মিজানকে কেন পাগলা মিজান বলা হয়?

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মিজানকে কেন পাগলা মিজান বলা হয়?

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৯:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৯

মিজানকে কেন পাগলা মিজান বলা হয়?

যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ির মালিক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বরের ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজান ১৯৭৪/৭৫ সালে একজন পেশাদার ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজ ছিলেন।

১৯৭৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে রাজধানীর খামারবাড়ির খেজুর বাগান এলাকায় ছিনতাই করতে গিয়ে পুলিশের ধাওয়া খেয়েছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে দৌঁড়ে লালমাটিয়া মসজিদের পাশের পুকুরে ঝাপ দেন মিজান। পুলিশ তাকে বারবার নির্দেশ দিলেও তিনি পুকুর থেকে ওঠেন নি। ৪-৫ ঘণ্টা পর তিনি পরনের কাপড় ছাড়া উলঙ্গ অবস্থায় উপরে ওঠেন। এই উদ্ভট কাজের জন্যই পরবর্তীতে পুলিশ তার নাম দেয় পাগলা মিজান।

মিজানের নাম জড়িয়ে আছে খুন, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমিদখলসহ নানা অপরাধে। তিনি শুধু ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরই নন, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

যেভাবে রাজনীতিতে পাগলা মিজান:

জানা গেছে, ফ্রিডম পার্টি দিয়ে রাজনীতিতে নাম লেখান মিজান। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার জন্য যে হামলা করা হয়েছিল ওই ঘটনার সঙ্গে মিজান ও তার ভাইয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

অথচ, ১৯৯১ সালে ভোল বদলে ফেলেন মিজান। তার আসল নাম মিজানুর রহমান মিজান হলেও, সেটি বদলে নাম রাখেন হাবীবুর রহমান মিজান। আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে রাতারাতি বনে যান ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতায়।

প্রভাবশালী নেতাদের আশীর্বাদে মোহাম্মদপুরে মিজান গড়ে তুলেন অপরাধ সাম্রাজ্য। মাদক কারবার থেকে শুরু করে বাড়ি দখল, জমি দখল, খুন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কাণ্ডে তার নাম উঠে আসতে থাকে বারবার।

মিজানের যত অপকর্ম:

মহাজোট সরকারের আমলে মিজান বাহিনী ৩০০-৪০০ কোটি টাকার শুধু টেন্ডারবাজিই করেছে। এ ছাড়া ভূমিদখল, চাঁদাবাজিসহ মোহাম্মদপুর বিহারি ক্যাম্পে মাদক ও চোরাই গ্যাস-বিদ্যুতের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ মিজানের হাতে।

২০১৪ সালে মোহাম্মদপুর এলাকায় ৬৫ বছরের বৃদ্ধ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আহমেদ পাইন ও তার অসুস্থ স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে তুচ্ছ ঘটনায় শত শত মানুষের সামনে জুতাপেটা করেন এই পাগলা মিজান। কেউ ভয়ে কথা বলেননি।

মোহাম্মদপুর থানায় ১৯৯৬ সালে ইউনূস হত্যা ও ২০১৬ সালে সাভার থানায় জোড়া হত্যা মামলার আসামি এই পাগলা মিজান। শুধু তাই নয় গত সপ্তাহে জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক দল সন্ত্রাসী একটি রিয়েল এস্টেটের ছয় কর্মীকে গুলি এবং আরও ১৪ জনকে কুপিয়ে জখম করে।

এ সময় সন্ত্রাসীরা জুয়েল নামের একজনকে হত্যা করে লাশ তুরাগে ফেলে দেয়। এ হত্যাকাণ্ডেও মিজানের নাম উঠে এসেছে। সম্প্রতি মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে পুলিশের সঙ্গে ক্যাম্পবাসীর সংঘর্ষের নেপথ্যেও উঠে এসেছে তার নাম।

জানা গেছে, মিজান ক্যাম্পের বিদ্যুৎ লাইন থেকে ক্যাম্প-লাগোয়া কাঁচাবাজার ও মাছের বাজারের তিন শতাধিক দোকানে অবৈধ সংযোগ দিয়ে মাসে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আয় করতেন। এ কারণেই বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে ক্যাম্পবাসীর ঝামেলার সূত্রপাত।

শুক্রবার অবৈধ পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন ও নগদ দুই লাখ টাকাসহ  শ্রীমঙ্গলের কলেজ গেট এলাকা থেকে মিজানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরে তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। ছয় কোটি ৭৭ লাখ টাকার বিভিন্ন ব্যাংকের চেক, এক কোটি টাকার এফডিআরের কাগজ উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, মিজানের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমিদখলের সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ রয়েছে। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার জন্য যে হামলা করা হয়েছিল ওই ঘটনার সঙ্গে মিজান ও তার ভাইয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তারা দুজনই একসময় ফ্রিডম পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

পিএসএস

আরও পড়ুন...
‘পাগলা মিজানের’ বিরুদ্ধে র‌্যাবের দুই মামলা
এবার কাউন্সিলর মিজানের বাসায় র‌্যাবের অভিযান
কাউন্সিলর মিজানের কার্যালয়ে র‌্যাবের অভিযান
আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়ায় মিজানের বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি!

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও