হাদিস শরীফে রজব মাসের আমল

ঢাকা, ২৪ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

হাদিস শরীফে রজব মাসের আমল

মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ ৫:৫২ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০১৯

হাদিস শরীফে রজব মাসের আমল

রজব মাস কুরআনে উল্লেখিত সম্মানিত চার মাসের একটি। আর এটিই এ মাসের বিশেষত্ব। সহিহ ও আমলযোগ্য হাদিসে রজব মাসের আমল সম্পর্কে যা পাওয়া যায় তা নিম্নে উল্লেখ করা হল।

রজব মাসের দুআ
রজব মাসের একটি আমল হল হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত একটি দুআ, আনাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রজব মাস এলে বলতেন,
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ، وَشَعْبَانَ، وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রমাদান’।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! রজব মাস ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন, রমযান মাসে আমাদের পৌঁছে দিন।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩৪৬)

হাদিসটির সনদ দুর্বল। তবে আমলযোগ্য। পূর্বসূরি আলেম ও ফকিহগণ এই হাদিসের উপর আমল করেছেন এবং আমলের এই ধারাবাহিকতা আমাদের পর্যন্ত চলে এসেছে।

রজব মাসে রোযা
হযরত উসমান ইবনে হাকিম আল-আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

سَأَلْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ عَنْ صَوْمِ رَجَبٍ وَنَحْنُ يَوْمَئِذٍ فِي رَجَبٍ، فَقَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ -رضي الله عنهما- يَقُولُ: كَانَ رَسُولُ اللهِ -صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ: لاَ يُفْطِرُ، وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ: لاَ يَصُومُ

“আমি রজব মাসের রোযা সম্পর্কে সাঈদ ইবনে যুবাইর (রা.) কে প্রশ্ন করলাম যেদিন আমরা রজব মাসে উপনীত হয়েছি। জবাবে তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রোযা রাখতেন এমনকি আমরা মনে করতান তিনি রোযা ভাঙবেন না, আবার তিনি রোযা ভাঙতেন আমরা মনে করতাম তিনি আর রোযা রাখবেন না।” –মুসলিম, হাদিস : ১১৫৭

স্পষ্ট যে, এই হাদিসের মাধ্যমে সাঈদ ইবনে যুবাইর (রা.) এর উদ্দেশ্য হলো, রজব মাসে রোযা রাখতে কোন নিষেধও নেই, বিশেষ কোন ফযিলতও নেই। বরং এ মাসে রোযা রাখার বিধান অন্যান্য মাসগুলোর মতই – এ কথা বুঝিয়ে দেওয়া।

তবে আবু দাউদ শরীফের এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সাহাবীকে আশহুরে হুরুম তথা সম্মানিত মাসগুলোতে রোযা রাখতে বলেছেন। আর রজব সম্মানিত চার মাসের এক মাস। এ হিসেবে অন্য তিনটি সম্মানিত মাসের মত রজব মাসে রোযা রাখার ফযিলত রয়েছে।

আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত হাদিসটি নিম্নরূপ-
“...মুজিবা আল-বাহেলিয়্যা থেকে বর্ণিত, তিনি তার পিতা অথবা চাচা থেকে বর্ণনা করেন, “যিনি রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে এসে এরপর চলে গিয়েছিলেন। এর এক বছর পর তিনি আবার রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে আসলেন – যখন তার আকার-অবয়ব বদলে গিয়েছিল। তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি কি আমাকে চিনেনি? রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বললেন, কে তুমি? তিনি বললেন, আমি সেই বাহেলী যে এক বছর আগে এসেছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি তো সুন্দর গঠনের ছিলে, কিন্তু তোমার এ অবস্থা কেন? বাহেলী বললেন, আপনার কাছ থেকে চলে যাওয়ার পর থেকে কোন খাবার খাইনি, রাত ব্যতীত (অর্থাৎ, লাগাতার রোযা রেখেছি)। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি কেন নিজেকে কষ্ট দিয়েছ? আরও বললেন, তুমি ধৈর্যের মাসে (রমযানে) এবং প্রত্যেক মাসে একদিন রোযা রাখো। বাহেলী বললেন, আমাকে আরও বাড়িয়ে দিন, আমি সক্ষম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, দুইদিন রোযা রাখো। বাহেলী বললেন, আরও বাড়িয়ে দিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তিনদিন রোযা রাখো। বাহেলী বললেন, আরও বাড়িয়ে দিন। এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন,

قال: صم من الحرم واترك، صم من الحرم واترك، صم من الحرم واترك، وقال بأصابعه الثلاثة فضمها ثم أرسلها

সম্মানিত মাসগুলোতে রোযা রাখো এবং ভাঙ্গো, সম্মানিত মাসগুলোতে রোযা রাখো এবং ভাঙ্গো, সম্মানিত মাসগুলোতে রোযা রাখো এবং ভাঙ্গো। তিনি তাঁর তিন আঙ্গুল মিলিয়ে এবং খুলে বললেন।” –সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২৪২৮       

রজব মাসে এ দুটি আমল ছাড়া আর কোন আমলের ফযিলত কুরআন ও সহিহ সুন্নাহে অথবা অন্তত আমলযোগ্য কোন দুর্বল হাদিসে পাওয়া যায় না। আবার এ দুটি আমলের মধ্যে রোযার ফযিলত রজব মাসের সঙ্গে নির্দিষ্ট নয় বরং চারটি সম্মানিত মাসের এক মাস হিসেবে এর ফযিলত – যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। অতএব, শুধু রজবের ফযিলত মনে করে এই রোযা রাখা হলে তা বিদআত বলে গণ্য হবে।  

রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে জীবনের প্রতিটি দিন, মাস ও বছরে নেক আমলের সাথে জুড়ে থাকার তাওফিক দান করুন। আমীন।  

এমএফ/

আরও পড়ুন...
এসে গেল রজব মাস
মহিমান্বিত রজব মাস; করনীয় ও বর্জনীয়
ইতিহাস পাল্টে দেয়া রজব মাসের পাঁচটি ঘটনা
রজব মাস সম্পর্কে কিছু প্রচলিত যঈফ ও জাল হাদিস
রজব মাসে প্রিয় নবী সা. যে দু’আ বেশি করতেন
রজব মাসের তিন বিদআত
রজব মাসে ওমরা : মুস্তাহাব না বিদআত?

 

হাদিসের জ্যোতি: আরও পড়ুন

আরও