হতাশা ও একাকীত্ব মোকাবেলায় নবীজির ৬ সুন্নাহ

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

হতাশা ও একাকীত্ব মোকাবেলায় নবীজির ৬ সুন্নাহ

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:৪৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৯

হতাশা ও একাকীত্ব মোকাবেলায় নবীজির ৬ সুন্নাহ

হতাশা, নিঃসঙ্গতা, বিষণ্ণতা, একাকীত্ব––সময় ও পরিস্থিতির নানা চক্রে এসব আমাদের জীবনে আসে। এ থেকে উত্তরণের জন্য বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ–বিশেষত আমাদের তরুণ প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সময় ব্যয় করে।

কিন্তু গবেষকদের মতে, এভাবে একাকীত্ব দূর হয় না। এভাবে বরং মানুষ আরো বেশি একাকী হয়ে যায়। হতাশা ও বিষণ্ণতা আরও ঘনীভূত হয়।

তাই আমাদের ফিরে দেখতে হবে সর্বকালের সেরা মানুষ, প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) উম্মতের জন্য এ ব্যাপারে কী সুন্নাহ রেখে গেছেন।    

নিম্নে একাকীত্ব ও হতাশা মোকাবেলায় নবীজি (সা.) এর ছয়টি সুন্নত সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

১. জামাআতে নামায আদায়
মুসলমান হিসেবে আমাদেরকে পাঁচ ওয়াক্ত নামায মসজিদে গিয়ে জামাআতের সঙ্গে আদায় করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি সপ্তাহে একবার সমাজের সকলের উপস্থিতিতে বড় সমাবেশে জুমার নামায আদায়ের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

জামাআতে নামায আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্কার লাভ ছাড়াও আমরা সমাজের অন্য সকলের সাথে যোগাযোগের সুযোগ পাই এবং আমাদের একাকীত্ব দূর করতে পারি।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘একাকী নামায আদায়ের থেকে জামাআতে নামায আদায় সাতাশ গুণ বেশি প্রতিদানের।” (বুখারী ও মুসলিম)

২. সালাম বিনিময়
রাসূল (সা.) সালামের ব্যাপক প্রচলনের জন্য উৎসাহিত করেছেন। চেনা হোক বা অচেনা––সকলকেই সালাম দিতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, “আমি কি তোমাদের এমন আমলের কথা বলবো না যার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠবে? তোমরা বেশি বেশি একে অন্যকে সালাম করো।” (মুসলিম)

সালামের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির সাথে অপর একজনের সম্পর্কের সূচনা হয়। এর মাধ্যমে মানুষ তার একাকীত্ব থেকে বের হতে পারে।

৩. মানুষের সাথে যোগাযোগ
একাকীত্ব কাটাতে মানুষের সাথে বেশী বেশী সম্পর্ক তৈরি করুন। তার খোঁজখবর নিন এবং তার  প্রয়োজন সম্পর্কে জানুন। মানুষের সাথে মেলামেশা ও যোগাযোগে আপনার মানসিক হতাশা ও একাকীত্ববোধ দূর যাবে। 

নবীজি (সা.) তার আশপাশের লোকজন ও প্রতিবেশীদের সাথে সবসময় যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনের খোঁজ-খবর নিতেন।

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি মসজিদে নববী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতো। তার মৃত্যুর পর রাসূল (সা.) তাকে না দেখে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। রাসূল (সা.) কে যখন তার মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হলো, তিনি তখন দুঃখ পেয়ে বললেন, কেউ আমাকে আগে জানালে না? আমাকে তার কবরের কাছে নিয়ে চলো। রাসূল (সা.) কে তার কবরের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি তখন তার জন্য দুআ করেন। (বুখারী ও মুসলিম)

৪. মানুষকে ভালোবাসুন
রাসূল (সা.) মানুষের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ও প্রচারে উৎসাহিত করেছেন। এর মাধ্যমে আপনি নিজে যেমন একাকীত্ব ও হতাশা থেকে মুক্ত হবেন, তেমনি অন্যকেও এ থেকে মুক্ত থাকতে সাহায্য করবেন।

৫. সাক্ষাত করা
সাধারণ যোগাযোগের পাশাপাশি রাসূল (সা.) আমাদের নিজেদের মাঝে বিশেষভাবে সাক্ষাতের জন্যও উৎসাহিত করেছেন। একজন অপরজনের বাড়িতে গিয়ে সাক্ষাতের মাধ্যমে একজন অপরজনকে উত্তমভাবে জানতে পারে, যার ফলে উভয়ের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি হয়। এভাবে মানুষের মধ্যে পাস্পরিক সাক্ষাৎ ও যোগাযোগ মানুষকে হতাশা ও একাকীত্ব থেকে দূরে রাখে।

৬. কঠিন সময়ে একত্রে থাকুন

নবীজি (সা.) বিপদ ও কঠিন সময়কে সম্মিলিতভাবে মোকাবেলার উপদেশ দিয়েছেন। কেউ যদি কখনো কোনো বিপদে পড়ে অথবা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যায়, তবে আমাদের উচিত হবে তার পাশে দাঁড়ানো। এতে সে নিজেকে একাকী মনে করবে না এবং হতাশাও তার মাঝে আসবে না।

নবীজি (সা.) এর হাদীস থেকে জানা যায়, যে ব্যক্তি তার ভাই/বোনের অসুস্থতায় বা যেকোনো বিপদ-আপদে তার পাশে দাঁড়ায়, তবে আল্লাহও তার বিপদে তার পাশে দাঁড়ান।

এমএফ/

 

হাদিসের জ্যোতি: আরও পড়ুন

আরও