মেডিকেল রিপোর্ট আসেনি, খালেদার জামিন শুনানি পেছালো

ঢাকা, রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০ | ৬ মাঘ ১৪২৬

মেডিকেল রিপোর্ট আসেনি, খালেদার জামিন শুনানি পেছালো

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ১১:১১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৯

মেডিকেল রিপোর্ট আসেনি, খালেদার জামিন শুনানি পেছালো

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার মেডিকেল প্রতিবেদন না আসায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তার জামিন আবেদনের শুনানি ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত পিছিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা জানতে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন জমাদানের নির্দেশও দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

একইসঙ্গে ওইদিন পরবর্তী জামিন শুনানি হবে বলেও জানিয়েছেন আদালত।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় বিচারকের আপিল বেঞ্চে বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দুই সপ্তাহ সময় চেয়ে জানান, বিএনপি প্রধানের স্বাস্থ্য প্রতিবেদন এখনও প্রস্তুত হয়নি। এটি প্রস্তুত করার জন্য আরও সময় প্রয়োজন।

তখন খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, আমাদের কাছে প্রতিবেদন আছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, কীসের প্রতিবেদন, ওটা ড্যাবের প্রতিবেদন।

জয়নুল আবেদীন বলেন, বিএসএমএমইউর।

এ পর্যায়ে বিএনপির আইনজীবীরা আদালতে হৈচৈ শুরু করেন। তবে মওদুদ আহমদসহ কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। এমন পরিপ্রেক্ষিতে বিচারকরা এজলাস ছেড়ে যান।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন, দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান।

খালেদার পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক খন্দকার মাহবুব হোসেন, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, এজে মোহাম্মদ আলী, নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ শতাধিক আইনজীবীরা।

এদিকে, খালেদা জিয়ার জামিন না হওয়ায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা এজলাসে অবস্থান করছেন।

তাদের দাবি, তারা খালেদার জামিন না নিয়ে এজলাস ত্যাগ করবেন না। প্রয়োজনে তারা সারাদিন অবস্থান করবেন এজলাসে।

এর আগে গত ২৮ নভেম্বর আপিল বিভাগ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি পিছিয়ে ৫ ডিসেম্বর নির্ধারণ করে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় বিচারকের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একই বেঞ্চ ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা জানতে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন জমাদানের নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ১৪ নভেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টে খারিজ হওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আবেদনটি দায়ের করেন।

গত ৩১ জুলাই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের সশ্রম দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দী আছেন বিএনপি প্রধান। অরফানেজ মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান তিনি। পরে হাইকোর্ট সাজার মেয়াদ বাড়িয়ে ১০ বছর করে। এ রায়ের বিরুদ্ধে তার আপিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

গত ৬ অক্টোবর আদালতের আদেশে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়। ৮ নভেম্বর তাকে চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অনুমোদনের পরে খালেদাকে বিএসএমএমইউ থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয় এবং নাইকো দুর্নীতি মামলায় পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে একটি অস্থায়ী আদালতে হাজির করা হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বর্তমানে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন।

এমএইচ/এসবি

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও