বর্ষায় হতে পারে পেটের নানা সমস্যা

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

বর্ষায় হতে পারে পেটের নানা সমস্যা

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৯

বর্ষায় হতে পারে পেটের নানা সমস্যা

বর্ষায় পেটের সমস্যা নতুন কিছু নয়। তবে শুধু বড়দের নয়, এই ঋতু পরিবর্তনের সময় ছোটদের প্রতিও বাড়তি নজর রাখতে হয়। ফুড পয়জন থেকে ডায়েরিয়া, সাধারণ বদহজমও মাথাচাড়া দেয়। গরমের ছুটির পর বাচ্চাদের রুটিনেও কিছুটা রদবদল হয়। স্কুল খুলে যায়। খাওয়াদাওয়ার সময়, পরিমাণ ও টিফিনের উপাদানও বদলে যায়। তাই একটু নিয়মের এদিক-ওদিক হলেই সমস্যা দেখা যায়। বাইরের খাবার ও খাওয়ার সময়ের কারণে হওয়া বদহজমও থাবা বসাতে পারে যখন তখন। কৃমির প্রবণতা থাকলে পেটের যেকোনো সমস্যায় আরো কাহিল হয়ে পড়ে শিশু। তাই বর্ষায় বাড়ির সোনামণিদের পেটের খেয়াল রাখা বিশেষ প্রয়োজন।

বর্ষাকালে বৃষ্টির নোংরা পানি জমে চারদিকে। এই জমা পানিই বিভিন্ন পেটের রোগের আঁতুড়ঘর। পরিচ্ছন্নতার অভাবও অসুখের অন্যতম কারণ। এই সময় পোকা-মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ে। খাবারের উপর বসে জীবাণু ছড়ায়। তার ফলে ব্যাকটিরিয়া ও ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে খাদ্যনালীতে সংক্রমণ ছড়ায়। তাই বর্ষায় বাড়তি সচেতন হতেই হবে। কিন্তু কেমন হবে সেই সতর্কতা? কীভাবেই বা শিশুর থেকে দূরে রাখবেন অসুখ? আসুন সেই সম্পর্কে আজ জেনে নেই।

প্রথমেই জেনে রাখা ভালো, কোন কোন অসুখের হানায় শিশু বিব্রত হতে পারে।

অমাশয় বা ডিসেন্ট্রি, যা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে গেলে রক্তপাতও ঘটায়।

এছাড়া ডায়েরিয়াও এই মৌসুমের অন্যতম রোগ। শুধু খাবার বা পানীয় থেকেই নয়, অপুষ্টির কারণে ভিটামিন এ ও জিঙ্কের অভাবও অসুখ ডাকে। এছাড়া সর্দি-কাশি কমাতে অনেক সময় কিছু অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়, যা থেকে ডায়েরিয়া হতে পারে।

কৃমি ও বদহজমও বাসা বাঁধে এই সময়।

এই অসুখগুলোর ক্ষেত্রে প্রথম থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অবহেলা তো চলবেই না এমনকি, অসুখ যাতে বাসা না বাঁধে শরীরে, সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। কী কী মেনে চললে অসুখ এড়াতে পারবেন— রইল চিকিৎসকের পরামর্শ।

ডায়েরিয়ার ভ্যাক্সিনে অবহেলা একেবারেই নয়।

প্রথমেই স্পষ্ট করে বলা ভালো, বর্ষা মানেই আবহাওয়ায় জলীয় ভাবের সঙ্গে পানি-কাদা বাড়বে। নোংরাও বাড়বে। তাই প্রথমেই বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখুন।

খাবার বানানোর সময় যে পানি বা পাত্র ব্যবহার করছেন তা যেন খুব পরিচ্ছন্ন হয়।

হাত ভালো করে ধুয়ে খাওয়ান শিশুকে। সন্তান নিজে হাতে খেলেও নজর রাখুন ওর হাইজিনের দিকে।

শিশুর বয়স এক বছরের মধ্যে হলে তাকে অন্য খাবার দেওয়ার চেয়ে মাতৃদুগ্ধ পান করান। বদহজম ঠেকাতেও এই দাওয়াই উপকারী।

ডায়েরিয়া হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শিশুকে জিঙ্ক সিরাপ এবং প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল দেওয়া যেতে পারে। তবে পেটের সমস্যায় সকলের আগে স্যালাইন ওয়াটার দিন।

পাঁচ বছর বা তার কম বয়সি বাচ্চাদের ভাইরাল ডায়েরিয়া হওয়ার প্রবণতা বেশি। শিশুর দেড় থেকে আড়াই মাস বয়স পর্যন্ত ডায়েরিয়া আটকানোর বিশেষ ভ্যাকসিন নেওয়ান।

শিশুর খাবার পাতে সবুজ শাক-সবজি ও ফলমূল রাখুন। তবে কাটা ফল দেবেন না। রাস্তার পানীয় ও খাবার থেকে দূরে রাখুন।

শিশুর স্কুলের টিফিনের প্রতি নজর দিন। বর্ষায় সংক্রমণ বাড়ার ভয় থাকে। তাই পেটে সয় না এমন খাবার একেবারেই দেওয়া যাবে না।

খুব ভাজাভুজি বা তেল-মশলার খাবার এড়িয়ে চলুন। টিফিনের খাবার ঠাণ্ডা হয়ে যায়। তাই এমন কিছু দেবেন না যা ঠাণ্ডা হওয়ার পর আরো বিষাক্ত হয়ে যায়।

এড়িয়ে চলুন নুডলস বা প্রিজারভেটিভ মেশানো খাবার। শিশু খুব বায়না করলে বরং দু’-এক দিন বাড়িতে বানিয়ে গরম গরম খাইয়ে দিন সে সব।

অন্তত পাঁচ বছর বয়স অবধি খাওয়ার পানি ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে খাওয়ান। পানি পরিশোধনের ব্যবস্থা থাকলে সেই যন্ত্রটিও নিয়মিত পরিষ্কার করুন। এলাকায় ডেঙ্গু ধরা পড়লে পানি পরিশোধনের পরেও শিশুকে সেই পানি গরম করে বাড়তি সুরক্ষা নিয়ে পান করান।

পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি খাওয়ার পরিমাণ মাথায় রাখুন, কিছুতেই শরীর থেকে পানির পরিমাণ কমতে দেওয়া যাবে না। এতে ডিহাইড্রেশন আটকানো সহজ হবে।

কোনো কোনো খাবারে শিশুর গ্যাস-অম্বলের সমস্যা থাকলে তা এড়াতে হবে।

বাড়ির পানির ট্যাঙ্ক নিয়মিত পরিষ্কার করুন।

পেটে ব্যথা হলে নিজেরা চিকিৎসা না করে ঘরোয়া স্যালাইন ওয়াটার দিয়েই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ইসি/

 

জীবনযাত্রা: আরও পড়ুন

আরও