জিলহজের প্রথম ১০দিন যে পাঁচ কারণে গুরুত্বপূর্ণ

ঢাকা, ২৩ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

জিলহজের প্রথম ১০দিন যে পাঁচ কারণে গুরুত্বপূর্ণ

পরিবর্তন ডেস্ক ৮:২৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০২, ২০১৯

জিলহজের প্রথম ১০দিন যে পাঁচ কারণে গুরুত্বপূর্ণ

জিলহজ মাসের প্রথম দশদিন বিশেষভাবে গুরুত্ববহ। এ সম্পর্কে আমাদের অধিকাংশেরই কিছু না কিছু জানা আছে। আলেমগন সাধারণ মানুষকে এই দশদিন বিশেষ ইবাদতের মধ্য দিয়ে পালন করতে উৎসাহ দিয়ে থাকেন। নিম্নে এর পাঁচটি কারণ উল্লেখ করা হল–

১. শ্রেষ্ঠতম দিন

রাসূল (সা.) এর বিভিন্ন হাদীসে এই দিনগুলোকে বছরের শ্রেষ্ঠতম দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, “পৃথিবীর বুকে শ্রেষ্ঠতম দিনগুলো হল এই দশদিন (যিলহজের প্রথম দশদিন)।”–মুসনাদে বাযযার, হাদীস নং:১১২৮

২. সৎকাজের জন্য উত্তম সময়

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, “এমন কোন দিন নেই যার সৎকাজগুলো আল্লাহর কাছে এই দশদিনের কাজের চেয়ে অধিক প্রিয়।”

রাসূল (সা.) কে প্রশ্ন করা হলো, “হে আল্লাহর রাসূল! এমনকি আল্লাহর পথে জিহাদও নয়?”

রাসূল (সা.) উত্তর দিলেন, “আল্লাহর পথে জিহাদও নয়, যদি না কোন ব্যক্তি নিজে তার সম্পদ সহ জিহাদের জন্য বের হয় এবং শূন্য হাতে ফিরে আসে।”–বুখারী, হাদীস নং:৯৬৯  

৩. কুরআনে আল্লাহর শপথ গ্রহণ

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে যিলহজ্বের প্রথম দশের রাতের কসম খেয়েছেন- “শপথ ভোরবেলার, শপথ দশ রাত্রির”।-সূরা ফজর :১-২

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) সহ অধিকাংশ মুফাসসিরীনে কেরামের মতে উল্লেখিত আয়াতে দশ রাত্রি দ্বারা যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ রাতকেই বুঝানো হয়েছে। আর হাফেজ ইবনে কাসীর (রহ.) এটাকেই বিশুদ্ধ মত হিসাবে অভিহিত করেছেন।-তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/৫৩৫-৫৩৬

৪. কুরবানী

এই দশদিনের মধ্যে দশম তারিখ কুরবানীর দিন। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এদিন সামর্থ্যবান মুসলমানরা কুরবানী দিয়ে থাকেন। আল্লাহর দৃষ্টিতে কুরবানীর এই দিনটি শ্রেষ্ঠতম এক দিন।  

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে কুরাত (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) যিলহজের দশ তারিখকে আল্লাহর দৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠতম দিন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 

৫. আরাফাতের দিন

জিলহজের এই দশদিনের মধ্যে বিশেষ একটি দিন হল ৯ই জিলহজ, আরাফাতের দিন। হজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ এই দিন, যেদিন হাজীরা সারাদিন মক্কা থেকে কিছু দূরে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন। এই দিন আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর ক্ষমা ও রহমত বর্ষণ করেন।

হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, “আরাফাতের দিনের মত আর কোনদিন আল্লাহ তার এত অধিক বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন না।” (মুসলিম, হাদীস নং:২৪৯১)

এমনকি যারা হজের যাত্রা থেকে বঞ্চিত, তারাও এইদিনের রহমত থেকে বঞ্চিত হয় না। আরাফাতের দিনের রোযা বান্দার পূর্বের এক বছরের সমস্ত গুনাহকে মাফ করে দেয়।

সুতরাং, আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার এই সুযোগকে আমাদের উচিত বেশি বেশি ইবাদতের মাধ্যমে কাজে লাগানোর জন্য চেষ্টা করা। আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।

এমএফ/

 

হাদিসের জ্যোতি: আরও পড়ুন

আরও