যিলহজের প্রথম ১০দিনের ফযীলত ও আমল

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

যিলহজের প্রথম ১০দিনের ফযীলত ও আমল

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০১৯

যিলহজের প্রথম ১০দিনের ফযীলত ও আমল

সৃষ্টির শুরু থেকে আল্লাহর গণনায় মাস ১২টি। এর মধ্যে চারটি মাসকে তিনি বিশেষভাবে সম্মানিত করেছেন। তন্মধ্যে যিলহজ্ব মাস আন্যতম। আবার যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের গুরুত্ব ও ফযীলত অপরিসীম। আল্লাহ তাআলা জিলহজের প্রথম দশের রাতের শপথ করেছেন-

وَالْفَجْرِ وَلَيَالٍ عَشْرٍ

অর্থ : শপথ প্রভাতের, শপথ দশ রাত্রির।-সূরা ফজর :১-২

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) সহ অধিকাংশ মুফাসসিরীনে কেরামের মতে উল্লেখিত আয়াতে দশ রাত্রি দ্বারা যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ রাতকেই বুঝানো হয়েছে।আর হাফেজ ইবনে কাসীর (রহ.) এটাকেই বিশুদ্ধ মত হিসাবে অভিহিত করেছেন।-তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/৫৩৫-৫৩৬

এছাড়াও আরও বিভিন্ন হাদীসে এই দশকের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। এজন্য কোন কোন আলেমের মতে রমযানের শেষ দশকের চেয়েও জিলহজের প্রথম দশকের ফযীলত বেশি। নিম্মে এই দশকের ফযীলত সম্বলিত হাদীস পেশ করা হল-

১। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,

مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ يَعْنِي أَيَّامَ الْعَشْرِ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟ قَالَ: وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، إِلَّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ، فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ

অর্থ : আল্লাহ তাআলার নিকট জিলহজের দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় অন্য কোন দিনের আমল নেই। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর রাস্তার জিহাদও এর চেয়ে উওম নয়? তিনি বললেন, না,আল্লাহর রাস্তার জিহাদও নয়। তবে ঐ ব্যক্তির জিহাদ এই দশ দিনের আমলের চেয়ে উত্তম, যে নিজের জান মাল নিয়ে আল্লাহর রাস্তার জিহাদে বের হয়েছে, অতঃপর কোন কিছুই নিয়ে ফিরে আসেনি।-আবূ দাউদ, হাদীস নং:২৪৩৮; বুখারী, হাদীস নং:৯৬৯

২। হযরত জাবের (রা.) সূত্রে বর্ণিত অপর হাদীসে এসেছে,

قال رسول الله صلي الله عليه و سلم أَفْضَلُ أَيَّامِ الدُّنْيَا أَيَّامُ الْعَشْرِ، عَشْرِ ذِي الْحِجَّةِ، قَيلَ: وَلَا مِثْلُهُنَّ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟ قَالَ: لَا مِثْلُهُنَّ فِي سَبِيلِ اللَّهِ , إِلَّا رَجُلٌ عَفَّرَ وَجْهَهُ فِي التُّرَابِ.

অর্থ: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দুনিয়ার সর্বোত্তম দিনগুলো হল জিলহজের দশ দিন । প্রশ্ন করা হল আল্লাহর রাস্তার জিহাদও কি তার সমতুল্য নয়? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তার জিহাদও তার সমতুল্য নয়। তবে ঐ ব্যক্তি, যার চেহারা ধুলিযুক্ত হয়েছে। (অর্থাৎ যে শাহাদাত লাভ করেছে তার জিহাদ এই দশকের আমলের চেয় উত্তম)-মুসনাদে বাযযার, হাদীস নং:১১২৮

উপরোল্লেখিত আয়াত এবং হাদীসদ্বয় দ্বারা জিলহজের প্রথম দশকের গুরুত্ব ও ফযীলত দিবালোকের ন্যয় স্পষ্ট হয়ে উঠে। এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে দ্বীনের সর্বাধিক উঁচু আমল আল্লাহর রাস্তার জিহাদ থেকেও এই দশ দিনের আমল উত্তম হয়ে থাকে।

জিলহজের প্রথম ১০ দিনের আমল
জিলহজের চাঁদ উদিত হওয়ার পর থেকেই মুসলিম উম্মাহর জন্য নিম্নোক্ত আমলগুলো করা সুন্নত–

১. তাহলিল তথা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ অধিক হারে পড়া।
২. তাকবির পড়া।
৩. বেশি বেশি জিকির করা।
৪. ১০ তারিখের আগ পর্যন্ত রোযা রাখা। বিশেষত আরাফার দিন রোযা রাখা।
৫. কিয়ামুল লাইল তথা রাত্রি জাগরণ করা। কারণ প্রতিটি রাতের বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা শবেকদরে ইবাদতের সওয়াব দেবেন।
৬. চুল, নখ ইত্যাদি না কাটা।
৭. সদকা তথা দান-খয়রাত করা।
. তওবা করা। বিশেষ করে আরাফার দিন আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। কেননা সেদিন আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের এত বেশি ক্ষমা করেন, যা বছরের অন্য কোনো দিন করেন না।
৯. ১০ জিলহজ কুরবানি করা। যদি কোনো কারণে সেদিন কুরবানি করা সম্ভব না হয়, তাহলে ১১ ও ১২তম তারিখ সূর্যাস্তের আগেই কুরবানি করা যাবে।

ওপরে বর্ণিত আমলগুলোর মধ্যে জিলহজের চাঁদ উদিত হওয়ার পরপরই তিনটি কাজ করা সুন্নত–

১. কুরবানির পশু জবেহ না করা পর্যন্ত নখ, চুল ইত্যাদি না কাটা।
২. ১০ তারিখের আগ পর্যন্ত রোযা রাখা।
৩. রাতে যথাসম্ভব জিকির ইত্যাদি নফল ইবাদত করা।

তিনটি কাজ করা ওয়াজিব

১. সামর্থ্যবান লোকের জন্য কুরবানি করা।
২. ঈদের নামাজ পড়া। তিন. তাকবিরে তাশরিক বলা।

আসলে সব কিছুর একটা মৌসুম থাকে। আল্লাহ তাআলা ইবাদতে বান্দার অধিক পরিমানে সওয়াব অর্জন ও নৈকট্য লাভের জন্যেও বেশ কিছু মৌসুম করে দিয়েছেন। আশারায়ে জিলহজ তথা জিলহজের ১ম দশক এর মধ্যে অন্যতম যাতে বান্দা এ সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারে। রাব্বুল আলামিন তাওফিক দান করুন। আমীন।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
জিলহজের ১ম দশকে কুরবানিদাতার বিশেষ আমল

 

হাদিসের জ্যোতি: আরও পড়ুন

আরও