‘কর্মক্ষেত্রে নারীদের দক্ষতার জন্য প্রশিক্ষণ প্রয়োজন’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

‘কর্মক্ষেত্রে নারীদের দক্ষতার জন্য প্রশিক্ষণ প্রয়োজন’

জেষ্ঠ প্রতিবেদক ৯:০১ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৮

‘কর্মক্ষেত্রে নারীদের দক্ষতার জন্য প্রশিক্ষণ প্রয়োজন’

তৈরি পোশাক খাতে নারীকর্মীদের নেতৃত্ব ও দক্ষতা উন্নয়নে সঠিক প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। এজন্য তারা কর্তৃত্বে পিছিয়ে রয়েছেন। তাদের দক্ষতা উন্নয়নে সঠিক প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য উদ্যোগ নিতে সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।  

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে দি ওয়েস্টিন ঢাকা’র বলরুমে  ‘কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা: পেশাগত উন্নয়নে সাফল্য ও গতিশীলতা’ শীর্ষক এক আলোচনায় এসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

জাতিসংঘের লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতাবিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন ও ইতালিভিত্তিক আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড বেনেটনের সহযোগিতায় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশ এ আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্তি সচিব মাহমুদা শারমিন বেনু ও শ্রম-কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আশরাফ শামীম। এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দীন আহমেদ, জেন্ডার এক্সপার্ট শামীমা পারভীন ও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) প্রতিনিধি নাবিরা রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিয়া চৌধুরী। সমাপনী বক্তব্য দেন ইউএন ওমেনের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ সোকো ইসাকাওয়া। সঞ্চালনা করেন কেয়ার বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়নের পরিচালক হুমায়রা আজিজ।

প্যানেল আলোচনার মূল বিষয় ছিল পোশাক খাতে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমান অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা। অলোচকরা পোশাক খাতে কর্মক্ষেত্রে নারীদের পেশাগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা এবং সেগুলো দূরীকরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

বক্তারা বলেন, তৈরি পোশাক খাতে নারী কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এ কারণেই কর্মক্ষেত্রে নেতৃত্বসহ নানা দিক দিয়ে তারা এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। তাদের দক্ষতা উন্নয়নে সময়োপযোগী বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিতে হবে। তবেই তাদের নেতৃত্ব, উন্নয়ন ও দক্ষতা বাড়বে।

অনুষ্ঠানে নাবিরা রহমান তার উপস্থাপিত গবেষণাপত্রে নারীদের পদোন্নতির কারণগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণে অনাগ্রহের কারণে ৩১ দশমিক ০৩ শতাংশ নারীকর্মীর পদোন্নতি হয় না। এছাড়াও শিক্ষাগত যোগ্যতার অভাবে ১৬ দশমিক ০৯ শতাংশ, দক্ষতার অভাব এবং কর্মস্থলের পরিবেশ পছন্দ না করার কারণে ১২ দশমিক ৬৪ শতাংশ নারীকর্মী পদোন্নতি বঞ্চিত হন। দীর্ঘক্ষণ কাজ না করার কারণে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং অন্যান্য কারণে ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ নারীকর্মীর পদোন্নতি হয় না। পদোন্নতির প্রয়োজন মনে করেন না ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ নারীকর্মী। এসব কারণে তারা কর্মক্ষেত্রে কর্তৃত্বে পিছিয়ে রয়েছেন।

এছাড়াও সরকারি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও), সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও পোশাক কারখানার কর্মীরা আলোচনায় অংশ নেন।

এমএইচ/টিএটি