অর্থপাচার: ম্যাক্সিম ফাইন্যান্সের ২১ জনের দণ্ড, ৬০৩ কোটি টাকা জরিমানা

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

অর্থপাচার: ম্যাক্সিম ফাইন্যান্সের ২১ জনের দণ্ড, ৬০৩ কোটি টাকা জরিমানা

আদালত প্রতিবেদক ৩:০৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০১৯

অর্থপাচার: ম্যাক্সিম ফাইন্যান্সের ২১ জনের দণ্ড, ৬০৩ কোটি টাকা জরিমানা

মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় ম্যাক্সিম ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্স মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মফিজুল হকসহ ২১ জনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া দণ্ড প্রাপ্তিদের ৬০৩ কোটি ৮৬ হাজার ২৫ হাজার ৪৭৮ টাকার অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১ এর বিচারক সৈয়দা হোসনে আরা এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন—ম্যাক্সিম ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, পরিচালক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, খায়রুল বাশার সজল, আবদুল হান্নান সরকার, সৈয়দ শরিফুল ইসলাম, এইচএম আমিরুল ইসলাম, মো. ওলিয়ার রহমান, ফজলুর রহমান, মো. আসাদুজ্জামান (তপন), মোহাম্মদ সোলাইমান সরোয়ার, হারুন আর রশিদ, শেখ আবদুল্লাহ আল মেহেদী, সৈয়দ জাহিদুল ইসলাম, মনোয়ার হোসেন, এমএ সাদী, আসলাম হোসাইন, মেহেদী হাসান মোজাফ্ফর, ইমতিয়াজ হোসেন কাওসার ও মিজানুর রহমানকে দণ্ডের পাশাপাশি মানি লন্ডারিংয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট তিনশ কোটি ৯৩ লাখ ১২ হাজার ৭৩৯ টাকার দ্বিগুন অর্থাৎ ৬০৩ কোটি ৮৬ হাজার ২৫ হাজার ৪৭৮ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সে হিসেবে ২১ আসামির প্রত্যেককে ২৮ কোটি ৬৬ লাখ এক হাজার ২১৩ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

এমএলএম ব্যবসার নামে অতি মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৩০৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ম্যাক্সিম ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্স মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মফিজুল হকসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক নূর হোসেন খান। ২০১৪ সালের ১৯ মে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় বলা হয়, ঢাকাসহ সারাদেশে ম্যাক্সিম ফাইন্যান্সের ১১৩টি শাখার মাধ্যমে ১৮ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় ৩০৪ কোটি ১০ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। এই টাকা ম্যাক্সিম গ্রুপভুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ দেখিয়ে স্থানান্তর, রূপান্তর করে মানি লন্ডারিং করা হয়, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২)(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এজাহারে আরো বলা হয়, গ্রাহকের আমানতের বিপরীতে প্রতি লাখে মাসে দুই হাজার টাকা ও আদায়কারীকে মাসে ৫০০ টাকা করে কমিশন দেওয়া হয়। ব্যবসা করে ওই হারে মুনাফা দেওয়া সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে নতুন গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ পুরনো গ্রাহককে দেওয়া হতো। ম্যাক্সিম ফাইন্যান্স থেকে সংগ্রহ করা অর্থ বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হতো। ম্যাক্সিম ফাইন্যান্সের ১১৩টি শাখা থাকলেও সমবায় অধিদপ্তর থেকে অনুমতি নেওয়া হয় মাত্র ২৫টি শাখার।

এমআই/জেডএস

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও