হাদিসে বর্ণিত আশুরার ইতিহাস

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯ | ৮ চৈত্র ১৪২৫

হাদিসে বর্ণিত আশুরার ইতিহাস

পরিবর্তন ডেস্ক ২:৫৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮

হাদিসে বর্ণিত আশুরার ইতিহাস

মুহাররম হিজরি বর্ষের প্রথম মাস। এমাস আরবি বর্ষের সম্মানিত মাস চতুষ্টয়ের অন্যতম। এ মাসের দশম দিন তথা আশুরা দিবসও ইসলামপূর্ব অন্যান্য নবী আলাইহিমুস সালামগণের সময়কাল থেকেই বিশেষ তাৎপর্যমণ্ডিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ উম্মতের জন্যেও এই তাৎপর্যের স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি এ দিনের ইতিহাস ও তাৎপর্যের কারণ সাহাবায়ে কেরামের কাছে বর্ণনা করেছেন এবং এ দিনে করণীয় আমল আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। এ নিবন্ধে ইনশাআল্লাহ, রাসুলের পবিত্র যবান থেকে তাই পাঠকের কাছে তুলে ধরা হবে।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

قال: قدم النبي - صلى الله عليه وسلم - المدينة فرأى اليهود تصوم يوم عاشوراء فقال: مَا هَذَا قَالُوا هَذَا يَوْمٌ صَالِحٌ، هَذَا يَوْمٌ نَجَّى اللَّهُ بَنِي إِسْرَائِيلَ مِنْ عَدُوِّهِمْ فَصَامَهُ مُوسَى، قال: فَأَنَا أَحَقُّ بِمُوسَى مِنْكُمْ فَصَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ  رواه البخاري

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করে দেখতে পেলেন ইহুদিরা আশুরার দিন রোযা পালন করছে। নবীজী বললেন, এটি কি? তারা বলল, এটি একটি ভাল দিন। এ দিনে আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাইলকে তাদের দুশমনের কবল থেকে বাঁচিয়েছেন। তাই মুসা আ. রোযা পালন করেছেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, মুসাকে অনুসরণের ব্যাপারে আমি তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার। অত:পর তিনি রোযা রেখেছেন এবং রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। -বুখারি:১৮৬৫

বুখারির বর্ণনা,

 هَذَا يَوْمٌ صَالِحٌ 

এটি একটি ভাল দিন।

মুসলিমের বর্ণনায় আছে,

 هذا يوم عظيم أنجى الله فيه موسى وقومه وغرّق فرعون وقومه

এটি একটি মহান দিন, আল্লাহ তাআলা তাতে মুসা আ. ও তাঁর কওমকে রক্ষা করেছেন আর ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়কে পানিতে ডুবিয়ে মেরেছেন।

বুখারির বর্ণনা,

 فصامه موسى 

মুসা আ. রোযা পালন করেছেন।

ইমাম মুসলিম রহ. তার রেওয়ায়াতে সামান্য বাড়িয়ে বর্ণনা করেছেন,

 شكراً لله تعالى فنحن نصومه

আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় স্বরূপ তাই আমরাও রোযা পালন করি।

বুখারির অন্য রেওয়ায়াতে আছে,

 ونحن نصومه تعظيماً له

আর আমরা রোযা পালন করি তার সম্মানার্থে।

ইমাম আহমাদ রহ. সামান্য বর্ধিতাকারে বর্ণনা করেছেন,

 وهو اليوم الذي استوت فيه السفينة على الجودي فصامه نوح شكراً .

এটি সেই দিন যাতে নূহ আ.-এর কিশতি জুদি পর্বতে স্থির হয়েছিল, তাই নূহ আ. আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের জন্য সেদিন রোযা রেখেছিলেন।

বুখারির বর্ণনা,

 وأمر بصيامه 

এবং রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

বুখারির অন্য বর্ণনায় এসেছে,

 فقال لأصحابه: أنتم أحق بموسى منهم فصوموا .

তিনি তাঁর সাহাবিদের বললেন, মুসা আ.-কে অনুসরণের ক্ষেত্রে তোমরা তাদের চেয়ে অধিক হকদার। সুতরাং তোমরা রোযা রাখো।

আশুরার রোযা পূর্ব হতেই প্রসিদ্ধ ছিল এমনকি রাসূলুল্লাহর নবুওয়ত প্রাপ্তির পূর্বে জাহেলি যুগেও আরব সমাজে তার প্রচলন ছিল।

আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, জাহেলি যুগের লোকেরা আশুরাতে রোযা রাখত।..

 إن أهل الجاهلية كانوا يصومونه ..

জাহেলি যুগের লোকেরা আশুরাতে রোযা রাখত।..

ইমাম কুরতুবি রহ. বলেন,

কোরাইশরা আশুরার রোযা প্রসঙ্গে সম্ভবত বিগত শরিয়ত যেমন ইবরাহীম আ.-এর উপর নির্ভর করত। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরত করার পূর্বেই মক্কাতে আশুরার রোযা রাখতেন। হিজরতের পর দেখতে পেলেন মদিনার ইহুদিরা এদিনকে উদযাপন করছে। তিনি কারণ সম্বন্ধে তাদের জিজ্ঞেস করলে তারা উপরোল্লেখিত উত্তর দিল। তখন নবীজী সাহাবাদেরকে ঈদ-উৎসব উদযাপন প্রসঙ্গে ইহুদিদের বিরোধিতা করার নির্দেশ দিলেন। যেমন আবু মুসা রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন,

 كَانَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ تَعُدُّهُ الْيَهُودُ عِيدًا 

অর্থাৎ, আশুরার দিনকে ইহুদিরা ঈদ হিসাবে গ্রগণ করেছিল।

মুসলিমের রেওয়ায়াতে এসেছে,

  كان يوم عاشوراء تعظمه اليهود تتخذه عيدا 

আশুরার দিনকে ইহুদিরা বড় করে দেখত (সম্মান করত), একে তারা ঈদ হিসাবে গ্রহণ করেছিল।

মুসলিমের অন্য বর্ণনায় এসেছে,

 كان أهل خيبر ( اليهود ) يتخذونه عيدا، ويلبسون نساءهم فيه حليهم وشارتهم .

খায়বর অধিবাসীরা (ইহুদিরা) আশুরার দিনকে ঈদ হিসাবে গ্রহণ করেছিল। তারা এদিন নিজ স্ত্রীদেরকে নিজস্ব অলঙ্কারাদি ও ব্যাজ পরিধান করাতো।

তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম বললেন,

 فَصُومُوهُ أَنْتُمْ

তাহলে তোমরাও রোযা রাখো। -বুখারি

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদেরকে এদিনে রোযা রাখার নির্দেশ দানের আপাত কারণ হচ্ছে, ইহুদিদের বিরোধিতা করা। যেদিন তারা ঈদ উদযাপন করে ইফতার করবে সেদিন মুসলমানগণ রোযা রাখবে। কারণ ঈদের দিন রোযা রাখা হয় না।  -ফাতহুল বারি শারহু সাহিহিল বুখারি, আল্লামা ইবনু হাজার আসকালানি।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
মুহাররম মাস : ফযিলত, আমল ও বিদআত
সুন্নাহর আলোকে মুহাররম মাসের আমল