নামাযের পর সর্বোত্তম আমল হলো মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার

ঢাকা, ২ এপ্রিল, ২০১৯ | 2 0 1

নামাযের পর সর্বোত্তম আমল হলো মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:১৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০১৮

নামাযের পর সর্বোত্তম আমল হলো মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার

عن عبد الله بن مسعود – رضي الله عنه – قال: «سألتُ النبي صلى الله عليه و سلم: أي العمل أحب إلى الله؟ قال: «الصلاة على وقتها»، قلتُ: ثم أي؟ قال: «ثم بر الوالدين»

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন, সময় মত সালাত আদায় করা। তারপর আমি বললাম, তারপর কোনটি? উত্তরে তিনি বললেন, তারপর মা-বাবার সাথে ভালো ব্যবহার করা’। (বুখারি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জানিয়ে দেন, ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ও মহান ইবাদত সালাতের পর আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় আমল মা-বাবার সাথে ভালো ব্যবহার করা। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে «ثم» শব্দ যা ধারাবাহিকতা বুঝানোর জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে তা ব্যবহার করে কোন আমলের পর কোন আমল উত্তম তা বর্ণনা করে দিয়েছেন।

মা-বাবার গুরুত্ব সম্পর্কে আল্লাহ বলেন-

وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعۡبُدُوٓاْ إِلَّآ إِيَّاهُ وَبِٱلۡوَٰلِدَيۡنِ إِحۡسَٰنًاۚ إِمَّا يَبۡلُغَنَّ عِندَكَ ٱلۡكِبَرَ أَحَدُهُمَآ أَوۡ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَآ أُفّٖ وَلَا تَنۡهَرۡهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوۡلٗا كَرِيمٗا ٢٣ وَٱخۡفِضۡ لَهُمَا جَنَاحَ ٱلذُّلِّ مِنَ ٱلرَّحۡمَةِ وَقُل رَّبِّ ٱرۡحَمۡهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرٗا

‘আর তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং বাবা-মার সাথে সদাচরণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ বলবে না এবং তাদেরকে ধমক দিও না। আর তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বল। আর তাদের উভয়ের জন্য দয়াপরবশ হয়ে বিনয়ের ডানা নত করে দাও এবং বল, হে আমার রব, তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে লালন-পালন করেছেন’। (সূরা ইসরা, আয়াত: ২৩, ২৪)

আল্লাহ রাব্বুল আলমীন আরও বলেন- أَنِ ٱشۡكُرۡ لِي وَلِوَٰلِدَيۡكَ إِلَيَّ ٱلۡمَصِيرُ ١٤

‘সুতরাং, আমার ও তোমার বাবা-মার শুকরিয়া আদায় কর। প্রত্যাবর্তন তো আমার কাছেই।’ (সূরা লোকমান-১৪)

অর্থাৎ আমরা তাকে বললাম, أَنِ ٱشۡكُرۡ لِي وَلِوَٰلِدَيۡك ‘আমার ও তোমার বাবা-মার শুকরিয়া আদায় কর’ আয়াতের ব্যাখ্যায় কেউ কেউ বলেন, ‘আল্লাহর জন্য শুকরিয়া ঈমানের নেয়ামতের কারণে, আর মা-বাবার শুকরিয়া তার লালন-পালনের কারণে।’

আলেমগণ বলেন, আল্লাহ তা’আলার পরে কৃতজ্ঞতা ও সদ্ব্যবহার  (ইহসান ও শুকর), ভালো কাজের সম্পৃক্ততা, আনুগত্য ও মান্যতা পাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত মাখলুক হলেন মা-বাবা। কারণ, আল্লাহ তা’আলা তার ইবাদত, আনুগত্য ও শুকরিয়া আদায়ের সাথে যাদের সম্পৃক্ত করেন, তারা হলেন মা-বাবা।

মা-বাবার সাথে ভালো ব্যবহার করার অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, তাদের সাথে সম্মানের সাথে উত্তম কথার মাধ্যমে তাদের মুখোমুখি হওয়া; আর সেটি হবে তখনই যখন তা হবে সব রকমের দোষ-ত্রুটিমুক্ত।

وقد قال صلى الله عليه و سلم: «رغم أنفه، ثم رغم أنفه، ثم رغم أنفه!! قيل: من يا رسول الله؟ قال: من أدرك أبويه عند الكبر أحدهما أو كليهما، فلم يدخل الجنة» (رواه مسلم).

আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘লোকটির নাক কর্দমাক্ত হোক, আবারো লোকটির নাক কর্দমাক্ত হোক, আবারো লোকটির নাক কর্দমাক্ত হোক, জিজ্ঞাসা করা হলো- হে আল্লাহর রাসুলুল্লাহ লোকটি কে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি তার বৃদ্ধ মা-বাবা অথবা তাদের যে কোনো একজনকে জীবিত পেল, অথচ (তাদের সন্তুষ্ট করে) জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না”। (মুসলিম)

সৌভাগ্যবান ব্যক্তি হলো যে মা-বাবার সাথে ভালো ব্যবহার করার সুযোগের সদ্ব্যবহার করে, যাতে তাদের মারা যাওয়ার কারণে এ সুযোগ তাদের হাতছাড়া না হয়। অন্যথায় তাদের মারা যাওয়ার কারণে, সে পরবর্তীতে লজ্জিত হবে। আর হতভাগা লোক হলো যে তার মা-বাবার নাফরমানি করে। বিশেষ করে, যার নিকট মা-বাবার প্রতি ভালো ব্যবহার করতে কুরআনের নির্দেশ পৌঁছেছে।

মা-বাবার সাথে ভালো ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত একটি বিষয় হচ্ছে- তাদের কোনো প্রকার ধমক না দেয়া, বরং তাদেরকে সব সময় সুন্দর কথা ও বিনম্র ব্যবহার দ্বারা সম্বোধন করা। যেমন তাদের এমনভাবে ডাকবে- হে আমার মা, হে আমার বাবা। অথবা সমাজরীতি অনুযায়ী সুন্দর ও বিনম্র সম্বোধন হিসেবে যে সমাজে যা প্রচলিত রয়েছে। বাবা-মাকে তাদের নাম ধরে বা তাদের উপনাম ধরে ডাকবে না। তাদের প্রতি দয়া পরবশ হবে, দাস যেমন তার মনিবের সামনে নমনীয় থাকে তেমনি মা-বাবার সামনে তার সন্তানরাও নমনীয় থাকবে। তাদের প্রতি রহমতের দু’আ করবে। মা-বাবা সন্তানের প্রতি যেভাবে দয়া করেছিল, তারা তাদের মা-বাবার প্রতি অনুরূপ দয়া করবে। বিশেষ করে ছোট বেলা মা-বাবা তাদের প্রতি যেভাবে দয়া করেছে তারা তাদের মা-বাবার প্রতি অনুরূপ দয়া করবে।

কিন্তু মনে রাখতে হবে, মা-বাবার সাথে ভালো ব্যবহার ও তাদের প্রতি আনুগত্য যেন কোন কবীরা গুনাহে লিপ্ত হওয়ার কারণ না হয় এবং আল্লাহর ফরযসমূহ ছুটে যাওয়ার কারণ না হয়। কেননা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ‘স্রষ্টার অবাধ্যতা করে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না। (বুখারি)

এমএফ/এমএসআই

 

হাদিসের জ্যোতি: আরও পড়ুন

আরও