অহংকারের কুফল ও নিরহংকার হওয়ার উপায়

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

অহংকারের কুফল ও নিরহংকার হওয়ার উপায়

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৩২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০১৯

অহংকারের কুফল ও নিরহংকার হওয়ার উপায়

অহংকার শয়তানের চরিত্র। অহংকারী ব্যক্তি যেন জেনে নেয় যে সে শয়তানের চরিত্র গ্রহণ করেছে। সে সম্মানিত ফেরেশতাদের চরিত্র গ্রহণ করেনি, যারা আদম সৃষ্টির পর আল্লাহর আদেশে আনুগত্য প্রদর্শন করে সেজদায় লুটিয়ে পড়েছিল।

অহংকার অহংকারী ব্যক্তির জন্য জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ হয়। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
لا يدخل الجنة من كان في قلبه مثقال ذرةٍ من كبرٍ
“যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ অহংকার আছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না...।” -সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৯১

অহংকার এমন একটি গুণ যা শুধু আল্লাহর জন্যই প্রযোজ্য। যে ব্যক্তি এ গুণ নিয়ে আল্লাহর সাথে টানাটানি করে আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেন, তার প্রতাপ নস্যাৎ করে দেন ও তার জীবনকে সংকুচিত করে দেন। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
الْكِبْرِيَاءُ رِدَائِي، وَالْعَظَمَةُ إِزَارِي ، فَمَنْ نَازَعَنِي وَاحِدًا مِنْهُمَا، قَذَفْتُهُ فِي النَّارِ
“অহংকার হচ্ছে আমার চাদর আর সম্মান হচ্ছে আমার পরনের কাপড়; যে ব্যক্তি এ দুটির কোন একটি নিয়েও আমার সাথে টানাটানি করে, আমি তাকে আযাবে নিক্ষেপ করি।” – আবু দাউদ, হাদিস নং : ৪০৯০

নানাভাবে অহংকার করে মানুষ। সত্যকে গ্রহণ না করা, অন্যায়ভাবে বিতর্ক করাও অহংকার। যেমনটি আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে,
الكبر : بطر الحق وغمط الناس
“অহংকার হচ্ছে- সত্যকে উপেক্ষা করা এবং মানুষকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা।” –মুসলিম, হাদিস নং : ৯১

নিজের সৌন্দর্য্য, দামী পোশাক ও দামী খাবার ইত্যাদি দ্বারা অভিভূত হয়ে পড়া এবং মানুষের উপর দাম্ভিকতা প্রকাশ করাও অহংকার। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
ينما رجل يمشي في حلة تعجبه نفسه مرجل جمته إذ خسف الله به فهو يتجلجل إلى يوم القيامة
“একদা এক ব্যক্তি হুল্লা পরে, আত্মম্ভরিতা নিয়ে, মাথা আঁচড়িয়ে হাঁটছিল এমতাবস্থায় আল্লাহ তাকে সহ ভূমি ধ্বস করে দিলেন এবং এভাবে কিয়ামত পর্যন্ত সে নীচের দিকে যেতে থাকবে।” –বুখারী, হাদিস নং : ৩২৯৭; মুসলিম, হাদিস নং : ২০৮৮

ওই ব্যক্তির আচরণও এ ধরণের অহংকারের মধ্যে পড়বে যার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
وَكَانَ لَهُ ثَمَرٌ فَقَالَ لِصَاحِبِهِ وَهُوَ يُحَاوِرُهُ أَنَا أَكْثَرُ مِنكَ مَالًا وَأَعَزُّ نَفَرًا

“সে ফল পেল। অতঃপর কথা প্রসঙ্গে সঙ্গীকে বললঃ আমার ধন-সম্পদ তোমার চাইতে বেশী এবং জনবলে আমি অধিক শক্তিশালী।” –সূরা কাহাফ, আয়াত: ৩৪

কখনো কখনো আত্মীয়স্বজন ও বংশধরদের নিয়ে গৌরবের মাধ্যমেও অহংকার প্রকাশিত হতে পারে।

অহংকার প্রতিরোধের উপায়
অহংকার প্রতিরোধ করার উপায় হল- নিজেকে অন্য দশজন মানুষের মত মনে করা। অন্যসব লোককে নিজের সমতুল্য মনে করা। তারাও এক বাবা-মা থেকে জন্মগ্রহণ করেছে। যেভাবে আপনিও এক বাবা-মার ঘরে জন্মগ্রহণ করেছেন। আর তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিই ব্যক্তির মর্যাদা পরিমাপের মানদণ্ড। আল্লাহ তাআলা বলেন,
إن أكرمكم عند الله أتقاكم

“নিশ্চয় তোমাদের যে ব্যক্তি বেশি তাকওয়াবান সেই আল্লাহর নিকট বেশি সম্মানিত।” –সূরা হুজুরাত, আয়াত: ১৩

অহংকারী মুসলিমের জানা থাকা উচিত সে যতই বড় হোক না কেন পাহাড় সমান তো আর হতে পারবে না; জমিন ছিদ্র করে তো বেরিয়ে যেতে পারবে না। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا ۖ إِنَّكَ لَن تَخْرِقَ الْأَرْضَ وَلَن تَبْلُغَ الْجِبَالَ طُولًا

“পৃথিবীতে দম্ভভরে পদচারণা করো না। নিশ্চয় তুমি তো ভূ পৃষ্ঠকে কখনই বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনই পর্বত প্রমাণ হতে পারবে না।” –সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ৩৭

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন,
وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا ۖ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ . وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ وَاغْضُضْ مِن صَوْتِكَ ۚ إِنَّ أَنكَرَ الْأَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِيرِ
“অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না। পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন কর এবং কণ্ঠস্বর নীচু কর। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর।” –সূরা লোকমান, আয়াত: ১৮-১৯

অহংকার প্রতিরোধ করার আরেকটি উপায় হলো- এটি মনে রাখা যে, অহংকারীকে কিয়ামতের দিন পিঁপড়ার ন্যায় ছোট করে উপস্থিত করা হবে, মানুষের পায়ের নীচে মাড়ানো হবে। অহংকারী মানুষের নিকট অপছন্দীয় যেমনিভাবে সে আল্লাহর নিকটও অপছন্দনীয়। মানুষ বিনয়ী, নম্র, ভদ্র, সহজ, সরল মানুষকে ভালবাসে। আর কঠিন ও রুঢ় স্বভাবের মানুষকে ঘৃণা করে।

অহংকার প্রতিরোধ করার আরেকটি উপায় হলো- অহংকারী যে পথ দিয়ে বের হয়েছে পেশাবও সে পথ দিয়ে বের হয়। তার সৃষ্টির সূচনা হয়েছে নাপাক বীর্য থেকে। তার সর্বশেষ পরিণতি হচ্ছে- পচা লাশ। এ দুই অবস্থার মাঝখানে সে পেটের ভেতর নাপাক বর্জ্য বহন করে চলছে। সুতরাং অহংকার করার মত কী আছে?!

আমরা আল্লাহর নিকটে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদেরকে অহংকার থেকে মুক্তি দেন এবং আমাদেরকে বিনয়ের নিয়ামত দান করেন। আমীন।

এমএফ/

আরও পড়ুন...

মহানবীর (সা.) অনন্য বিনয়
বিনয়ের অনন্য দৃষ্টান্ত মহানবী (সা.)

 

হাদিসের জ্যোতি: আরও পড়ুন

আরও