ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

আদালত প্রতিবেদক ৭:৩৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

চাকরিচ্যুতের অভিযোগে দায়ের করা তিন মামলায় গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান রহিবুল ইসলাম এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার নুরুজ্জামান পরিবর্তন ডটকমকে জানান, তিন কর্মচারির মামলায় ড. ইউনূস আদালতে উপস্থিত হয়ে সমনের জবাব না দেওয়ায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

অপরদিকে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজনীন সুলতানা ও উপ-মহাব্যবস্থাপক খন্দকার আবু আবেদীন আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

আইনজীবী রাজু আহম্মেদ ড. ইউসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি না করার আবেদন করে আদলতকে বলেন, ড. ইউনূস সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি ব্যবসার কাজে বিদেশ অবস্থান করছেন। দেশে আসলে আদালতে উপস্থিত হবেন। আদালত শুনানি শেষে আবেদন নামঞ্জুর করে গ্রেফতারি পরোয়ান জারি করেন।

পিরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আজ তিন মামলায় ড. ইউনূসের সমনের জবাব দেওয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তিনি বিদেশে থাকায় আদালতে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি।

এর আগে ৩ জুলাই ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের সদ্য চাকরিচ্যুত সাবেক তিন কর্মচারী। আদালত ৮ অক্টোবর তাদের হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। অপর দুই জন হলেন— প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজনীন সুলতানা ও উপ-মহাব্যবস্থাপক খন্দকার আবু আবেদীন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মামলার বাদীরা গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সে স্থায়ী পদে এমআইএস অফিসার (কম্পিউটার অপারেটর) হিসেবে কাজে যোগদান করেন। শ্রমিক হিসেবে নিজেদের সংগঠিত হওয়া ও নিজেদের কল্যাণের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের বিষয়ে সিদ্বান্ত গ্রহণ করেন। সে অনুযায়ী নিজেরা অন্যান্য শ্রমিক সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ‘গ্রামীণ কমিউনিকেশন্স শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন’ (প্রস্তাবিত) নামে একটি ইউনিয়ন গঠন করেন এবং তা আইন অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেন। ২০১৯ সালের ১৬ এপ্রিল ট্রেড ইউনিয়নটি রেজিস্ট্রেশনের জন্য মহাপরিচালক ও রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়নে আবেদন করেন। ৯ জুন তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।

এ ঘটনার পরে আসামিদের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার বেআইনিভাবে বাদীদের প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কাজ থেকে বিরত রাখেন এবং কোনো কারণ ছাড়াই তাদের চাকরি থেকে টার্মিনেট করেন। বিষয়টি তারা লিখিতভাবে শ্রম অধিদফতরের মহাপরিচালকে অবগত করেন। পরবর্তীতে কাজের বিষয়ে বহুবার যোগাযোগ ও অনুনয়-বিনয় করলেও তাদের (বাদীদের) প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে দেয়া হয়নি। শুধুমাত্র ইউনিয়ন গঠন করার কারণে আসামিরা তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান করে কাজ থেকে বিরত রাখেন এবং বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করেন।

সারাদেশে আইটি সেবা দেয় গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের কর্মীরা। সারাদেশে ২৫৬টি তথ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র এ আইটি সেবা দিয়ে থাকে। গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সে ১ হাজার কর্মী রয়েছেন।

গত ১৬ এপ্রিল প্রায় ৫৫০ জন কর্মী সংগঠিত হয়ে ঢাকার শ্রম অধিদফতরের ট্রেড ইউনিয়নের শাখায়, ‘গ্রামীণ কমিউনিকেশন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন’ (প্রস্তাবিত)-এর আবেদন জমা দেন।

এমআই/এসবি

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও