সরকারি ব্যয় বেড়েছে ৮.৮%

ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫

সংসদে ত্রৈমাসিক বাজেট

সরকারি ব্যয় বেড়েছে ৮.৮%

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৩:১৩ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৮

সরকারি ব্যয় বেড়েছে ৮.৮%

 

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মহিত চলতি বাজেট বাস্তবায়নের চিত্র সংসদে তুলে ধরে বলেছেন, সরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ, মুদ্রা ও আর্থিক খাত ব্যবস্থাপনার ওপর কোনরূপ বাড়তি চাপ তৈরি করছে না। প্রথম প্রান্তিক শেষে সরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় অনেকটাই কমেছে ১৩.৫। অধিক পরিমাণে সঞ্চয়পত্র বিক্রির ফলে ব্যাংক ব্যবস্থা হতে সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা কমেছে। চলতি অর্থবছর ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণেল লক্ষ্যমাত্রা ২৮ হাজার ২০২ কোটি টাকা।

 

জাতীয় সংসদের সোমবার পেশ করা ত্রৈমাসিক বাজেট প্রতিবেদনে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। পরিশিষ্টসহ ৩১ পৃষ্ঠার ‘বাজেট ২০১৭-১৮: প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও আয় ব্যয়ের গতিধারা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন’-এর ১৮ পৃষ্ঠা পর্যন্ত সংসদে পাঠ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল মুহিত। পরে প্রতিবেদনটি পঠিত ও উপস্থাপিত হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

অর্থমন্ত্রী আবদুল মুহিত বলেন, আমদানী ও সেবাজনিত ব্যয় বৃদ্ধিও কারণে চলতি হিসাবে ঘাটতি তৈরি হলেও বৈদেশিক উৎস হতে অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধির কারণে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে অনুকুল অবস্থা বিরাজ করছে বৈদিশিক মুদ্রা হারের বিনিময় হারের সামন্য অবিচিতি হয়েছে, যা রপ্তানি ও প্রবাস আয়ের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সরকারের অর্থব্যয় বেড়েছে ৮.৮%
সরকারের অর্থব্যয় পরিস্থিতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গত অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় মোট ব্যয় ৮.৮ শতাংশ বেড়েছে। এসময় বাজেটের মোট বরাদ্দের ১১ দশমিক ৭ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। এরমধ্যে অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় হয়েছে বরাদ্দের ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ। আর উন্নয়ন বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) খাতে ব্যয় হয়েছে ১০ দশমিক ২ শতাংশ।

তিনি আরো বলেন, সরকারি ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ২৬৭ কোটি টাকাকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছর অনুন্নয়ন-ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১১ শতাংশ। আর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। এর মধ্যে তিন মাসে ব্যয় হয়েছে ৪৬ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা। এসব ব্যয়ের মধ্যে অনুন্নয়নসহ অন্যান্য ব্যয় ৩৬ হাজার ১২৯ কোটি টাকা। সার্বিকভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মোট এডিপি বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬২ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়েছে।

আয় বেড়েছে ১৭.১ শতাংশ
রাজস্ব আয় প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ বিগত অর্থ বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭.১ শতাংশ বেশি। এসময় রাজস্ব আহরাণের পরিমাণ ৫১ হাজার ১২৮ কোটি টাকা। যা বাজেটের লক্ষ্য মাত্রার ১৭.৮ শতাংশ।

বাজেটের ঘাটতি ৫ শতাংশ
বাজেটের ঘাটতি পরিস্থিতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত অর্থ বছর শেষে মোট বাজেট ঘাটতি দাঁড়ায় জিডিপির ৩.১ শতাংশ। চলতিঅর্থ বছরে বাজেট ঘাটতি (অনুদান ব্যতিত) প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫ শতাংশ। ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সূত্র হতে জিডিপির ২.৩ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে জিডিপির ২.৭ শতাংশ সংস্থানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে বাজেটে উদ্ধৃত্ত রয়েছে ৪ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা। বিগত অর্থ বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৮১৭ কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক বর্হিভ’ত উৎসেরমধ্যে প্রথম প্রান্তিকে জাতীয় সমঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার ৪২.৩ শতাংশ। জিডিপির শতাংশ হিসেবে সরকারি ঋণের স্থিতি সহনীয়।

মুদ্রা সরবরাহে প্রবৃদ্ধি কমেছে ৩ শতাংশ
মুদ্রা ও ঋণ পরিস্থিতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে উচ্চ হারের অন্তভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি আমারা কাজ করে যাচ্ছি। প্রথম প্রান্তিক শেষে মুদ্রা সরবরাহের বছরভিত্তিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০.৪ শতাংশ। যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৩.৪ শতাংশ। একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণ সরবরাহ বেড়েছে ১৭.৮ শতাংশ।

সুদ হার কমেছে
সুদ হার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে সুদেরর হারের নিম্নমুখী গতিধারা বজায় আছে। তফসিলি ব্যাংকসমূহের আমানতের সুদের হার প্রান্তিক শেষে ৪.৯ শতাংশে নেমে এসেছে। গত অর্থ বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫.৪ শতাংশ। অপরদিকে ব্যাক ঋণের সুদের হার ৪.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সুদ হারের নিম্নমুখী ধারা বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে সাহায্য করবে।

মূল্যস্ফীতি কমেছে
মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রথম প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতি ৫.৫ তাংশে নেমে এসেছে। যা আগের অর্থ বছরের একই সময়ে ছিল ৫.৭ শতাংশ।

রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে
বৈদেশিক খাত সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে বিশ্ব অর্থনীতির পুণরুদ্ধার প্রক্রিয়া তরান্বিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরো অঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিরগতি বাড়ায় রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। চলতি অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭.৬ শতাংশ। যা আগের বছরে একই সময়ে ছিল ৩.৮ শতাংশ।

প্রবাস আয় বেড়েছে
প্রবাস আয় প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবাস আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল নেতিবাচক। কিন্তু চলতি অর্থ বছরে তা গত অর্থ বছরের তুলনায় ৪.৪ শতাংশ বেড়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অনুকূল
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী আবদুল মুহিত বলেন, আমদানী ও সেবাজনিত ব্যয় বৃদ্ধিও কারণে চলতি হিসাবে ঘাটতি তৈরী হলেও বৈদেশিক উৎস হতে অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধির কারণে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে অনুকূল অবস্থা বিরাজ করছে। সেপ্টেম্বও শেষে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২.৮ বিলিয়ন ডলার, যা দিয়ে ৭.৯ মাসের আমদানী ব্যয় মিটানো সম্ভব। বৈদেশিক মুদ্রা হারের বিনিময় হারের সামান্য অবিচিতি হয়েছে, যা রপ্তানি ও প্রবাস আয়ের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অর্থমন্ত্রী চলতি মার্চের মধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আশার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, দ্রুত ও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশের অর্থনীতিরসহ জাত সক্ষমতা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলস্বরূপ বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের বৈশ্বিক রোড মডেল। তাই যে যাই বলুক সরকারের ঘোষিত অভিষ্ঠ লক্ষ্য পূরণ হবে ইনশাল্লাহ।

এইচকে/এএস