চিনিই ডাকছে চোখের সর্বনাশ!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

চিনিই ডাকছে চোখের সর্বনাশ!

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:৫৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯

চিনিই ডাকছে চোখের সর্বনাশ!

খাবার চিনি নয়, কথা হচ্ছে রক্তের চিনিকে নিয়ে৷ যেভাবে ডায়াবিটিসের প্রকোপ বাড়ছে ক্রমশ, তাতে রক্তে চিনির মাত্রা বাড়া নিয়ে ভাবা উচিৎ! আমেরিকান ডায়াবিটিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এই রক্তে চিনিই ধ্বংস করছে চোখের আরাম। এবং তা আমাদের অজান্তেই।

‘তলে তলে শরীরের সর্বনাশ ডেকে আনছে রক্তে শর্করা। শরীরের সব প্রত্যঙ্গের পাশাপাশি চোখেরও৷ কেউ কেউ অবশ্য টাইপ ২ ডায়াবিটিস, অর্থাৎ পরিণত বয়সে যে ডায়াবিটিস হয়, তা নিয়ে ১৭–১৮ বছর কাটানোর পরও তেমন কোনো জটিলতায় ভোগেন না। জিনের কারণেই তাদের চোখ, কিডনি মোটামুটি ঠিকঠাক থাকে৷ বাকিদের ক্ষেত্রে মোটামুটি বছর পাঁচেক পর চোখের নার্ভ বা রেটিনা খারাপ হয়ে দৃষ্টিশক্তি খারাপ হতে শুরু করে, যাকে বলে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি৷ ইনসুলিন নির্ভর হলে সে আশঙ্কা আরো বাড়ে৷ টাইপ ১ ডায়াবিটিসে (বাচ্চাদের যে ডায়াবিটিস হয়) ভুগলে, ১৫ বছর বয়সের মধ্যে ৯৮ শতাংশ বাচ্চা এতে ভুগতে শুরু করে৷’

সুগার বশে থাকলে রোগ ঠেকিয়ে রাখা যায় বহু দিন৷ তার জটিলতাও কম থাকে৷ গ্লাইকেটেড হিমোগ্লোবিন বা এইচবিএ১সি সাত–এর নীচে রাখতে পারলে খুব ভালো৷

সাত-আটের মধ্যে থাকলে এতটা সুবিধা কিন্তু নেই৷ আট-নয় হলে তো চোখের অবস্থা তাড়াতাড়ি জটিল হয়৷ নয়ের বেশি হলে তো কথাই নেই! সঙ্গে হাইপ্রেশার, হাই কোলেস্টেরল–ট্রাইগ্লিসারাইড থাকলে বিপদ বাড়ে৷

ডায়াবেটিক নারীরা অন্তঃসত্ত্বা হলে রেটিনোপ্যাথি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে৷ আবার তার যদি আগে থেকেই রোগ থেকে থাকে, তা হলে ওই সময় বাড়ে তার প্রকোপ৷ ওবেসিটি থাকলেও বিরাট ঝামেলা৷

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

টাইপ ১ ডায়াবিটিস হওয়ার ৫ বছর পর থেকে প্রতি বছর চোখের রেটিনা, কিডনি ও নার্ভ পরীক্ষা করে দেখতে হয়৷ টাইপ ২ হলে শুরু থেকেই প্রতি বছর পরীক্ষা করার নিয়ম৷

রেটিনায় গোলমাল হলে ডাক্তার লেসার দিয়ে চিকিৎসা করেন সচরাচর৷ কখনো কিছু ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়৷ এতে রোগ খুব ভালোভাবে আয়ত্তে থাকে৷

ডায়াবিটিস, হাইপ্রেশার, হাই কোলেস্টেরল ও মেদবাহুল্যকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে এ নিয়ে আর চিন্তার তেমন কিছু থাকে না৷ তাই নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি, ওষুধ পথ্য ও নিয়মিত পরীক্ষায় নিজেকে সুস্থ রাখুন।

ইসি/

 

জীবনযাত্রা: আরও পড়ুন

আরও