সরছে না সচিবালয়

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

সরছে না সচিবালয়

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:২৮ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৮

সরছে না সচিবালয়

দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে সচিবালয় সরানোর ঢাকঢোল পেটানো হলেও শেষমেশ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তর হচ্ছে না। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা গেছে, সচিবালয়ের অভ্যন্তরে ‘অর্থ ভবন’ নামে একটি ২০তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ভবনটি আপাতত চারতলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অর্থ বিভাগের একটি উইং সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে ২০তলা ভবনের ১২তলায় এই উইং দীর্ঘদিন কাজ করেছে। এই ১২তলায় অনেকে আসার জন্য দেনদরবার করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কারণ, এখনো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দুই একটি উইং সচিবালয়ের বাইরে পরিবহন পুলে কাজ করছে। একইভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি শাখা, আইন-বিচার মন্ত্রণালয়ের একটি শাখা পরিবহন পুলে কাজ করছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় মূল সচিবালয়ের বাইরে থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সচিবালয়ের ভেতরে অফিস করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে সেখানে অফিস করার আগ্রহের কথা জানান।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা সরকারি কর্মকর্তারা এক দুই বছর পরেই বিভিন্ন স্থানে বদলি হয়ে যাই। এখানকার পিয়নরা তো বদলি হয় না। তারা মন্ত্রণালয়ের ভেতরে অফিস করার প্রত্যাশা করেন। যদি নতুন ভবন হয় তবে তারা যেতে পারবেন নিঃসন্দেহে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সচিবালয় স্থানান্তর কাজের একটি প্রকল্পও সম্প্রতি গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে কোনো ধরনের বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। বছরের পর বছর বরাদ্দবিহীন এই প্রকল্প এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। কিন্ত কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। চলতি বছরেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। কিন্তু সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এটি আপাতত শেরেবাংলা নগরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
সূত্র জানায়, সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জন্য নির্মিত ভবনের ১২তলা নিয়ে সর্বোচ্চ মহল চিন্তাভাবনা করছে। এ কারণে শেষমেশ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বর্তমানে খালি ১২তলা প্রধানমন্ত্রীর অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করার চিন্তাভাবনা চলছে। এ জন্য পূর্ত বিভাগ ইতোমধ্যে সংস্কারের কাজ শুরু করেছে।

জানা গেছে, এই ১২তলায় কেবিনেট কক্ষ হতে পারে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী অদূর ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভার বৈঠকও করতে পারেন। দীর্ঘদিন সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও যানজট কমাতে প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি তেজগাঁও কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক করছেন। কারণ, বর্তমান মন্ত্রিসভা কক্ষটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় ৬ মাস ধরে মন্ত্রিসভার বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এদিকে সচিবালয়ে আরও একটি ২০তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে পূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। সচিবালয়ের ক্যান্টিনের কাছাকাছি বেশ কয়েকটি টিনশেড অফিস রয়েছে। সেই টিনশেডগুলো অপসারণ করে এই স্থানে ২০তলা ভবন নির্মাণের জন্য অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই ২০তলা ভবন নির্মাণের পর সচিবালয় আর শেরেবাংলা নগর নিয়ে যাওয়া হবে না বলে আভাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এডিপির বই থেকে শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়টি বিলুপ্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের জন্য লুই আইক্যানের নকশাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে একনেক বৈঠকে সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করেননি। এ ছাড়াও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এখন সচিবালয়ের মূল ভবনে ভেতরে নতুন করে ভবন নির্মাণের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে যানজটের কথা চিন্তা করে বিষয়টি ভাবা হচ্ছে।’

আরজি/