‘ওসি মোয়াজ্জেম ব্যবস্থা নিলে নুসরাত মরতো না’

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

‘ওসি মোয়াজ্জেম ব্যবস্থা নিলে নুসরাত মরতো না’

আদালত প্রতিবেদক ১০:২৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৪, ২০১৯

‘ওসি মোয়াজ্জেম ব্যবস্থা নিলে নুসরাত মরতো না’

সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন যদি সে সময় আইনগত ব্যবস্থা নিতেন তাহলে নুসরাতকে এভাবে মরতে হতো না বলে আদালতকে বলেছেন নুসরাতের বান্ধবী নাসরিন সুলতানা ফুর্তি।

ওসি মোয়াজ্জেম বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে এসে সোমবার বিকালে নাসরিন সুলতানা ফুর্তি আদালতে বলেন, ‘গত ২৭ মার্চ নুসরাতের শ্লীলতাহানির অভিযোগে যে মামলা হয়েছিল তার জন্য আমাদের থানায় ডাকা হয়। আমার সামনে নুসরাতের ভিডিও ধারণ করা হয়। ভিডিও ধারণ করার সময় নুসরাতকে বার বার বলা হচ্ছিল মুখ থেকে হাত সরাতে। সেদিন নুসরাতকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওসি মোয়াজ্জেম আমার মুখের নেকাব খুলতে বলেন। আমি জিজ্ঞেস করি, কেন নেকাব খুলতে হবে? ওসি বলেন নেকাব খুলে জোরে কথা বলতে হবে, যেন আমি শুনতে পাই। এরপর নিশাতকে ডেকে তারও ভিডিও রেকর্ড করে। পরে আমরা চলে আসি। কিছুদিন পর নুসরাতের ভিডিও করার ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখতে পাই। ওসি মোয়াজ্জেম যদি সে সময় আইনগত ব্যবস্থা নিতেন তাহলে নুসরাতকে জীবন দিতে হতো না।’

নুসরাতের আরেক বান্ধবী নিসাত সুলতানা আদালতে বলেন, ‘গত ২৭ মার্চ নুসরাতের শ্লীলতাহানির মামলার জন্য পুলিশ মাদ্রাসায় এসে আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। ওখানে অনেক তর্ক-বিতর্ক হয়। এরপর আমি, নুসরাত, ফুর্তি ও কলেজের প্রিন্সিপালকে থানায় নেয়া হয়। ওসি মোয়াজ্জেম প্রিন্সিপালকে এক রুমে বসান। ওসি আমাকে অন্য রুমে পাঠিয়ে দেন। অন্য রুমে বসা অবস্থায় পুলিশ এসে ১০/১৫ মিনিট পরে আমাকে ডেকে নিয়ে যায়। ওই সময় ওসি মোয়াজ্জেম মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমার কথা রেকর্ড করেন। আমি ওসিকে জিজ্ঞাসা করি, কেন ভিডিও রেকর্ড করা হচ্ছে? উত্তরে ওসি মোয়াজ্জেম জানান, মামলার স্বার্থে এটা করা হচ্ছে। অন্য রুমে নুসরাত ও ফুর্তিও ছিল। থানা থেকে বের হয়ে ফুর্তিকে আমি জিজ্ঞেস করি, তোরও কি ভিডিও ধারণ করেছে? সে হ্যাঁ বলে। এর কিছু সময় পর আমরা তিনজন চলে আসি। ঘটনার কিছুদিন পর নুসরাতের ভিডিওটা ইউটিউবে দেখতে পাই। এসব নিয়ে অনেক মানববন্ধনও হয়েছে।’

সোমবার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির বান্ধবী নাসরিন সুলতানা ফুর্তি, নিসাত সুলতানা  ও  সিআইডির ফরেনসিক কর্মকর্তা সাক্ষ্য দেন। এ তিনজনের সাক্ষ্য শেষে আদালত আগামী ১১ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেন।

এ তিনজনসহ মামলাটিতে ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সোমবার সাক্ষ্যগ্রহণকালে ওসি মোয়াজ্জেমকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে মাদ্রাসাটির সাইক্লোন সেন্টার ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিয়ে আগুন দেয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ নুসরাত পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মৃত্যু হয় তার।

এমআই/এইচআর

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও