লেবুর রস খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

লেবুর রস খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:২৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৯

লেবুর রস খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি

অনেকেই আছেন যারা সকালের শুরুতেই চা বা কফির বদলে লেবুর জল খেয়ে দিন শুরু করেন। লেবু সুস্বাদু খেতে লাগে তাতে কোন রকমের সন্দেহ নেই। সাথে সাথে এটি শরীরের জন্য যে কতটা উপকারি তা বলে শেষ করা যাবে না। লেবুর বিশেষ উপকারিতা জেনে নিন আজ।

লেবুর সাত উপকারিতা

শরীরকে হাইড্রেড রাখে

ভিটামিন সি’র যোগান ঘটায়

ওজন হ্রাস করে সহজেই

ত্বকের যত্ন নেয়

হজমে সহায়তা করে

নিঃশ্বাসকে সতেজ রাখে

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে সহায়তা করে

১. লেবুর রস শরীরকে হাইড্রেড রাখে

খাদ্য ও পুষ্টি বোর্ডের মতে, প্রতিদিন মহিলাদের শরীরে কমপক্ষে ৯১ আউন্স এবং পুরুষদের কমপক্ষে ১২৫ আউন্স পানির প্রয়োজন। এই পানি, খাবার এবং পানীয় থেকে সাধারণত শরীরে প্রবেশ করে থাকে।

পানি হাইড্রেশনের জন্য সেরা পানীয়, তবে অনেকেই বেশি পানি খেতে পছন্দ করেন না এর স্বাদের জন্য। তাই লেবু মিশিয়ে পানি খেলে তা স্বাদ বাড়ায় ও পানি খাওয়ার ইচ্ছেও বাড়িয়ে তোলে। এটি শরীরকে হাইড্রেড করতেও সাহায্য করে।

২. লেবুর রস ভিটামিন সি’র যোগান ঘটায়

সাইট্রাস জাতীয় ফলে ভিটামিন সি বিপুল পরিমানে থাকে। লেবু সাইট্রাস জাতীয় ফলের মধ্যে একটি, যা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ।

ভিটামিন সি’তে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা কোষকে ফ্রি র‌্যাডিক্যালগুলো ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। লেবু তাই এই কাজটি করতে সক্ষম।

লেবুতে থাকা ভিটামিন সি কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ, স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। উচ্চ রক্তচাপকে হ্রাস করতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিক্ষেত্র নির্ভর সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি লেবুর রস প্রায় ১৮.৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি সরবরাহ করে। একজন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে শরীরে ৬৫ থেকে ৯০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি’র প্রয়োজন। যা লেবু থেকে আপনারা অনায়াসে পেতে পারেন।

৩. লেবুর রস ওজন হ্রাস করে সহজেই

গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে লেবুর রস বা লেবু পানি নিয়মিত পান করলে ওজন কমতে বাধ্য। কারণ লেবুতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে ক্ষতিকর মেদ জমতে দেয় না।

অতিরিক্ত মেদকে গলাতে সক্ষম লেবুর পানি। তবে তা সঠিক নিয়মে পান করলে তবেই সম্ভব।

প্রতিদিন মধু ও লেবু মেশানো পানি খালি পেটে সকাল সকাল পান করলে ওজন কমে তাড়াতাড়ি।

৪. ত্বকের যত্ন নেয় লেবুর রস

লেবুতে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের কুঁচকে যাওয়া, বয়েসের বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে।

যাদের ড্রাই স্কিন তারা নিয়মিত লেবুর পানি পান করলে কয়েকদিনের মধ্যে দেখবেন ড্রাইনেস কমে গিয়েছে।

ত্বকের হারানো জেল্লা নিমেষে ফিরে আসে লেবুর চমৎকারী কার্যকারিতার সাহায্যে।

ব্ল্যাকহেডসের মত সমস্যার মোকাবিলা করতে লেবুকে আপনার হাতিয়ার বানানে পারেন নির্দ্বিধায়।

ঠোঁটের কালচে ভাব দূর করে গোলাপি করতে দারুণ কাজ দেয় লেবুর রস।

৫. হজমে সহায়তা করে

অনেকেই আছেন যারা প্রতিদিন সকালে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে লেবুর পানি পান করেন। ঘুম থেকে ওঠার পর উষ্ণ বা গরম লেবু পানি পান করা পাচনতন্ত্রকে সক্রিয় করতে সহায়তা করে।

আয়ুর্বেদিক শাস্ত্র বলছে যে, টক লেবুর স্বাদ অগ্নাশয়কে উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে। হজম সিস্টেমকে ঠিক রাখে, ফলে খাবার সহজে হজম হয়। টক্সিনের গঠন প্রতিরোধে সহায়তা করে লেবুর রস।

৬. নিঃশ্বাসকে সতেজ রাখে

রসুন, পেঁয়াজের মত গন্ধযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে মুখ থেকে বাজে গন্ধ বের হয়। যা নিঃশ্বাসের সাথেও মিশে যায়। লেবুর রস আপনাদের এই সমস্যা থেকে মুক্ত কোরতে পারে।

খাওয়ার পরে এক গ্লাস লেবুর পানি পান করে আপনি সকালে দুর্গন্ধ এড়াতে পারেন। লেবুর রস ব্যাকটেরিয়াজনিত দুর্গন্ধ দূর করে নিমেষে মুখের ভিতর ফ্রেসনেশ এনে দেয়।

রেস্তোরাঁ বা অনুষ্ঠান বাড়িতে অনেকেই খাবার পর এক টুকরো লেবু চিপে খেয়ে নেন। এতে হজম যেমন ভালোভাবে হয় পাশাপাশি মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়।

৭. কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে সহায়তা করে

লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।

লেবুর রস প্রসাবকে কম অ্যাসিডযুক্ত করে তোলে এবং ছোট ছোট পাথরও ভেঙে ফেলতে পারে।

কীভাবে লেবুর পানি বানাবেন

নিয়মিত লেবুর পানি পান করা মানে এই নয় যে পানিতে এক ফালি লেবু মিশিয়ে খেয়ে নিলেই হবে। সঠিক প্রয়োগই এনে দেবে উপকার।

সবসময় টাটকা লেবুর ব্যবহার করবেন। কোন প্রকারের কেমিক্যাল যুক্ত লেমন জুস না।

লেবুর পানি তৈরি করতে, অর্ধেক লেবু ৪ আউন্স গরম বা ঠান্ডা পানিতে মিশিয়ে নিন। পানীয়টি যথাসম্ভব স্বাস্থ্যকর করতে, ফিল্টারযুক্ত পানি এবং জৈব লেবু ব্যবহার করুন।

আইস ট্রেতে লেবুর রস জমিয়ে আইস কিউব বানিয়ে রেখে দিতে পারেন। যখনই পানি খাবেন একটুকরো লেবুর আইস কিউব মিশিয়ে তা পান করুন। বারবার কাটার ঝামেলা থাকবে না।

উষ্ণ লেবুর পানি দিয়ে শুরু করতে পারেন আপনার সকাল। এক গ্লাস উষ্ণ গরম পানিতে একটি আস্ত লেবু মিশিয়ে খান খালি পেটে। আর সারাদিনের জন্য এক বোতল পানিতে লেবু ফালি ফালি করে কেটে মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া লেবুর রসের

সাধারণত লেবুর পানি পান করা নিরাপদ। তবে কয়েকটি সম্ভাব্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে, তাই সচেতন হওয়া জরুরি।

লেবুতে সাইট্রিক অ্যাসিড রয়েছে যা দাঁতের এনামেল ক্ষয় করতে পারে। ঝুঁকি এড়াতে স্ট্র এর সাহায্যে লেবুর পানি পান করুন। পানি খাওয়ার পর মুখে পানি দিয়ে কুলকুচি করে নিন।

অম্বলের সমস্যা যাদের আছে তাদের জন্য লেবু বেশি পরিমানে খাওয়া ঠিক না। সাইট্রিক অ্যাসিড লেবুতে থাকার ফলে অনেকের লেবু খেয়েও অম্বল হয়। তাই তারা একটু সাবধান থাকুন এটি পানের ক্ষেত্রে।

লেবুর পানি পান করলে বারবার বার্থরুমে যাওয়ার প্রবনতা বেড়ে যায় অনেকের। তবে এটি লেবুর জন্য হয় না। পরিমানের চেয়ে বেশি পানি পানের জন্য হয়।

মনে রাখার বিষয়

গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে লেবুর পানি পানের যথেষ্ট স্বাস্থ্যগত সুবিধা রয়েছে। তাছাড়া পানিতে লেবু মিশিয়ে খাওয়ায়, সারাদিন সঠিক মাত্রায় শরীরে পানির যোগান ঘটে। লেবু শরীরকে সারাদিন হাইড্রেটেড রাখতে সহায়তা করে। শরীর হাইড্রেটেড থাকা স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই লাভদায়ক। তাই শরীরের জন্য লেবুর রসের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ইসি/

 

জীবনযাত্রা: আরও পড়ুন

আরও