কন্যা সন্তানের পিতা-মাতার প্রতি পাঁচ হাদিস

ঢাকা, বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ | ৫ আষাঢ় ১৪২৬

কন্যা সন্তানের পিতা-মাতার প্রতি পাঁচ হাদিস

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:১৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ০২, ২০১৯

কন্যা সন্তানের পিতা-মাতার প্রতি পাঁচ হাদিস

কন্যা সন্তান পেয়ে আপনি খুশি তো? তাহলে জেনে নিন আপনি প্রকৃতপক্ষেই সৌভাগ্যবানদের একজন। কন্যা সন্তান লালনপালন সমন্ধে রাসূলুল্লাহ (সা.) যে মহা প্রতিদানের কথা বলেছেন তা অনন্য। কন্যা সন্তান অফুরন্ত নিয়ামতের আধার। যদি কেউ তাকে সঠিকভাবে প্রতিপালন করে, ভালোবাসে এবং সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তবে তার জন্যে অপেক্ষা করছে নিয়ামতপূর্ণ অনন্ত জান্নাত।

যে সময় কন্যাসন্তান জন্মদানকে লজ্জার কারণ মনে করা হতো এবং এ লজ্জা থেকে বাঁচতে তাদের জীবন্ত কবর দেয়া হতো তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) এসে দেখিয়ে দিলেন এটি কত বড় ও মারাত্মক অন্যায়। 

কন্যাদের লাঞ্চনা, অপমান ও শিশুহত্যার সেই সময়ে এ হাদিসগুলো তাদের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছে। এমনকি বর্তমান প্রেক্ষাপটেও হাদিসগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।

চলুন দেখে নেওয়া যাক কন্যাদের অভিভাবক হিসেবে আপনি কী কী নিয়ামত লাভ করতে পারেন।

জান্নাত আপনার অপেক্ষায়

১। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
যদি কারো কন্যা সন্তান থাকে এবং সে তাকে কবর দেয়নি, কিংবা অসম্মান করেনি অথবা এর পরিবর্তে ছেলে সন্তান কামনা করেনি, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন। (মুসনাদে আহমাদ)

২। হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
যার তিনটি  কন্যা সন্তান রয়েছে এবং সে তাদের বাসস্থানের নিরাপত্তা বিধান করেছে, তাদের প্রতি দয়ার্দ্র আচরণ করেছে এবং তাদের লালন পালন করেছে আল্লাহ অবশ্যই তাকে জান্নাত দান করবেন।

এক ব্যক্তি জিজ্ঞাস করলেন হে আল্লাহর রাসুল যদি কারো দু’টি কন্যা সন্তান থাকে? জবাবে রাসুল (সা.) বললেন, যদি দুজন হয় তবুও সে এ পুরস্কার লাভ করবে। উপস্থিত অনেকেই প্রশ্ন করলেন, যাদের একজন কন্যা সন্তান আছে তাদের ব্যাপারে কি? তিনি বললেন এ পুরস্কার সবার জন্যই প্রযোজ্য। (আলবানী)  

৩। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত,
জনৈক মহিলা একবার তার দুই কন্যা শিশুসহ আমার কাছে এসে কিছু সাহায্য চাইল। আমি তাদের দেওয়ার মত একটি খেজুর ছাড়া আর কিছুই পেলাম না, তাই আমি তাকে দিয়ে দিলাম।

মহিলাটি খেজুরটিকে ভাগ করে দুই কন্যার মাঝে বন্টন করে দিল নিজে তা থেকে কিছুই খেল না। অতঃপর চলে গেল।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘরে ফিরলে আমি তাঁর কাছে পুরো ঘটনাটি ঘটনা খুলে বললে তিনি বললেন, “যার এমন কন্যাসন্তান আছে, এবং সে তাদের প্রতি সদয় হয়, তারা তাদের জন্য জাহান্নাম থেকে রক্ষাকবচ হয়ে যাবে।” (মুসলিম)

৪। উকবাহ ইবনে আমের (রা.) থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, যার তিনজন কন্যা আছে আর সে তাদের প্রতি ধৈর্যশীল, তাদের অন্ন, বস্ত্র ও সম্পদ দানকারী, সে কন্যাগণ হাশরের দিন তার জন্য রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়াবে। (আলবানী)

রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সাহচর্য লাভ

৫। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“যে তার দুই কন্যাকে বিবাহযোগ্য হওয়া অবধি লালন পালন করবে, আল্লাহর রাসুল (সা.) হাতের দুই আঙুল এক করে বললেন হাশরের দিন আমি এবং সে এমন পাশাপাশি অবস্থান করবো। (মুসলিম)

ইসলাম কন্যা সন্তানকে কত মর্যাদা দিয়েছে এখানে তার কিছু উদাহরণ দেওয়া হল। এই হাদিসগুলোসহ অন্য আরও যে হাদীসগুলো আছে, তার সারমর্ম হচ্ছে কন্যা সন্তানের শারীরিক ও মানসিকসহ সার্বিক কল্যাণ উন্নতির দিকেই নির্দেশ করা হয়েছে।

এ থেকে বুঝা গেল আমাদের কন্যা সন্তানদের সাথে ভালো ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের আদেশ করেছেন যেন আমরা উত্তম ও আদর্শ অভিভাবক হতে পারি। 

আবারও বলছি, যদি আপনি কন্যা সন্তানের অভিভাবক হয়ে থাকেন তবে অবশ্যই আপনি মহা ভাগ্যবান।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
নবীজির চার কন্যা
ইসলামে নারীর অর্থনৈতিক অধিকার
ইসলামে স্বাধীনতার সীমানা
বাবা-মায়ের যে ৮ অভ্যাস সন্তানের ভবিষ্যত ধ্বংস করে