জোড়া খুন: বাচ্চুসহ আরো তিনজন গ্রেফতার

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

জোড়া খুন: বাচ্চুসহ আরো তিনজন গ্রেফতার

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১১:২১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৪, ২০১৯

জোড়া খুন: বাচ্চুসহ আরো তিনজন গ্রেফতার

ধানমন্ডিতে আফরোজা বেগম ও তার গৃহকর্মী দিতি হত্যা মামলায় গৃহকর্মী সুরভীর পর আরো তিনজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

তারা হলেন- আফরোজার জামাতা মনির উদ্দিনের বডিগার্ড আতিকুল হক বাচ্চু, বাড়ির দারোয়ান নুরুজ্জামান ও ক্লিনার বেলাল প্রিন্স।

এই তিনজনকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সন্দেহভাজন হিসেবে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল পুলিশ। সোমবার আলোচিত এই মামলাটি তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এরপর রাতেই গৃহকর্মী সুরভীর সাথে এই হত্যা মামলায় বাচ্চু, নুরুজ্জামান ও বেলালকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের পোর্টাল ডিএমপি নিউজে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এরা চারজনই জোড়া খুনের এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

এর আগে রোববার রাতে রাজধানীর আগারগাঁও বস্তি থেকে হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি গৃহকর্মী সুরভী আক্তারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রাতভর জিজ্ঞাসাবাদে সুরভী জানায়, এলাকার স্থানীয় এক পান বিক্রেতার সাথে তার আগে থেকে পরিচয় ছিল। নিহত আফরোজার জামাতা মনির উদ্দিনের বডিগার্ড আতিকুল হক বাচ্চু ওই পান বিক্রেতার দোকান থেকে নিয়মিত পান কিনতেন। বাচ্চু ওই পান বিক্রেতাকে বলেছিলেন নতুন একজন গৃহকর্মীর খোঁজ নিতে। পরে ওই পান বিক্রেতার মাধ্যমেই বাচ্চুর সাথে শুক্রবার আফরোজাদের বাড়িতে যায় সুরভী।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, বাচ্চু ওই বাসায় কাজে নিয়ে গেলেও, তার আচরণ ভাল লাগেনি সুরভীর। শুক্রবার বাচ্চু তাকে ওই বাসায় নিয়ে যায়। এরপর আফরোজা বেগম প্রথম দিনের মত সুরভীকে দিয়ে কিছু কাজ করান। কাজ শেষে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে চায় সুরভী। কিন্তু তাকে বাধা দেয় আফরোজাদের পুরোনো গৃহকর্মী দিতি। এক পর্যায়ে দিতি ও সুরভীর মধ্যে ঝগড়া হয়। তখন সুরভী রান্নাঘর নেয়া ছুরি দিয়ে দিতির গলা, পিঠ আর বুকে আঘাত করে।

এরপর আফরোজার কক্ষে গিয়ে সুরভী বলে- সে বাইরে যেতে চায়। তখন আফরোজা জানতে চায়, অন্য ঘরে দিতি চিৎকার করল কেন। সুরভী তখন বলে, তাকে বাইরে যেতে দেয়নি বলে ঝগড়া করেছে। তখন আফরোজা বলে, যে তোকে এনে দিয়ে গেছে সে না বলা পর্যন্ত তোকে যেতে দেব না। এ সময় সুরভী অফরোজাকে গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে গেট খুলে পালিয়ে যায়।

জিজ্ঞাসাবাদে সুরভী আরো জানায়, সে ভয় পাচ্ছিল, বাচ্চু তাকে পাচার করে দিতে পারে অথবা অন্য কোন অনৈতিক কাজ করাতে পারে।

হত্যাকাণ্ডের পর বাসা থেকে তিনটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, সঞ্চয়পত্র ও সোনাসহ অনেক কিছু খোয়া গেছে বলে অভিযোগ করেছিল আফরোজার পরিবার।

তবে সুরভী পুলিশকে জানিয়েছে, সে একটি আইফোন নিয়ে গিয়েছিল। সেটি চার হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে পুলিশের হেফাজতে ছিল বডিগার্ড বাচ্চু, দারোয়ান নুরুজ্জামান ও ক্লিনার বেলাল। গৃহকর্মী সুরভীর সাথে তারাও এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকতে পারেন এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তাদের মামলার সন্দেহভাজন আসামি করেছেন আফরোজার মেয়ে দিলরুবা।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সুরভী একাই হত্যাকাণ্ড ঘটনার কথা জানালেও বাকিদের এখনই সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। বাচ্চু জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছিলেন যে তিনি সুরভীকে তেমন ভালোভাবে চেনেন না। অথচ তদন্তে দেখা গেছে হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে কমপক্ষে অর্ধশতবার সুরভীর সাথে মোবাইলে তার যোগাযোগ হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাতে ধানমন্ডির ২৮ নং রোডের ২১ নম্বর বাড়ির থেকে গৃহকত্রী আফরোজা বেগম ও গৃহপরিচারিকা দিতির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আফরোজা বিজিএমইএ'র পরিচালক ও শিল্পপতি কাজী মনির উদ্দিনের শাশুড়ি।

ওই ঘটনায় রোববার সকালে নিহত আফরোজা বেগমের মেয়ে দিলরুবা সুলতানা রুবা বাদী হয়ে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে ধানমন্ডি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পিএসএস/এআরই

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও