তওবা ও ইস্তিগফার বান্দার মুক্তির উপায়

ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫

তওবা ও ইস্তিগফার বান্দার মুক্তির উপায়

পরিবর্তন ডেস্ক ১:১৮ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৮

তওবা ও ইস্তিগফার বান্দার মুক্তির উপায়

“(হে নবী) আপনি আমার ঐ সকল বান্দাদেরকে বলুন, যারা নিজেদের প্রতি সীমাহীন জুলুম করেছে, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হইয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন; নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সুরা যুমার-৫৩

 

ইস্তিগফার অর্থ ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহ হলেন ‘গাফির’ ক্ষমাকারী, ‘গফুর’ ক্ষমাশীল, ‘গফফার’ সর্বাধিক ক্ষমাকারী।

ইস্তিগফার ও তওবা আল্লাহ তা’আলার অতি প্রিয় একটি ইবাদত। তাই প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.) নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বার ইস্তিগফার করতেন। অনুরূপ ইমানের পর নামায প্রধান ও সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত হওয়া সত্ত্বেও এই নামায আদায়ের পর তিনবার ইস্তিগফার পড়া সুন্নত।

ইস্তিগফার প্রসঙ্গে কুরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল।” (সুরা নূহ-১০)

আল্লাহ তা’আলা রাসুলে করীম (সা) কে সম্বোধন করে বলেন, “অতঃপর তোমার রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো।” (সুরা নাসর-৩)
আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে আরও ইরশাদ করেন, “আর আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে আযাব দিবেন না আপনি তাদের মাঝে থাকা অবস্থায়; আর আল্লাহ তাদের আযাব দিবেন না, যখন তারা ইস্তিগফার করে।” (সুরা আনফাল-৩৩)

ইস্তিগফার সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে যত মুমিন বান্দার জন্য ইস্তিগফার করবে, সে তাদের সবার সমপরিমাণ নেকি লাভ করবে।’ (সিয়ারে কাবির, তাবরানি)

তওবা
তওবা অর্থ প্রত্যাবর্তন করা, ফিরে আসা। মানুষ যখন কোন ভুল পথে যায় বা বিপথগামী হয়, তখন সেখান থেকে সঠিক পথে বা ভালো পথে ফিরে আসাকে তওবা বলা হয়। তওবার পারিভাষিক অর্থ হলো লজ্জিত হওয়া। অর্থাৎ স্বীয় কৃতকর্মে লজ্জিত হয়ে সঠিক পথে ফিরে আসা।

তওবার জন্য করণীয় হলো, স্বীয় কৃতকর্মের প্রতি লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়া, সেই অপরাধ আর না করার দৃঢ় প্রত্যয় ও সংকল্প গ্রহণ করা এবং নেক আমলের প্রতি বেশিমাত্রায় মনোযোগী হওয়া।

তওবা সম্পর্কে কুরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “হে ইমানদারেরা, তোমরা আল্লাহর কাছে বিশুদ্ধ অন্তরে তওবা করো, আশা করা যায় তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করবেন এবং তোমাদের প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে, যার তলদেশে ঝর্নাসমূহ প্রবহমান থাকবে।” (সুরা তাহরিম-৮)

আল্লাহ তা’আলা আরও বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।” (সুরা বাকারা-২২২)

আল্লাহ তা’আলা আরও ইরশাদ করেন, “(হে নবী) আপনি আমার ঐ সকল বান্দাদেরকে বলুন, যারা নিজেদের প্রতি সীমাহীন জুলুম করেছে, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হইয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন; নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সুরা যুমার-৫৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “হে মানব সকল! তোমরা আল্লাহর দিকে ফিরে আসো, নিশ্চয় আমি প্রতিদিন ১০০ বার তওবা করি।” (মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা) আরো বলেন, “সকল আদম সন্তানই গুনাহগার, গুনাহগারদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো তওবাকারীরা।” (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

তওবার সুফল সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘গুনাহ থেকে তওবাকারী, বেগুনাহ ব্যক্তির মতো। (ইবনে মাজা, বায়হাকি)

উল্লেখ্য, আল্লাহর হক আল্লাহ ক্ষমা করবেন; কিন্তু বান্দার হক বান্দা ক্ষমা না করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। তাই তাওবা ইস্তিগফারের সঙ্গে সঙ্গে বান্দার হক পরিশোধ করা বা তাঁর থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া অবশ্যকর্তব্য।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “কেউ যদি ইখলাছের সাথে এই দোয়া পাঠ করে তাঁর গুনাহ সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হলেও তা মাফ হয়ে যাবে- ‘আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা-ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইইয়্যুমু, ওয়া আতুবু ইলাইহি।”

অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তিনি ব্যতীত কোনো মাবুদ নাই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরন্তন; এবং আমি তাঁর কাছে ফিরে আসি। (তিরমিজি, আবু দাউদ)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার বা শ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার হলো, ‘আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বি, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, খলাকতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাস্তাত’তু। আউযু বিকা মিন শাররি মা সনা’তু। আবু-উ লাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়া ওয়া আবু-উ বি-জাম্বি, ফাগফির লি, ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ-জুনুবা ইল্লা আন্তা।”

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনিই আমার প্রতিপালক, আপনি ছাড়া আর কেউ ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আর আমি আপনারই বান্দা, এবং আমি যথাসাধ্য আপনার নিকট প্রদত্ত অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর বহাল থাকবো। আমি যত অন্যায় করেছি, সেই সবকিছুর কুফল থেকে আপনার কাছেই আশ্রয় চাই। আমার ওপর আপনার যে অসংখ্য নেয়ামত রয়েছে, তার শোকর গুজারি করি এবং আমার গুনাহের স্বীকারও করছি; অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া গুনাহ সমূহকে ক্ষমাকারী আর কেউ নেই।

নবী করীম (সা.) আরো বলেন, “যে ব্যক্তি দিনে এই ইস্তিগফার পাঠ করবে, সন্ধ্যার আগে তাঁর মৃত্যু হলে সে জান্নাতি; যে ব্যক্তি রাতে এই ইস্তিগফার পাঠ করবে, সকালের আগে তাঁর মৃত্যু হলে সে জান্নাতি।” (বুখারি)

এফএস