হামলার নেতৃত্বে মেহেদী-আজমির, বোমা বানায় রফিক

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

হামলার নেতৃত্বে মেহেদী-আজমির, বোমা বানায় রফিক

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১:১৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০১৯

হামলার নেতৃত্বে মেহেদী-আজমির, বোমা বানায় রফিক

মেহেদী হাসান তামিম ও আবদুল্লাহ আজমির নামে নব্য-জেএমবির দুই সদস্যকে গ্রেফতারের পর পুলিশ জানিয়েছে, তারাই রাজধানীর গুলিস্তান ও সায়েন্সল্যাবে পুলিশের ওপর বোমা হামলা চালিয়েছে।

এছাড়া মালিবাগ, পল্টন ও খামার বাড়ি এলাকায়ও পুলিশের ওপর হামলায় ব্যবহৃত বোমা তৈরিতে বন্ধু রফিককে তারা সহায়তা করেছে বলেও জানায় পুলিশ।

সোমবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম।

এর আগে রোববার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেহেদী হাসান তামিম ও মো. আবদুল্লাহ আজমিরকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতাররা নব্য জেএমবি’র সামরিক শাখার সদস্য। তারা দুইজনই খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেছেন।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময়ে মেহেদী ও আজমির নিষিদ্ধ এই সংগঠনের কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তারা ভোলার একটি দুর্গম চরে প্রশিক্ষণ নেয়।

২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হওয়া ফরিদ উদ্দিন রুমির ছোট ভাই জামাল উদ্দিন রফিকের নেতৃত্বে একটি সামরিক শাখা প্রতিষ্ঠা করে মেহেদী-আজমিররা। তারা ফতুল্লায় রফিকের বাসায় বোমা তৈরির একটি কারখানা তৈরি করে বলেও জানান কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান।

মনির আরো বলেন, তারা পরস্পর যোগসাজসে বোমা বানিয়ে গত ২৯ এপ্রিল গুলিস্তানে এবং ৩১ আগস্ট সাইন্সল্যাবে পুলিশের ওপর বোমা হামলা করে। এছাড়া মালিবাগ, পল্টন ও খামারবাড়ির বোমা হামলায় ব্যবহৃত বোমা তৈরিতে বন্ধু রফিককে সহায়তা করেন মেহেদী-আজমির। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এসব তথ্য স্বীকার করেছেন।

সিটিটিসি প্রধান আরো বলেন, মেহেদী ও আজমির জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে তাদের পরিকল্পনা এবং নেতৃত্বেই সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় বিভিন্ন স্থানে পুলিশের উপর বোমা হামলা করা হয়। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার তক্কার মোড়ে যেখানে জঙ্গি বিরোধী অভিযান চালানো হয়, সেখানে তারা নিয়মিত শলাপরামর্শ করতো।

মেহেদী ও আজমিরের অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে। তাদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আজ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল।

পিএসএস/জেডএস

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও