লাশ ফিরবে এক সপ্তাহ পর, বেশিরভাগই ঝলসানো

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

লাশ ফিরবে এক সপ্তাহ পর, বেশিরভাগই ঝলসানো

আতিক রহমান পূর্ণিয়া ১০:০৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৮

লাশ ফিরবে এক সপ্তাহ পর, বেশিরভাগই ঝলসানো

নেপালে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের লাশ ফেরত আনতে কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় লাগবে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতেই এই সময়। বিষয়টি ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে।

দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের বাংলাদেশ ও নেপালে থাকা স্বজন ও ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশে লাশ ফেরত আনতে এখনও অনেক সময় লাগবে। এক সপ্তাহ বা তারও বেশি। সবগুলো ডেড বডি হাসপাতালে রাখা আছে। সেখানে অবস্থানরত একাধিকজন জানান, কাউকেই লাশ দেখতে দেয়া হচ্ছে না।

তারা জানান, নেপালের হাসপাতালে ডিএনএ টেস্টের সুযোগ-সুবিধা ভালো না। পুরো দিনে সাত থেকে আটটা স্যাম্পল ওরা ডিল করে।

এছাড়া নেপাল কর্তৃপক্ষ ডিএনএর জন্য ইন্টারপোলের ফরম পাঠিয়েছে। ওরা বলেছে বাংলাদেশ থেকে ডক্টরস টিম দরকার হবে। তাছাড়া আরো কিছু স্যাম্পল ইনভেস্টিগেশনের রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে। যেমন দাঁতের এক্স-রে।

পাশাপাশি ইন্টারপোলের ১৭ পৃষ্ঠার একটা ডিএনএ'র ফরম দেয়া হয়েছে। সেটা কালকের মধ্যে পূরণ করে পাঠাতে হবে।

জানতে চাইলে নেপালে অবস্থান করা নিহত প্রিয়কের স্বজন সোহাগ, দেশে থাকা ভাগিনা সালাউদ্দিন এবং নিহত রফিকুজ্জামানের পরিবারের আত্মীয় অর্ক পরিবর্তন ডটকমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তারা জানান, অনেক লাশ পুড়ে বিকৃত হয়ে গেছে।

এছাড়া ইউএস-বাংলার জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলামও পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, সময় লাগবে। কোনও টাইম ফ্রেম বাঁধতে চাই না।

তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করবো যত দ্রুত লাশ আনা যায়। আহতদের শারীরিক অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কামরুল বলেন, সব প্রক্রিয়া শেষ হলে দরকারে আমরা বিশেষ ফ্লাইট পাঠিয়ে লাশ আনাবো।

উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় ৩৬ বাংলাদেশির যাত্রীর ২৬ জনই নিহত হয়েছেন। বাকিরা কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উড়োজাহাজে ক্রুসহ ৭১ জন ছিলেন।

নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাস ও আমাদের প্রতিনিধি খোঁজ-খবর নিয়ে নিশ্চিত হয়েছেন যে, ৩৬ জনের মধ্যে ২৬ জন মারা গেছেন। উড়োজাহাজের ক্রুরা সবাই নিহত হয়েছেন।’

কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বাকি ১০ জন তিনটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।’

নরডিক হসপাতালে ইয়াকুব আলী আর ওম হসপাতালে রেজওয়ানুল হক চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আটজন হলেন- শাহিন আহমেদ, শাহীন ব্যাপারী, মেহেদী হাসান, মিসেস ইমরানা কবির হাসি, সাইয়েদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা, শেখ রাশেদ রুবায়েত, মিসেস আলিমুন্নাহার এ্যানি, মো. কবির হোসেন।

ইউএস-বাংলার এই কর্মকর্তা বলেন, ‘চিকিৎসাধীনদের অবস্থা একেক জনের অবস্থা একেক রকম। কারো ব্যাপারে আমরা এই মুহূর্তে কিছুই বলতে পারছি না। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে আমাদের খরচে। তাদের আত্মীয়রা সেখানে যতদিন থাকতে চায়, আমরা তাদের থাকার ব্যয়ভর বহন করব।’

তিনি বলেন, ‘মৃতদেহগুলো খুব দ্রুতই ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।’

তবে কবে নাগাদ ফেরত আনা হবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি কামরুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, ঢাকা থেকে ৬৭ জন যাত্রীসহ ৭১ জন আরোহী নিয়ে সোমবার দুপুরে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে নামার সময় ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস ২১১ রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। এতে ৫০ জন আরোহী নিহত হন। বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এআরপি/এএল

আরো পড়ুন...
বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রী রুয়েটের শিক্ষিকা, স্বামী হাসপাতালে
কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্ত, বহু হতাহতের আশঙ্কা
কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা ফ্লাইটে আগুন
যান্ত্রিক ক্রুটিতেই ইউএস বাংলা বিমান দুর্ঘটনা
কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৭
বিধ্বস্ত বিমানের ৩৮ আরোহী নিহত: এএফপি
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্তের মুহূর্ত
বিধ্বস্ত বিমানে ছিলেন রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের অনেক শিক্ষার্থী
বিমানের জানালা ভেঙে প্রাণে বাঁচলেন যে যাত্রী
‘মা জেনে যাবে, তাই বাসার ডিশ লাইন কেটে দিয়েছি’
‘মানুষ পুড়ছে, আর্তনাদের সঙ্গে সঙ্গে মেঝেতে পড়ে যাচ্ছিল’
‘পাসপোর্ট নিতে ভুলে গিয়েছিল রিমন, আমি দিয়ে আসি’ (ভিডিও)
নিহত নাবিলার মেয়ের খোঁজ পেয়েছে পুলিশ
নিহত কেবিন ক্রু নাবিলার শিশুকন্যাকে নিয়ে টানাটানি
নাবিলার মৃত্যুর সংবাদ শুনেই মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছে বুয়া
নাবিলার মেয়ে হিয়া এখন পুলিশের কাছে
দুই পরিবারে দ্বন্দ্ব, কার কাছে থাকবে নাবিলার ‘ইয়া পাখি’?
বাংলাদেশি ৩৬ জনের মধ্যে ২৬ জন নিহত