ইলিশ বাঁচাও ও পর্যটন উৎসব উদ্বোধনে এবার দীঘা

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫

ইলিশ বাঁচাও ও পর্যটন উৎসব উদ্বোধনে এবার দীঘা

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:২৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৮

ইলিশ বাঁচাও ও পর্যটন উৎসব উদ্বোধনে এবার দীঘা

আন্তর্জাতিক ইলিশ বাঁচাও ও পর্যটন উৎসবের উদ্বোধন আজ শনিবার। এদিন বিকেলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সমুদ্র সৈকত দীঘায় এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন কবি সালেম সুলেরী।

আজ শুরু হয়ে এ উৎসব চলবে আগামীকাল রোববার পর্যন্ত।

আন্তর্জাতিক ইলিশ বাঁচাও ও পর্যটন উৎসব সম্পর্কে লিখেছেন উদ্বোধক কবি সালেম সুলেরি।

‘আমি ইহা সকল বাঙালি সমীপে উৎসর্গ করিলাম’

আবার উড়ানে কলকাতা উড়াল। এবার পশ্চিমবঙ্গ এবং উড়িষ্যা রাজ্যে। প্রধান লক্ষ্য: আন্তর্জাতিক ইলিশ বাঁচাও ও পর্যটন উৎসব। পয়লা সেপ্টেম্বর ২০১৮, সমুদ্র সৈকত দীঘায়। বিকেলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবো আমি (সালেম সুলেরী)। থাকবেন খ্যাতনামা কবি-লেখক-বুদ্ধিজীবী-মিডিয়াব্যক্তিত্ব-সংস্কৃতিসেবী-উদ্যোক্তা বৃন্দ।

অনুষ্ঠানস্থল: নিউ দীঘা, সিন্ধুতারা সেবা কেন্দ্র, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ।

শনিবার গোধূলী লগ্নে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। পরদিন রোববার দিনমান সমুদ্র অবগাহন। তালসারি এবং উড়িষ্যা এলাকা পুনঃপরিদর্শন। কারণ, ভারতে ইলিশের প্রজনন মূলত এই দুই রাজ্যে। পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যার সমুদ্র-নদী ঘিরে। ইলিশ মূলত সামুদ্রিক মাছ। তবে ডিম পাড়ে বিশাল নদীর মোহনায়। বাংলাদেশের পদ্মা-মেঘনা আর গোদাবরী নদীতে রয়েছে ইলিশ-প্রাচুর্য। পদ্মার ইলিশের স্বাদ এখন পৃথিবীখ্যাত। ৫০ রকমের রন্ধনপ্রণালী রয়েছে ইলিশিত আয়োজনে। কথায় বলে ইলিশ মাছের তিরিশ কাটা। সর্ষে ইলিশ, ভাপা ইলিশ বা ইলিশ পাতুরি। অথবা কড়া ভাজা, দোপেয়াজা আর ঝোল ভীষণ জনপ্রিয়। কচুর পাতার সাথে ইলিশ মাছের কাটা। অথবা ইলিশ-মাথার ঘণ্ট অসাধারণ আয়োজন। আরেকটি মজার ডিশ বেশ লোভনীয়। ডিমভরা ইলিশ আর সুগন্ধি চালের মিশেল। এটি ‘ভাতুরি বা ইলিশপোলাও’ নামেও খ্যাত।

প্রবাসেও ইলিশ চর্চা অনেক। বাংলাদেশের বাঙালিরা হাজার বছর ধরে ইলিশ সংস্কৃতি ফেরি করছে। অনেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম-ত্রিপুরায় থিতু হয়েছেন। আর ছড়িয়ে দিয়েছেন ইলিশমমত্ব। পৃথিবীর নানান দেশেও ‘ইলিশ-সুবাস’ ছড়াচ্ছে প্রবাসমানিকেরা।

পশ্চিমবঙ্গের ইলিশ ও পর্যটন উৎসব বেশ সাড়া ফেলেছে। ডায়মন্ড হারবার প্রেসক্লাব আর ‘কুসুমের ফেরা’ কাগজের ধারাবাহিক উদ্যোগ। ইচ্ছে আর আমন্ত্রণ থাকলেও কোনবার অংশ নিতে পারিনি। মধ্যমণি কবি-সাংবাদিক সাকিল আহমদ তবুও ডাক দিয়ে যায়। এবার আর কোনভাবেই ‘না’ নয়। এবার সরাসরি অংশগ্রহণ 'দীঘা' সমুদ্র সৈকতে। যেখানে ভারতীয় ইলিশের সর্ব্বোচ্চ প্রজনন, প্রধান আড়ৎ। বলা চলে বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় ইলিশাঞ্চল। পাশের উড়িষ্যাও একই আবেদন নিয়ে আলোড়িত।

দীঘা সৈকতে প্রথম গিয়েছিলাম ২০১২ সালে। প্রথাবিরোধী কবি-রাজনীতিক অমৃত মাইতির আমন্ত্রণে। সাহিত্যপ্রধান সফল অভিযাত্রা ছিলো সেটি। সেবার দলে ছিলেন বেশ ক’জন কৃতীমুখ। সর্বকবি আসাদ চৌধুরী, আসলাম সানী, আনজির লিটন, মাহবুবুল আলম এবং ডায়মন্ড হারবার-খ্যাত সংগঠক-কবি সাকিল আহমদ।

এবারও অমৃতদা, সাকিল ও উদ্যোক্তাবৃন্দের জোর আমন্ত্রণ। অতিথি সমন্বয় করছেন কবি অরূপ পান্তি, ড. ভারতী বন্দ্যোপাধ্যায়। আশাকরি, ইলিশ ব্যঞ্জনাকেন্দ্রিক সাহিত্য উৎসব রসস্বাদে অতুলনীয় হবে।

ইলিশকে আমি বরাবর পর্যটন-প্রধান মৎস্য বলি। ডিম ছাড়তে ১২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে। সমুদ্র থেকে নদীতে, আবার সমুদ্রযাপন। এমন পরিব্রাজক মৎস্যপ্রজাতি ঘিরে অনেক কবিতা লিখেছি।

‘ইলিশিত’ নামে আমার একটি সনেট এখানে-সেখানে ব্যাপক প্রচারিত। যতোই জানতে পারি, বিস্মিত হই গুণপনা দেখে। আমরা বাংলাদেশ-ভারত-প্রবাসবাংলা মিলিয়ে ‘তিনবাংলা’ করি। ইলিশ যেন এই বিশ্ববাংলা আন্দোলনের রূপোলি অবয়ব। খাদ্য ও স্বাদ-সংস্কৃতির সেতুবন্ধ-বান্ধব সম্পদ। সেই সম্পদ সুরক্ষায় ইলিশ বাঁচাও ও পর্যটন উৎসব। সেই পবিত্র উৎসবের উদ্বোধকের গুরুদায়িত্বে আমার নাম। ‘আমি ইহা সকল বাঙালি সমীপে উৎসর্গ করিলাম’।

ইলিশ বাঁচাও ও পর্যটন উৎসবে যোগ দিচ্ছে ‘তিনবাংলা’। পাঁচ সদস্যের একটি সংস্কৃতি ও সংগঠক-প্রধান দল। সকলে সাহিত্য-সংস্কৃতিসেবী আবার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে পটু। ইলিশ সুরক্ষায় ও পর্যটন-প্রসারে ভূমিকা রাখতে সকলে আগ্রহী।

যোগদানের তালিকাটি নিম্নরূপ:

১) সালেম সুলেরী, কবি-কথাকার-সম্পাদক (গ্লোবাল সভাপতি, তিনবাংলা) : উৎসব উদ্বোধক

২) ফারহানা সুমি, সংগঠক-আবৃত্তিশিল্পী (যুগ্ম সম্পাদক, তিনবাংলা-বাংলাদেশ) : পঞ্চকন্যা পদকে নির্বাচিত

৩) রফিকুল ইসলাম, সংগঠক-সংস্কৃতিসেবী (প্রেসিডিয়াম সদস্য, তিনবাংলা, শিলিগুড়ি-দার্জিলিং,পশ্চিমবঙ্গ) : সম্মানিত অতিথি

৪) এম. ময়নুল হক (প্রেসিডিয়াম সদস্য, তিনবাংলা বৃহত্তর রংপুর। সাধারণ সম্পাদক, শহীদ ধীরাজ-মিজান স্মৃতি পাঠাগার, ডোমার):বিশেষ অতিথি

৫) সেলিম রেজা, সংস্কৃতিসেবী ও সংগঠক, তিনবাংলা-ইলিশ উৎসব অভিযাত্রা (বিদায়ী কমিশনার, ডোমার পৌরসভা, নীলফামারী, রংপুর)।

অনুলিখন- সীমান্ত বাঁধন চৌধুরী

এসবি