‘মোহাম্মদপুরের সুলতান’ খ্যাত কে এই রাজীব!

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

‘মোহাম্মদপুরের সুলতান’ খ্যাত কে এই রাজীব!

প্রীতম সাহা সুদীপ ৪:৩১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৯

‘মোহাম্মদপুরের সুলতান’ খ্যাত কে এই রাজীব!

একচ্ছত্র আধিপত্য ও প্রভাবের কারণে অনেকেই তাকে ‘মোহাম্মদপুরের সুলতান’ নামে ডাকেন। তবে তার আসল নাম তারেকুজ্জামান রাজীব।

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তিনি। পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরও।

 

 

সম্প্রতি দেশে ক্যাসিনো ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন এই যুবলীগ নেতা। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না, শনিবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক বন্ধুর বাড়ি থেকে কাউন্সিলর রাজীবকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

তার কাছ থেকে সাত বোতল বি‌দে‌শি মদ, ৩৩ হাজার টাকা ও এক‌টি অ‌বৈধ অস্ত্র গু‌লি উদ্ধার করা হয়। র‍্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে এ তথ্য জানান।

যেভাবে উত্থান এই রাজীবের

মোহাম্মদপুরে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, ডিশ ব্যবসাসহ নানা অপরাধ করে দুর্ধর্ষ ও বেপরোয়া হয়ে উঠা এই কাউন্সিলর রাজীবের উত্থানের গল্প খুব বেশি দিন আগের নয়।

মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির এক কক্ষের বাসায় ভাড়া থাকতেন তারেকুজ্জামান রাজীব। ওই এলাকায় যুবলীগের রাজনীতি দিয়েই রাজীবের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়।

অল্পদিনেই নেতাদের সান্নিধ্যে মোহাম্মদপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পদ বাগিয়ে নেন রাজীব। ২০১৫ সালের কাউন্সিলর নির্বাচনে তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। বিভিন্ন কারসাজি করে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ বজলুর রহমানকে হারান।

২০১৫ সালে কাউন্সিলর হওয়ার পরই যুবলীগের এই নেতাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র ৫ বছরে ফুলে-ফেঁপে শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি।

যুবলীগের সাইনবোর্ড আর কাউন্সিলরের পদটি ব্যবহার করে এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন এই নেতা।

শুধু তাই নয় মোহাম্মদপুর এলাকার কিশোর গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণও ছিল তার হাতেই।

জানা গেছে, কাউন্সিলর হওয়ার পর রাজীবের লোকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা পাইন আহমেদকে মারধর করে। ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রী জানার পর মোহাম্মদপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় রাজীবকে।

পরে কেন্দ্রীয় যুবলীগের এক নেতাকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা দিয়ে উল্টো ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদটি বাগিয়ে নেন রাজীব।

আলিসান ডুপ্লেক্স বাড়ি, ৮ ফ্ল্যাট ও নামিদামি ১০ গাড়ির মালিক রাজীব

ফুলে ফেপে ওঠার পর তারেকুজ্জামান রাজীব থাকতেন নিজের ডুপ্লেক্স বাড়িতে। মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির ১ নম্বর সড়কের ৩৩ নম্বর প্লটে তার এই বাড়িটি অবস্থিত।

জানা গেছে, পাঁচ কাঠা জমির ওপর বাড়িটি করতে খরচ হয়েছে প্রায় ছয় কোটি টাকা। অথচ এটি ছিল পানির পাম্পের জন্য নির্ধারিত জায়গা।

এছাড়া গুলশান ও মোহাম্মদপুরে আটটি ফ্ল্যাট রয়েছে রাজীবের। শুধু তাই নয় বিগত ৫ বছরে ৮-১০টির বেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের গাড়ি কিনেছেন রাজীব। যার মধ্যে রয়েছে মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউ, ক্রাউন প্রাডো, ল্যান্ডক্রুজার ভি-৮ ও বিএমডব্লিউ স্পোর্টস কার।

পিএসএস/এআরই

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও