গাজীপুরে হলে ঢাকায় কেন নয়

ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮ | ২ ভাদ্র ১৪২৫

গাজীপুরে হলে ঢাকায় কেন নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ, মে ১৭, ২০১৮

print
গাজীপুরে হলে ঢাকায় কেন নয়

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টে রিট হলেও সে সমস্যা চার দিনের মধ্যেই কেটে যায়। কিন্তু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নিয়ে রিট হলেও তা চার মাসেও সমাধান হয়নি। গাজীপুর সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছিল গত ৩১ মার্চ। একই দিনে খুলনা সিটি নির্বাচনেরও তফসিল ঘোষিত হয়েছিল। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী খুলনা সিটি নির্বাচন গত ১৫ মে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সীমানা জটিলতার কারণে হাইকোর্টে এক রিট আবেদনের কারণে গত ৬ মে ছয় মাসের জন্য গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ দেন হাইকোর্ট।

এরপরই গাজীপুরের বিএনপি দলীয় মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার, আওয়ামী লীগ দলীয়প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আপিল করা হয়। তারা উভয়েই নির্বাচন দেওয়ার পক্ষে উচ্চ আদালতে আরজি জানান। পরে গাজীপুরের নির্বাচনের ওপর হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে আগামী ২৮ জুনের মধ্যে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ভোট শেষ করার নির্দেশ দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। গাজীপুরের সমস্যার সমাধান হলেও ডিএনসিসি নির্বাচনের সমস্যার সমাধান এখনো হয়নি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেরও তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর সীমানা জটিলতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ৬ মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিতাদেশ দেন। ওই রিটের বিরুদ্ধে বিএনপি প্রার্থী তাবিথ আউয়াল এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আপিল করা হয়। পরে আদালতে ইসির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান।

বিএনপি প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা ইসির আবেদন নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে দ্রুত সময়ে রুল নিষ্পত্তি করতে আদেশ দিয়েছেন।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর ডিএনসিসির মেয়র পদে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, এ বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসির মেয়র পদসহ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি করে ৩৬টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ৬টি করে ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনী তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দুটি রিট করা হয়। ওই দুটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জানুয়ারি বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমদের ডিভিশন বেঞ্চ উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। এর পরে নির্বাচন কমিশন এবং বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে আপিল করা হয়।

শুধু ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন নয় বাংলাদেশে এরকম অনেক উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ আছে যেখানে সীমানা জটিলতার কারণে নির্বাচন আটকে আছে।

নীলফামারী সদর পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছে ২০১১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর ৫ বছরের মধ্যে ২০১৬ সালে নির্বাচন হওয়ার নিয়ম থাকলেও নির্দিষ্ট মেয়াদের পরও দুই বছর পার হয়েছে। কিন্তু এখনো সেখানকার নির্বাচন হচ্ছে না। কবে হবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেন, পৌরসভার সীমানা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা রয়েছে। কবে এর সমাধান হবে বা নির্বাচন হবে তা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। তার এর বেশি জানা নেই।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সীমানা জটিলতায় যেসব নির্বাচন আটকে আছে তা সমাধানে ইসির আরও ভূমিকা পালন করতে হবে। কেননা এটা তার দায়িত্ব। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করার ব্যাপারে ইসি কতটুকু আগ্রহী তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ঢাকার ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না। এখানে যথাসময়ে নির্বাচন কখনো হয়েছে? তিনি বলেন, গাজীপুরের নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পরে প্রার্থীরা ছুটে গেছেন আদালতে। এখানে তা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন যখন মুখ রক্ষার্থে একেবারে শেষ পর্যায়ে গেছে তখন প্রধান বিচারপতি জিজ্ঞেস করেছিলেন আপনারা যথাসময়ে আসলেন না কেন। এত দেরি কেন। তখন তারা কী জবাব দিল।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, নির্বাচন কমিশন কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে চলে। তাদের যখন যেটা করার দরকার তা করছে না। অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকে। এটা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হতে পারে না। যখন যা তাদের করা উচিত তখন তারা তা না করলে দায়িত্ব অবহেলার মধ্যে পড়ে। ডিএনসিসি নির্বাচন নিয়ে আদালতে কনটেস্ট না করা দায়িত্ব আবহেলা এবং মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার শামিল।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. ছহুল হোসাইন বলেন, হাইকোর্টে রিট হলে নির্বাচন কমিশনের যথাসময়ে গিয়ে কনটেস্ট করার উচিত। তারা যদি যথাসময়ে তা না করে তাহলে বিষয়টি প্রেসব্রিফিং করে পরিষ্কার করা উচিত, কেন তা করছে না। যদি তারা কনটেস্ট করতে না যায় তাহলে মানুষের ধারণাটা কী হয় সে বিষয়টি কিন্তু ভাবতে হবে। তারা যদি কনটেস্ট না করে তাহলে মানুষ ভাবতে পারে তারা নির্বাচনটা চায় না।

কেকে/এএস

 
.


আলোচিত সংবাদ