দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে সন্ত্রাসী আতঙ্ক

ঢাকা, রবিবার, ২৬ মে ২০১৯ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে সন্ত্রাসী আতঙ্ক

ফেনী প্রতিনিধি ১০:০১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০১৯

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে সন্ত্রাসী আতঙ্ক

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে দেশটির কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত ১৫ দিনে শুধু ফেনী জেলার চার প্রবাসী যুবক ওই সন্ত্রাসীদের হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া এক মাসের একুট বেশি সময়ের মধ্যে নোয়াখালী জেলার দুই প্রবাসী খুন হয়েছেন।

স্থানীয় সময় গত শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জোহানেসবার্গের সোয়েটো লোকেশনের এলডেরাডো পার্কের একটি দোকানে নাজমুল হুদা বিপ্লব (২৫) নামে এক প্রবাসীকে গুলি করে হত্যা করে কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীরা। তিনি ফেনীর দাগনভূঞা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর শ্রীধরপুর গ্রামের হোসেন সেরাং বাড়ির আবদুর রাজ্জাক প্রকাশ রেজু মিয়ার ছেলে। 

নিহতের মামা জাহিদ হোসেন টিপু জানান, ঘটনার দিন এলডেরাডো পার্কের দোকানে একা ছিলেন তিনি। রাত ৮টার দিকে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা দোকানে লুটপাট চালানোর সময় বিপ্লব বাধা দেন। এ সময় সন্ত্রাসীরা গুলি করলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন বিপ্লব। 

নিহতের বাবা আবদুর রাজ্জাক জানান, পাঁচ বছর পর এবার দেশে ফিরে বিয়ে করার কথা ছিল বিপ্লবের। 

গত ২৭ জানুয়ারি রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার জুলু নাটাল প্রদেশের পিটা মেরিজবার্গ শহরে প্রবাসী মোহাম্মদ শাহ পরান (৩০) হত্যার শিকার হন। তিনি ফেনী শহরের মহিপাল মধ্যম চাডিপুর ভূঁইয়া বাড়ির পেয়ার আহাম্মদ ভূঁইয়ার ছেলে। দেশে তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। 

নিহতের ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে দেশটিতে পাড়ি জমান শাহ পরান। ঘটনার দিন এক সুপার মার্কেটে তার ভাইয়ের দোকানের ক্যাশ কাউন্টারে স্থানীয় এক কৃষ্ণাঙ্গের সঙ্গে দামাদামি করাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয় তার। একপর্যায়ে হাতাহাতির সময় কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীরা শাহ পরানের বুকে ছুরিকাঘাত করে। 

পরে তাকে স্থানীয় এক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

গত ২৩ জানুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার নর্থ-ওয়েস্ট প্রদেশের রাস্টেনবার্গ এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মহিন উদ্দিন (৪০)। 

মহিনের ভাই হুমায়ুন কবির জানান, ঘটনার আগে থেকে কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীরা চাঁদার দাবিতে মহিনকে হুমকি দিয়ে আসছিল। ঘটনার দিন রাতে কয়েকজন সন্ত্রাসী দোকানে লুটপাট চালানোর সময় মহিন বাধা দিলে তাকে গুলি করে হত্যা করে মরদেহ ফ্রিজে রেখে যায় সন্ত্রাসীরা। 

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি কৃষ্ণাঙ্গদের গুলিতে লিয়াকত আলী (৫০) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হন। লিয়াকত নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছের ছেলে। 

তার দুই দিন আগে (৬ জানুয়ারি) দেশটিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মো. নূর আলম রকি (২৭) নামে বাংলাদেশি এক যুবক নিহত হন। 

নিহত রকি ফেনীর দাগনভূঁইয়ার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের আবদুল মালেকের ছেলে। 

তার আগে গত ২৯ ডিসেম্বর মো. মিলন (২৪) নামে এক বাংলাদেশি যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই সময় তারা আরো একজনকে কুপিয়ে জখম করে। 

নিহত মিলন নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। 

এ ছাড়া গত বছরের ৬ অক্টোবর দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী টিটু খানকে (৩৫) খুন করে তার সর্বত্র লুটে নেয় দুর্বৃত্তরা।

তিনি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের মৃত হাসমত খানের ছেলে। 

দীর্ঘদিন ধরে দেশটির জোহানেসবার্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর গ্রামের আবুল হাসান রাজীব (৩০)। 

সোমবার এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘প্রিটোরিয়া, জোহানেসবার্গ লোকেশন, সয়েটো, ব্লুম কনটেইনসহ প্রায় সব এলাকাতেই প্রবাসীরা নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। দেশটিতে ছিনতাই, ডাকাতির পরিমাণ বেশি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে শ্রমিকের চাহিদা কম থাকায় প্রবাসীরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে কনটেইনারে ভ্রাম্যমাণ দোকান দিয়ে ব্যবসা করে। এসব দোকানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় দুর্ঘটনা আরও বাড়ছে।’ 

এএএম/আরপি