সাফল্য অর্জনে নবী-জীবনের পাঁচ নীতি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সাফল্য অর্জনে নবী-জীবনের পাঁচ নীতি

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:৫৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০১৯

সাফল্য অর্জনে নবী-জীবনের পাঁচ নীতি

প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ আর প্রতিযোগিতার পৃথিবীতে সফলতার পেছনে ছুটছি সবাই। তবে সবার সফলতার মানদণ্ড এক নয়, পথ ও পদ্ধতিও অভিন্ন নয়। অধিকাংশ মানুষ তো ছুটছে কোন মহৎ লক্ষ্য ছাড়াই স্রেফ পার্থিব জীবনের ভোগকে বৃদ্ধি করতে। কিন্তু মুমিনের জীবনে লক্ষ্য থাকবে দুনিয়া ও আখিরাত তথা উভয় জাহানেই সফল হওয়া।

পৃথিবীর সকল মানুষের মধ্যে সবচে সফলতম মানুষ ছিলেন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)। গ্রন্থকার মাইকেল এইচ হার্টের ভাষায়, ‘তিনি ইতিহাসের একমাত্র ব্যক্তি যিনি ধর্মীয় ও পার্থিব উভয় দিক থেকে সর্বোচ্চ মাত্রায় সফল।’

তাই দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতের সাফল্য অর্জনের জন্য তাঁর জীবন থেকেই আমরা সর্বাধিক উত্তম শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। কেননা আল্লাহ আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন, আমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মাঝেই রয়েছে উত্তম আদর্শ। – সূরা আল আহযাব, আয়াত : ২১

অতএব, রাসূলুল্লাহ (সা.) এর জীবন থেকে এখানে সাফল্য অর্জনের পাঁচটি নীতি আলোচনা করা হল-

১. সহজ থেকে শুরু করুন
যদি আপনি কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌছতে চান বা কোন কাজ করতে চান, তবে সেই কাজটির সহজ অংশ থেকে শুরু করুন। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যখনই রাসূল (সা.) এর কাছে দুইটি বিষয়ে বাছাই করার সুযোগ আসতো, তিনি সবসময়ই সহজ সুযোগটি গ্রহণ করতেন।” (বুখারী)

আপনার জন্য সহজ, এমন কাজটি শুরু করার মাধ্যমে আপনি কাজটির সাথে বা লক্ষ্যের সাথে যুক্ত হন এবং শেষ পর্যন্ত আপনার লেগে থাকতে আপনি উৎসাহ পাবেন।

২. অসুবিধা থেকেই সুবিধা গ্রহণ করুন
সকল বিষয় ও বস্তুর মধ্যেই সুবিধা-অসুবিধা পাশাপাশি রয়েছে। সুখ-দুঃখ এই পৃথিবীতে পাশাপাশি অবস্থান করে। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন,

“নিশ্চয় কষ্টের সাথে সাথে রয়েছে স্বস্তি, নিশ্চয় কষ্টের সাথে রয়েছে স্বস্তি।” (সূরা আলাম নাশরাহ, আয়াত: ৫-৬)

আপনার কাজে যখনই আপনি কোন সমস্যায় পড়বেন, তখনই ঐ সমস্যার গভীরে লুকিয়ে থাকা সুযোগটিকে খুঁজে বের করুন। সমস্যাটির অসুবিধাকে অগ্রাহ্য করে তার সুযোগ-সুবিধাগুলোকে কাজে লাগান। আপনার কাজ সহজ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

৩. শত্রুকে বন্ধুতে পরিণত করুন
বদরের যুদ্ধের সময় মুসলমানদের বিজয়ের পর কাফিরদের সত্তর জন যোদ্ধা মুসলমানদের হাতে বন্দী হয়। প্রতিশোধের সুযোগ থাকলেও রাসূল (সা.) কোন প্রকার রক্তপাত না করে তাদেরকে মুক্তিপণের মাধ্যমে ছেড়ে দেন। যারা মুক্তিপণ দিতে পারেনি, তাদের কাছ থেকে দশ জন নিরক্ষর মুসলমানকে স্বাক্ষরতার যোগ্য করে তোলার বিনিময়ে মুক্তি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। যাদের মুক্তিপণ দেওয়ার অর্থ বা সাক্ষরতা, কোনটিরই সামর্থ্য ছিল না, তাদেরকে রাসূল (সা.) বিনা মুক্তিপণেই ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দেন। এর মাধ্যমে রাসূল (সা.) এর প্রতি শত্রুভাবাপন্ন এই মানুষগুলোর মধ্যে তার প্রতি এক প্রকার আকর্ষণ ও অনুরাগের সৃষ্টি হয়।

মক্কা বিজয়ের পর যখন রাসূল (সা.) সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁর প্রতি নির্যাতন করা মক্কাবাসীদের ক্ষমা করে দেন, তখন মক্কাবাসীরা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে।

সর্বদা চেষ্টা করুন, আপনার পরম শত্রুকে আপনার বন্ধুতে পরিণত করার। আপনার চলার পথকে তাদের বন্ধুত্বের সহায়তায় সহজ করতে সক্ষম হবেন ইনশাআল্লাহ।

৪. লাফে লাফে নয়, ধাপে ধাপে
সমাজের কিছু পরিবর্তনের জন্য আপনার এমন কর্মপন্থা অনুসরণ করা উচিত। একটি প্রতিষ্ঠিত বিষয়কে যদি  পরিবর্তন করতে হয়, তবে একদিনেই তার পরিবর্তন সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে লেগে থেকে তাতে পরিবর্তন আনতে হয়।

মদ নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করলে আমরা এ বিষয়টি দেখতে পাই। প্রথমে মদপানের প্রতি নিরুৎসাহিত করে কুরআনের আয়াত নাযিল হয়েছে,

“তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর মানুষের জন্যে উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়।” – সূরা বাকারা, আয়াত : ২১৯

কিছুদিন পর নামাযের সময় মদপান করে নামাযে আসতে নিষেধ করে পবিত্র কুরআনে বলা হয়-

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাকো, তখন নামাযের ধারে-কাছেও যেওনা, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছো” – সূরা নিসা, আয়াত : ৪৩

এরপর মানুষ যখন এক পর্যায়ে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে গেল, তখন চূড়ান্তভাবে মদ্যপানে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হল। কুরআনে ইরশাদ হল-

“হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাক-যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।” – সূরা মায়েদা, আয়াত : ৯০

মানুষের জীবনের ক্ষেত্রেও একই রকম নীতি কার্যকর। কোন মানুষ একদিনেই উন্নতি করে না। বরং, সে যদি নিয়মতান্ত্রিকভাবে তার উন্নতির জন্য লেগে থাকে, তবে এক পর্যায়ে সে সফল হবেই।

৫. সহিংসতার বদলে শান্তি অবলম্বন করুন
অধিকাংশ লোকেরই ধারণা ইসলামের প্রচার হয়েছে তলোয়ারের মাধ্যমে। কিন্তু বাস্তবতা এর বিপরীত। রাসূল (সা.) যেখানে সুযোগ পেয়েছেন, অযথা রক্তপাত না করে শান্তিপূর্ণভাবে তা সমাধা করেছেন। মক্কা বিজয়ের ইতিহাস এক্ষেত্রে একটি বড় দৃষ্টান্ত। কোন প্রকার সহিংসতা ছাড়াই রক্তপাতহীন এমন বিজয় পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এমন কি যারা প্রতিনিয়ত রাসূল (সা.) ও তার সাহাবীদের তাদের অসহায় অবস্থায় নির্যাতন করেছে, সুযোগ থাকা সত্যেও আল্লাহর রাসূল তাদের কাছ থেকে কোন প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। ফলে মক্কা বিজয়ের পরপরই অল্প সময়ের মধ্যে সমগ্র আরব ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে।

সহিংসতা মানবজীবনকে অহেতুক জটিলতায় আবদ্ধ করে ফেলে। কিন্তু, শান্তি ও ক্ষমা প্রদর্শনের নীতি চরম শত্রুকেও বন্ধুতে পরিণত করতে পারে এবং মানুষের চলার পথকে সহজ করে তোলে।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
আয় বাড়াতে যে আমলগুলো করবেন
স্বচ্ছলতা লাভের ৬ কুরআনি পরামর্শ
কোন মানদণ্ডে আপনি জীবনের সফলতা মাপছেন?
আত্মোন্নয়নে নতুন বছরে নিন ১২ পরিকল্পনা
মুসলমানদের সহনশীলতার পাঁচ দৃষ্টান্ত
অফিসের কাজে অবহেলা করাও কি গুনাহ?
কর্মমুখর জীবন যাপনে মুসলমানের তিন পদক্ষেপ
সুন্দর জীবনের পাঁচ উপাদান

 

হাদিসের জ্যোতি: আরও পড়ুন

আরও