রিশা হত্যার দায়ে ওবায়দুলের মৃত্যুদণ্ড

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

রিশা হত্যার দায়ে ওবায়দুলের মৃত্যুদণ্ড

আদালত প্রতিবেদক ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৯

রিশা হত্যার দায়ে ওবায়দুলের মৃত্যুদণ্ড

রাজধানী ঢাকার কাকরাইলে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা (১৪)কে হত্যার দায়ে একমাত্র আসামি ওবায়দুলের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানাসহ তাকে কারাগারে  পাঠানো হয়েছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল বলেন, প্রকাশ্যে একটা মেয়েকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় আদালত সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন।

মামলার বাদী ও রিশার মা তানিয়া হোসেন বলেন, ঘাতক ওবায়দুল আমার মেয়েটাকে বাঁচতে দিল না। পাষণ্ড এমনভাবে আমার মেয়েটাকে ছুরিকাঘাত করেছে যে সে আর ফিরল না।  ওবায়দুলের ফাঁসিই আমাদের কাম্য ছিল।

২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনে ফুট ওভারব্রিজে রক্তাক্ত অবস্থায় রিশাকে পাওয়া যায়। স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর ২৮ আগস্ট সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিশার মৃত্যু হয়।

২৪ আগস্ট রিশার মা তানিয়া রাজধানীর রমনা থানায় একটি মামলা করেন।

ঘটনার পর থেকে ওবায়দুল পলাতক ছিলেন। ৩১ আগস্ট নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারগাঁও থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ওবায়দুলের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ওবায়দুল। রিশা প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে খুন করার কথা স্বীকার করেন ওবায়দুল।

মামলাটি তদন্ত করে ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর ওবায়দুল হককে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার পুলিশ পরিদর্শক আলী হোসেন। ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল মামলার ওবায়দুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

নিহত রিশা রাজধানীর বংশাল থানাধীন সিদ্দিক বাজার এলাকার রমজান হোসেনের মেয়ে। ওবায়দুল দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মীরাটঙ্গী গ্রামের মৃত আবদুস সামাদের ছেলে। তিনি রাজধানীর ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং মলের বৈশাখী টেইলার্সের কর্মচারী ছিলেন।

এমআই/এসবি

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও