ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন স্পষ্ট করে লেখার নির্দেশ

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন স্পষ্ট করে লেখার নির্দেশ

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১০:২৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০১৯

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন স্পষ্ট করে লেখার নির্দেশ

মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন চিকিৎসকদের স্পষ্ট অক্ষরে লেখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের একটি টাইপ কপিও প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত করে দেয়ার কথাও বলা হয়েছে ওই নির্দেশে।

বুধবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

দেশের মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং সব সিভিল সার্জনকে জানাতে ওই নির্দেশনাসংবলিত সার্কুলার জারি করতে স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

যেকোনো হত্যা মামলায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ দলিল বলে আদালত জানিয়েছেন।

কক্সবাজারে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলায় জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দেয়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের লেখা অস্পষ্ট হওয়ার প্রেক্ষাপটে ওই আদেশ দেয়া হয়। ওই মামলায় সাইফুলের সহপাঠী অপর কিশোরের জামিন শুনানিতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়।

আদালতে জামিন আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী দাস তপন কুমার। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন।

পরে আইনজীবী দাস তপন কুমার গণমাধ্যমকে বলেন, জামিন চেয়ে করা আপিল শুনানিতে গত ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট নিহত ছাত্রের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছিলেন। এ অনুসারে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সোলতান আহমদ সিরাজীর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনটি আদালতে দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনটি অস্পষ্ট ও পড়ার অযোগ্য, যা আদালতের নজরে আসে। শুনানি নিয়ে আদালত ওই কিশোরকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন। ফলে, গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা ওই কিশোরের মুক্তিতে বাধা নেই।

নথিপত্র থেকে জানা যায়, সাইফুল হত্যার ঘটনায় ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার থানায় মামলা করে তার বাবা।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সাইফুলের সঙ্গে একই শ্রেণির ছাত্র আরিফের কথা কাটাকাটির জেরে ২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সাইফুলের ওপর হামলা চালায় আরিফসহ অজ্ঞাত পাঁচ-ছয়জন। আহত অবস্থায় তাকে কক্সবাজারে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ২০ ফেব্রুয়ারি সাইফুল মারা যায়। ওই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার থানায় মামলা হয়।

এ মামলায় কারাবন্দি আরিফ কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে জামিনের আবেদন করলে গত ১২ সেপ্টেম্বর আদালত তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়। পরে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়। জামিন আবেদনের সঙ্গে সাইফুল ইসলামের মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, যা পড়ার অযোগ্য।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) আরিফের জামিনের আবেদনের ওপর শুনানিকালে ওই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আসে। এরপর আদালত এ নির্দেশ দেন এবং আরিফের জামিন দেন।

ওএস/এইচআর

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও