ইসলামে ‘হারাম’ বিষয়গুলোর মধ্যে সুপ্ত যে রহস্য

ঢাকা, ১৯ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

ইসলামে ‘হারাম’ বিষয়গুলোর মধ্যে সুপ্ত যে রহস্য

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮

ইসলামে ‘হারাম’ বিষয়গুলোর মধ্যে সুপ্ত যে রহস্য

আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় বান্দাদের ওপর কিছু জিনিস ফরয করেছেন, যা পরিত্যাগ করা জায়েয নয়, কিছু সীমা বেঁধে দিয়েছেন, যা অতিক্রম করা বৈধ নয় এবং কিছু জিনিস হারাম করেছেন, যার ধারে কাছে যাওয়াও ঠিক নয়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

مَا أَحَلَّ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ فَهُوَ حَلَالٌ، وَمَا حَرَّمَ فَهُوَ حَرَامٌ، وَمَا سَكَتَ عَنْهُ فَهُوَ عَافِيَةٌ، فَاقْبَلُوا مِنَ اللَّهِ الْعَافِيَةَ، فَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَكُنْ نَسِيًّا ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيّٗا

“আল্লাহ তাআলা তার কিতাবে যা হালাল করেছেন তা হালাল, যা হারাম করেছেন তা হারাম, আর যে বিষয়ে তিনি নীরব থেকেছেন তা ক্ষমা। সুতরাং তোমরা আল্লাহ প্রদত্ত ক্ষমাকে গ্রহণ কর। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বিস্মৃত হন না। তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেন, ‘তোমার রব বিস্মৃত হন না”। (সূরা মারইয়াম, আয়াত:৬) (হাকেম, দারাকুতনী; সিলসিলা সহীহাহ, হাদীস নং ২২৫৬)

আর এ হারামসমূহই আল্লাহ তাআলার সীমারেখা। আল্লাহ বলেন,

تِلۡكَ حُدُودُ ٱللَّهِ فَلَا تَقۡرَبُوهَاۗ

“এসব আল্লাহর সীমারেখা। সুতরাং তোমরা এগুলোর নিকটেও যেয়ো না”। (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৭) 

শরীয়তে যখন হারাম আছে তখন সকল মুসলিমের জন্যই তার মধ্যে যে গূঢ় রহস্য বা তত্ত্ব লুকিয়ে আছে তা জানা দরকার। যেমন,

১. আল্লাহ তা‘আলা হারাম দ্বারা তার বান্দাদের পরীক্ষা করেন। তারা এ সম্পর্কে কেমন আচরণ করে তা তিনি লক্ষ্য করেন।

২. কে জান্নাতবাসী হবে আর কে জাহান্নামবাসী হবে হারামের মাধ্যমে তা নির্ণয় করা চলে। যারা জাহান্নামী তারা সর্বদা প্রবৃত্তির পূজায় মগ্ন থাকে, যা দিয়ে জাহান্নামকে ঘিরে রাখা হয়েছে। আর যারা জান্নাতী তারা দুঃখ-কষ্টে ধৈর্য ধারণ করে, যে, দুঃখ-কষ্ট দিয়ে জান্নাতকে বেষ্টন করে রাখা হয়েছে। এ পরীক্ষা না থাকলে বাধ্য থেকে অবাধ্যকে পৃথক করা যেত না।

৩. যারা ঈমানদার তারা হারাম ত্যাগজনিত কষ্ট সহ্য করাকে সাক্ষাৎ পূণ্য এবং আল্লাহ তা‘আলার যে কোনো নির্দেশ পালনকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উপায় বলে মনে করে। ফলে কষ্ট স্বীকার করা তাদের জন্য সহজ হয়ে যায়। পক্ষান্তরে যারা কপট ও মুনাফিক্ব তারা কষ্ট সহ্য করাকে যন্ত্রণা, বেদনা ও বঞ্চনা বলে মনে করে। ফলে ইসলামের পথে চলা তাদের জন্য কঠিন এবং সৎ কাজ সম্পাদন ও আনুগত্য স্বীকার করা ততধিক কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়।

৪. একজন সৎ লোক আল্লাহর সস্তুষ্টি অর্জনার্থে হারাম পরিহার করলে বিনিময়ে তার চেয়ে যে উত্তম কিছু পাওয়া যায় তা ভালোমত অনুধাবন করতে পারে। এভাবে সে তার মনোরাজ্যে ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করতে পারে।

রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে সমস্ত হারাম থেকে বেঁচে পবিত্র জীবন যাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
শিরক ফিল মুহাব্বাত | ভালোবাসার মধ্যে শিরক
কুরআন কেন বুঝতে হবে আমাদের?
কী অর্থ আমাদের জীবনের?

 

হাদিসের জ্যোতি: আরও পড়ুন

আরও