপনারা যতটুকু চেষ্টা করেছেন তাতে আমি কৃতজ্ঞ। তাছাড়া মুক্তামনি নিজেই আর ঢাকায় যেতে চাচ্ছে না। তারপরও আমাদের চেষ্টা অব্যাহত ছিল ঢাকায় আনার।

ডা. সামন্তলাল সেন বলেন, আমরাও আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলাম তাকে ঢাকায় আনার জন্য। এমনকি তার চিকিৎসায় জড়িত ডাক্তারদের সাথে আলোচনা করে রাখা হয়েছে। কিন্তু তার আগেই মুক্তামনি সবাইকে ছেড়ে চলে গেল।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১২ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি হয় বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার মেয়ে মুক্তামনি। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়- তার রক্তনালীতে টিউমার হয়েছে। তখন তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে যোগাযোগ করেন বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা। মুক্তামনির সব রিপোর্ট দেখে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর ঢামেকের চিকিৎসকরা পরিবারের সম্মতি নিয়ে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। পরে মুক্তামনির চিকিৎসার সব ধরনের খরচের দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 ৫ আগস্ট প্রথম অস্ত্রোপচার করে তার হাতের ফোলা অংশ ফেলে দেন চিকিৎসকরা। পরে দুই পায়ের চামড়া নিয়ে দুই দফায় তার হাতে লাগানো হয়। ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালামের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ একদল চিকিৎসক মুক্তামনির স্কিন গ্রাফটিং (চামড়া লাগানো) অপারেশনে অংশ নেন। পরে মুক্তামনির হাত আবার ফুলে যাওয়ায়, ফোলা কমানোর উদ্দেশ্যে হাতে প্রেসার ব্যান্ডেজ বেঁধে দেওয়া হয়।

ছয় মাস চিকিৎসা নিয়ে ২০১৭ সালের ২২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সাতক্ষীরায় নিজ বাড়িতে পাঠানো হয় তাকে। বাড়িতেই তার চিকিৎসকের দেওয়া পরামর্শে ওষুধ সেবন করানো হচ্ছিল।

এমকে/এএল/
আরো পড়ুন...
মুক্তামনি আর নেই
দাদার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবে মুক্তামনি
ভালো নেই মুক্তামনি, আশা ছেড়ে দিয়েছে পরিবার
যে কারণে মুক্তামনির অস্ত্রোপচারে সিঙ্গাপুরের অসম্মতি
সংবাদ সম্মেলনে আসছে মুক্তামনি
‘ডাক্তার আংকেল বলেছেন আমি সুস্থ হয়ে যাব’
মুক্তামুনিকে দেখতে ঢামেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মুক্তা সুস্থ হলে দুই সপ্তাহ পর অপারেশন
হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে মুক্তামনি