‘ধর্ষকের’ সঙ্গে থানায় বিয়ে: প্রশাসন কী করে, নজর রাখছে হাইকোর্ট

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

‘ধর্ষকের’ সঙ্গে থানায় বিয়ে: প্রশাসন কী করে, নজর রাখছে হাইকোর্ট

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৪:০৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

‘ধর্ষকের’ সঙ্গে থানায় বিয়ে: প্রশাসন কী করে, নজর রাখছে হাইকোর্ট

পাবনায় ‘গণধর্ষণের শিকার’ গৃহবধূর মামলা না নিয়ে থানা চত্বরে ‘ধর্ষকের’ সঙ্গে ওই গৃহবধূর বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকে নজর রাখছেন হাইকোর্ট।

আলোচিত ওই ঘটনা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে এনে সদর থানার ওসির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে স্বপ্রণোদিত আদেশ চান সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী।

আদালতে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ তুলে ধরেন আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন গাজী ফরহাদ রেজা ও রোহানী সিদ্দিকা।

পরে ফয়সাল সাংবাদিকদের বলেন, পাবনার বিষয়টি নিয়ে পত্রিকার প্রকাশিত নিউজ কোর্টের নজরে এনেছিলাম।

তখন আদালত বললেন, এ বিষয়ে তো ইতোমধ্যে প্রশাসন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ওসিকে শোকজ করা হয়েছে। এটা নিয়ে আপনারা আবার কেন আসছেন?

জবাবে ফয়সাল আদালতকে বলেন, ওসিকে শোকজ করা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু আজকের পত্রিকায় এসেছে, বিয়ের কাজী, যিনি বিয়েটা পড়াতে অসম্মতি জানিয়েছিলেন, সেই কাজী এবং ভিকটিমের পরিবারকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন ওসির লোকজন। ওই ওসি যদি সেই থানায় দায়িত্বে বহাল থাকে তাহলে তদন্তটি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে, তদন্ত ভিন্ন দিকে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

এসময় আদালত বললেন, যেহেতু এটা প্রশাসনিক বিষয় এবং কর্তৃপক্ষ অ্যাকশন নিচ্ছে, দেখেন প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়। যদি প্রশাসনের ব্যবস্থা সন্তোষজনক না হয়, তখন আপনারা আসলে আমরা বিষয়টি দেখবো। আমরাও মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টা নজরে রাখছি।

মামলা না নিয়ে ‘ধর্ষণের শিকার’ গৃহবধূর সঙ্গে থানা চত্বরে ‘ধর্ষণকারীর’ বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর সোমবার পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে এ ঘটনায় মামলা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে; গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।

গত শুক্রবার রাতে পাবনা সদর থানায় জোর করে এ দুজনের বিয়ে দেওয়া হয় বলে ওই গৃহবধূর অভিযোগ।

আর যার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, রিমান্ডের ভয় দেখিয়ে পুলিশ তাদের বিয়ে দিয়েছে।

তিন সন্তানের জননী ওই গৃহবধূর অভিযোগ, প্রতিবেশী রাসেল আহমেদ গত ২৯ আগস্ট তাকে তার বাড়িতে নিয়ে এক সহযোগীসহ পালা করে ধর্ষণ করে। দুদিন পর তাকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে নিয়ে তিন দিন আটকে রাখা হয় এবং সেখানে আরও ৪/৫ জন তাকে পালা করে ধর্ষণ করে।

ওই গৃহবধূ বাড়ি ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানালে ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেই গৃহবধূর নিজেই বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ রাসেলের সঙ্গে তার বিয়ের ব্যবস্থা করে বলে ওই গৃহবধূর অভিযোগ।

ওএস/এসবি

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও